মোবারকগঞ্জ সুগার মিলে যান্ত্রিক ত্রুটি

কোটি কোটি টাকা লোকসানের আশঙ্কা

প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে মোবারকগঞ্জ সুগার মিলে চলতি মাড়াই মৌসুমে একের পর এক যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আখচাষিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। উদ্বোধনের পর থেকে মিলটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বেশির ভাগ সময় বন্ধ থাকছে। এতে আখচাষিদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। মিলের যান্তিক ত্রুটির জন্য কৃষক ও শ্রমিকরা কারখানার জিএম মাহমুদুল হককে দায়ী করছেন। শ্রমিক ও আখচাষিদের দাবি, কারখানার জিএম মাহমুদুল হকের গাফিলতি ও টারবাইনে অদক্ষ কর্মী থাকায় বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। তাদের ভাষ্য, মাড়াই মৌসুমের আগে মেরামতের জন্য বরাদ্দ প্রায় কোটি টাকা নয়ছয় হয়েছে।

মিল কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ১ ডিসেম্বর মিলের মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের কয়েক ঘণ্টা পর মিল বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ গত রোববার থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত টানা দুই দিন কারখানা বন্ধের কারণে মিলগেটে কৃষকদের আনা আখের ওজন বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে মিলগেটে শত শত কৃষক তাদের আখ নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। বিকেলে কৃষকরা তাদের আখ ওজনের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় চাপের মুখে মিল কর্তৃপক্ষ তাদের আখ ওজন ক্রয় করতে বাধ্য হয়। সুগার মিল সূত্র জানায়, চলতি আখ মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধনের এক দিন পর ২ ডিসেম্বর শনিবার বিকেল ৪টা থেকে মিলহাউস টারবাইনে সমস্যা দেখা দেয়। ফলে একটানা প্রায় ৪০ ঘণ্টা বন্ধ থাকে। মেরামত করে আবার আখ মাড়াই শুরু করলেও থেমে থেমে চলতে থাকে আখ মাড়াই। শরিফুল ইসলাম নামে এক আখচাষি বলেন, ‘আখ কেটে রোদে ফেলে রাখলে শুকিয়ে যায়। মিল বন্ধ রাখলে তো সমস্যা আরো বেশি হয়। এতে আমাদের অনেক লোকসান হচ্ছে। প্রতিবছরই এমন ঘটনা ঘটে। এ রকম চলতে থাকলে আর আখচাষ করব না।’ মোবারকগঞ্জ সুগার মিল শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির হোসেন বলেন, কারখানা জিএম মাহমুদুল হকের গাফিলতির কারণে প্রায়ই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এতে আখচাষিদের প্রচুর লোকসান হচ্ছে। মোবারকগঞ্জ সুগার মিলের কারখানা ব্যবস্থাপক মাহমুদুল হক জানান, টারবাইনে সমস্যার কারণে আখ মাড়াই বন্ধ ছিল। মোবারকগঞ্জ সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন জানান, মিলহাউসের ৩নং টারবাইনে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উদ্বোধনের পর থেকেই এ সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তিনি আরো বলেন, কারখানায় যান্ত্রিক সমস্যা হলে কিছুই করার নেই। মিলটি এখন চলছে বলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক দাবি করেন।

"