প্রসূতির মৃত্যু

বরিশাল মেডিক্যালে ইন্টার্নদের কর্মবিরতি

প্রকাশ : ২৪ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

বরিশাল প্রতিনিধি

বরিশাল শেরই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিন দফা দাবিতে কর্মবিরতিতে নেমেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগ এক প্রসূতির মৃত্যুর পর স্বজনদের ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে এ কর্মবিরতিতে যান তারা।

ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রাজু আহম্মেদ বলেন, সারাদেশে চিকিৎসকদের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেই চলছে। এর প্রতিবাদে ও প্রতিরোধে জন্য তিন দফা দাবিতে তারা কর্মবিরতি পালন করছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে খাদিজা আক্তার (২৩) নামের এক অন্তঃসত্ত্বা ও তার গর্ভের সন্তানের মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগ তুলে ভাঙচুর করেন স্বজনরা। এর পর রাত ১২টা থেকে তারা কর্মবিরতি শুরু করেন।

রাজু বলেন, ‘চিকিৎসকদের কোনো অবহেলা ছিল না। খাদিজা ও তার গর্ভের সন্তান একলামেশিয়া রোগে আক্রান্ত ছিলেন।’

তবে কনস্টেবল শাকিল সাংবাদিকদের বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে খাদিজাকে ভর্তি করা হয়েছিল। অবস্থা ধীরে ধীরে অবনতির দিকে গেলেও চিকিৎসকরা খেয়াল নেননি। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিতে বলা হয়। কিন্তু আমরা অপারেশন থিয়েটারে গিয়ে কোনো চিকিৎসককে পাইনি। সেখানে কর্তব্যরত নার্সরা লুডু খেলছিলেন। তাদের ঘটনা জানালে তারা চিকিৎসকের কাছে যেতে বলেন। আমরা তৃতীয় তলায় গাইনি ওয়ার্ডে গেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা বলেন, তারা সিনিয়র চিকিৎসক ছাড়া অপারেশন থিয়েটারে যেতে পারবেন না। সিনিয়র চিকিৎসককে শাকিল কোথায় খুঁজে পাবেন এ নিয়ে কথাকাটাকাটি থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব বাধে।’

তিন দফা দাবি : রাজু আহম্মেদ সাংবাদিকদের বলেন, হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাসপাতালে সার্বক্ষণিক পুলিশের ব্যবস্থা করতে হবে এবং দেশের কোথায়ও চিকিৎসকদের ওপর হামলা হলে শাস্তির বিধান রেখে আইন পাস করতে হবে। চিকিৎসকরা অপরাধী হলে বিএমডিসি প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে।

এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. আবদুল কাদির বলেন, ইন্টার্নদের কর্মবিরতির কারণে চিকিৎসকরা দায়িত্ব পালন করছেন। আর শুক্রবার হওয়ায় রোগীর চাপ একটু কম। স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রয়েছে। কর্মবিরতিতে থাকা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানেরও চেষ্টা চলছে।

"