সেন্টমার্টিনে ১০৬টি অবৈধ হোটেল, ৩টি বন্ধের নির্দেশ

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

কক্সবাজার প্রতিনিধি

দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের পুরো এলাকাটি প্রতিবেশ সংকটাপন্ন। প্রতিবেশ সংকটাপন্ন (ইসিএ) এই দ্বীপে যেকোনো ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ করতে হলে পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক। তাছাড়া হোটেলগুলো উচ্ছেদের জন্য উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও রয়েছে। এসব কিছুর মধ্যেও অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে ১০৬টি হোটেল মোটেল কটেজ। গতকাল মঙ্গলবার বৈধ কোনো কাগজপত্র না থাকায় এ দ্বীপে অবৈধভাবে নির্মিত সবচেয়ে বড় মাপের হোটেল ব্লু মেরিনসহ তিনটি হোটেলের সব কার্যক্রম বন্ধসহ পর্যটক থাকার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কউকের একটি দল সরেজমিন সেন্ট মার্টিন গিয়ে এই নিষেধাজ্ঞা দেয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কউক চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমেদ। সঙ্গে ছিলেন পরিবেশ অধিদফতর কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক সাইফুল আশ্রাব, কউক সদস্য (প্রকৌশল) লে. কর্নেল মো. আনোয়ারুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী ফজলুল করিম, টেকনাফ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় চাকমা প্রমুখ। হোটেল তিনটি হলো ব্লু-মেরিন রিসোর্ট লি., লাভিবা রিসোর্ট ও বরোমখানা রিসোর্ট।

অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে কউক চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমেদ বলেন, অভিযানের প্রথম দিন তিনটি হোটেলের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। এ সময় হোটেল কর্তৃপক্ষ হোটেল নির্মাণের বিপরীতে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। পরিবেশ ছাড়পত্র এবং কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই হোটেলগুলো তৈরি হয়েছে। হোটেলগুলোতে এখন পর্যটকে ভরপুর। তাই আগামী বৃহস্পতিবার থেকে হোটেলগুলোতে কোনো পর্যটক না রাখার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগে হোটেল কর্তৃপক্ষ যদি বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারে, সে ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা বিবেচনা করা হবে।

কউক চেয়ারম্যান বলেন, সেন্টমার্টিনে দৈনিক কয়েক হাজার পর্যটক ভ্রমণে আসছেন। থাকছেন দ্বীপের ১০৬টি হোটেল মোটেল ও কটেজে। বিপুলসংখ্যক পর্যটক সৈকত ঘুরে বেড়ালেও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের কেউ নেই। হোটেলের বর্জ্যও সরাসরি সমুদ্রের পানিতে যাচ্ছে। এতে দূষিত হচ্ছে নীল রঙের স্বচ্ছ পানি। দ্বীপের অন্য হোটেলগুলোতেও অভিযান চালানো হবে।

ব্লু-মেরিন ও লাভিবা রিসোর্টের কর্মচারীরা জানান, ৩১ মার্চ পর্যন্ত হোটেলে কোনো কক্ষ খালি নেই। অগ্রিম টাকা দিয়ে লোকজন হোটেল কক্ষগুলো বুকিং দিয়েছেন। এখন নিষেধাজ্ঞার কারণে অগ্রিম বুকিং দেওয়া লোকজন বেকায়দায় পড়বেন। প্রতিটি হোটেলের কক্ষ ভাড়া আদায় হয়েছে আড়াই হাজার থেকে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত, যা কক্সবাজার শহরের তারকা হোটেলের সমান। পরিবেশ অধিদফতর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাইফুল আশ্রাব বলেন, ‘সেন্টমার্টিনের হোটেল মোটেল কটেজ রয়েছে ১০৬টি। এর কোনোটিতে পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র নেই। প্রতিবেশ সংকটাপন্ন (ইসিএ) এই দ্বীপে যেকোনো ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ করতে হলে পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক। তাছাড়া হোটেলগুলো উচ্ছেদের জন্য উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও রয়েছে।’

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের জানুয়ারি ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটি (ইয়েস) নামে কক্সবাজারের স্থানীয় একটি পরিবেশবাদী সংগঠন সেন্টমার্টিনের হোটল-রিসোর্টের ওপর একটি জরিপ করে। সে জরিপে নির্মাণাধীনসহ ১০৬টি হোটেল-রিসোর্টের বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করা হয়। সংগঠনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান বলেন, সেন্টমার্টিনে ১০৬টি আবাসিক হোটেল অবৈধভাবে কার্যক্রম চালালেও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ মাত্র তিনটি হোটেলের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, এতে করে বাকি অবৈধ হোটেলগুলো তাদের কার্যক্রম চালাতে আরো বেশি উৎসাহী হবে।

 

"