স্বাধীনতার ঘোষণা ও রক্তরাঙা হাত

প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

মোস্তাফা জব্বার

সাম্প্রতিককালে জিয়া-খালেদার ছেলে তারেক রহমান লন্ডনে বসে বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে নির্জলা মিথ্যাচার ও কুৎসা রটনার পাশাপাশি জিয়াকে অতি মহত্ত্ব দানের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তারেক জিয়াকে দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতিও ঘোষণা করেছেন। বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের নাগরিক বলা থেকে শুরু করে কুৎসিত অপপ্রচারের জন্য তারেক এখন দেশের সবচেয়ে ধিকৃত মানুষ। তবে সাধারণভাবে এখনো দেশের মানুষের একটি ধারণা আছে যে, ‘মরহুম জিয়াউর রহমান সাহেব বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক’। ৭৫-এর পরের যতবারই তার অনুসারীরা ক্ষমতায় ছিল, ততবারই এই অপসত্যটি প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রবল প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়েছে। কপাল ভালো, এবার অনেকদিন তারা ক্ষমতায় নেই। সম্ভবত এজন্যই ধীরে ধীরে থলের বেড়াল উঁকি দিচ্ছে। জিয়া তার দল ও তার ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সম্পর্ক থাকা, তহবিল প্রাপ্তি এবং জঙ্গিবাদের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা এখন দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। ফলে দিনে দিনে সম্ভবত আমাদের যেসব সন্তান একাত্তরের পরে জন্ম নিয়েছে এবং জন্মের পর থেকেই মরহুম জিয়াউর রহমানকে ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ হিসেবে শুনে আসছে, তারা কিছু সত্য তথ্য নিজেদের সামনে দেখতে পেয়েছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা সম্পর্কেও প্রামাণ্য তথ্য এখন প্রকাশিত হচ্ছে। ২৬ মার্চ ২০১২ তারিখের দৈনিক প্রথম আলোতে মানিক সাহেবের একটি লেখাতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওয়্যারলেস বার্তা পাঠানোর বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করা হয়েছে। এতে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, বঙ্গবন্ধু ২৫ মার্চ রাতে গ্রেফতার হওয়ার আগে স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওয়্যারলেস বার্তা পাঠিয়েছিলেন। পাকিস্তানের হানাদারদের দোসর মেজর সালেকের বইতেও তার গ্রেফতারের বিবরণ দেওয়ার সময় বঙ্গবন্ধু ওয়্যারলেস বার্তা পাঠাচ্ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এটি স্মরণ করা উচিত যে, পঁচাত্তরের পনেরোই আগস্ট পর্যন্ত এ দেশে কেউ এই প্রশ্ন তুলেনি, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের নায়ক কে বা স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা কে করেছেন। তখনও দেশে জিয়া ছিলেন, জিয়ার পরিবার ছিল, মুক্তিযুদ্ধবিরোধীরা ছিল এবং ছিল জিয়ার সমর্থকরা। কিন্তু পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর প্রথম প্রশ্ন ওঠেÑ জিয়া স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। অথচ এর আগে জিয়া কোনো দিন নিজেও সেই দাবি করেননি। সেই থেকে এখনো জিয়া স্বাধীনতার ঘোষক এ ধারণা দেশের মানুষের কাছে বিশেষত নতুন প্রজন্মের মানুষদের কাছে তুলে ধরার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। জিয়া দেশে ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন’ এবং জিয়া ‘স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছেন’Ñ এমন ধারণা দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়ে আসছে। পঁচাত্তরের পরে জিয়ার ক্ষমতার ভিতকে এভাবেই শক্তিশালী করা হয়েছে। যেহেতু জিয়ার একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফরম আছে; সেহেতু যারা যেভাবেই যত কথাই বলুক না কেন, জিয়ার সেই প্ল্যাটফরম থেকে জিয়াকে মহিমান্বিত করার চেষ্টা থাকবেই। এই কাজটি এজন্য করা হবে যে, এখন যারা জিয়ার প্ল্যাটফরমে দাঁড়িয়ে আছেন, তাদের রাজনীতির প্রধান ভিত্তি হচ্ছে জিয়ার ইমেজ। বাংলাদেশের স্বাধীনতার শুরুতে জিয়ার কণ্ঠ এই জাতি অনেকবার শুনেছে বলে, জিয়া মুক্তিযোদ্ধা ছিল বলে, তার যে ভালো ইমেজটা দৃশ্যমান আছে এবং জিয়া ক্ষমতাসীন থাকাকালে আততায়ীর গুলিতে অকালমৃত্যুতে ঢলে পড়েন; সেই সবই হচ্ছে এই প্ল্যাটফরমের বাসিন্দাদের রাজনীতির পুঁজি। খুব সংগত কারণেই জিয়ার সঙ্গে তারাই যোগ দিয়েছেন যারা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী এবং অখন্ড পাকিস্তানের সমর্থক। রাজনীতিতে জিয়াকে সামনে আনার কারণ হলো; অন্য কাউকে সামনে এনে মুক্তিযুদ্ধ করেছেÑ এমন একটি দেশে সাধারণ মানুষের সমর্থন পাওয়া যাবে না। তবে জিয়ার সমর্থকরা এটি মনে করেন যে, অন্য সব ইমেজের চাইতে একটি বড় ইমেজ হলো, জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। এ জন্য তারা সবভাবেই জিয়ার ঘোষক ইমেজটাকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। আমরা জিয়ার ঘোষণাটির দিকে তাকালে পুরো সত্যটা উপলব্ধি করতে পারব।

জিয়া একাত্তরের ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় প্রথমে স্বাধীনতার ঘোষণা বাক্য পাঠ করেন। এরপর তিনি ২৮ মার্চ সন্ধ্যায় আবার একটি পরিবর্তিত ঘোষণা পাঠ করেন। তিনি সর্বশেষ ঘোষণা পাঠ করেন ৩০ মার্চ সন্ধ্যায়। তার তিনটি ঘোষণাই আলাদা আলাদা। এর একটিও ২৬ মার্চের নয়। কোনোটিতে তিনি দেশের প্রধান, কোনোটিতে স্বঘোষিত কমান্ডার আবার কোনোটিতে তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। এমনকি এক ঘোষণায় তিনি স্পষ্টভাবেই বঙ্গবন্ধুকে এই জাতির এক মহান নেতা হিসেবেও ঘোষণা করেন। (দৈনিক প্রথম আলো, ২৬ মার্চ ২০১২)। তিনি নিজে কালুরঘাট বেতারে ঘোষণা করেছেন, ও Major Zia, provisional commander in chief of Bangladesh Liberation Army hereby proclaims, on behalf of Shaikh Mujibur Rahman, the independence of Bangladesh. (দৈনিক প্রথম আলো-২৬ মার্চ ২০১১-পৃষ্ঠা ১১)

(বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনীর অস্থায়ী কমান্ডার, আমি মেজর জিয়া, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি।) তবে এটি বোঝা উচিত যে, জিয়া ‘শেখ মুজিবুর রহমানের’ পক্ষে নিজেকে ‘বাংলাদেশ লিবারেশন আর্মির’ স্বঘোষিত ‘অস্থায়ী কমান্ডার’ হিসেবে প্রথম ঘোষণা প্রদান করেন। খুব সংগত কারণেই তখনই প্রশ্ন ওঠে যে, কোনো ক্ষমতাবলে জিয়া একটি ঘোষণা পাঠ করেছিলেন এবং নিজেকে ‘অস্থায়ী কমান্ডার’ ঘোষণা করেছিলেন। ফলে তাকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ঘোষণা প্রদান করতে হয়। তার ঘোষণা পাঠ নিয়ে শুধু এই প্রশ্ন নয় যে, স্বাধীনতা ঘোষণা করার কোনো অধিকার, ক্ষমতা বা যোগ্যতা তার ছিল কি না, প্রশ্ন ছিল তার ঘোষণা পাঠের সারবত্তা নিয়েও। বরং মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তার সেই তথাকথিত লিবারেশন আর্মির কোনো হদিস থাকেনি। তিনিও মুক্তিযুদ্ধের ১১ জন সেক্টর কমান্ডারের একজনের বেশি হতে পারেননি। ৭ নভেম্বর ৭৫ কর্নেল তাহের তার জীবন বাঁচিয়ে তাকে দেশের ক্ষমতায় না বসালে আর ১০ জন সেক্টর কমান্ডারের বাইরে জিয়াকে কেউ খোঁজতে যেত না। শুধু তাই নয়, ইতিহাসের পাতায় এটি উজ্জ্বল হয়ে আছে যে, জিয়ার এই ঘোষণা প্রথম ২৭ মার্চ ১৯৭১-এর সন্ধ্যায় প্রচারিত হয়। এটি জিয়ার সমর্থকরাও স্বীকার করে। যদি সেটি হয়েই থাকে, তবে জিয়া নিজে সংবিধান সংশোধন করেছেন, বেগম জিয়া সংবিধান সংশোধন করেছেন। কেন সংবিধানে থাকা স্বাধীনতা ঘোষণার দিনটি বদলাননি? সেটিকে ২৬ মার্চ না করে ২৭ মার্চ করে দিলে তাদের দাবির সাংবিধানিক ভিত তৈরি হতে পারত। একটি জাতি স্বাধীনতা দিবস পালন করে ২৬ মার্চ আর কেউ একজন সেই স্বাধীনতা ঘোষণা করল ২৭ মার্চ; এটি দুনিয়াতে নজির নেই। জিয়ার সমর্থকরা জানে যে, মিথ্যাকে টিকিয়ে রাখা যাবে না, এজন্য তারা সংবিধান সংশোধন করার ক্ষমতা পাওয়ার পরও স্বাধীনতার ঘোষণার দিনটি বদলায়নি। সত্য হলো, ২৬ মার্চে দেওয়া জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের ঘোষণার তারবার্তার কপি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক নথিপত্র এবং পাকিস্তানিদের দেওয়া তথ্য থেকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বঙ্গবন্ধু যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক; সেটি প্রমাণিত হয়েছে। এই সত্যটির পাশাপাশি এটিও মনে রাখা দরকার যে, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস এবং তার ঘোষণা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দিয়েছেন, এটির বাইরে কোনো কথা বলার আইনসংগত কোনো অধিকার কারো নেই। জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক বলা হলে দন্ডবিধিতে সেটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তার পরও জিয়ার অন্ধ অনুসারীরা বাংলাদেশের দন্ডবিধির ১২৩ক ধারা লঙ্ঘন করে জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে আসছে। জিয়াভক্ত মওদুদ তো এমন কথাও বলেছেন যে, তারা ক্ষমতায় গেলে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণাকে বদলাবেন। কামনা করি, কেউ একজন এই আইনের ধারায় একটি মামলা করবে এবং জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক বলার জন্য যথাযথ আইনানুগ শাস্তি পাবে। আমরা এটিও কামনা করি যে, জিয়ার ভক্তরা রাজনীতির মিথ্যাচারের সঙ্গে দেশের স্বাধীনতাকে সম্পৃক্ত রাখবেন না। জিয়াকে সামনে নিয়ে রাজনীতি করার নামে জাতির ইতিহাসকে বিকৃত করবেন না।

তাহেরের খুনি : ২০১১ সালের মার্চ মাসের ২২ তারিখে আরো একটি ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন উচ্চ আদালত। তাতে জিয়াকে বীর শহীদ কর্নেল তাহেরের ঠান্ডা মাথার খুনি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। জিয়ার ভক্তরা এটিকেও মিথ্যা বলে প্রচারণা চালাচ্ছিল। ওই বছর জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনু সংসদে এ রায় পাঠ করায় প্রথম অবাক কান্ডটি করেছিলেন স্পিকার নিজে। তিনি ‘খুনি’ শব্দটি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করেছিলেন। ইনুর বক্তব্যের ‘খুনি’ অসংসদীয় শব্দ নয়, কারণ খুনি শব্দটি আদালতের রায়ের অংশ হিসেবে ইনু তার বক্তৃতায় উল্লেখ করেছিলেন। আদালত জিয়াকে খুনি বললে সংসদে কেন তাকে খুনি বলা যাবে না, আমি সেটি বুঝি না। এটি তো ইনুর কথা ছিল না। খুনি শব্দটি খারাপ বলেই এটি আদালতের রায় হিসেবেও সংসদে বলা যাবে না, সেটি কোনো সাধারণ জ্ঞানেও পড়ে না। যাহোক আমরা লক্ষ করেছিলাম, জিয়ার ভক্তরা স্পিকার কর্তৃক ‘খুনি’ শব্দটি এক্সপাঞ্জ করার পরও আদালতের রায়কে অবমাননা করে ওয়াকআউট করেছিল। বিএনপি নেতা ফারুক সংসদে চরম মিথ্যাচার করে তার বিশাল দলের দম্ভোক্তিও করেছিলেন। বিদেশি সাংবাদিক লিফটসুজকে গালাগালি দিয়ে তিনি ও তার দলের মানুষরা জিয়া ও তার পরিবারের ইমেজ নষ্ট করার জন্য আদালতকেও অভিযুক্ত করেছিলেন। অথচ জিয়াকে নিয়ে আদালতের পক্ষ থেকে যেসব কথা বলা হয়েছিল, তার কোনোটিই মিথ্যাচার নয় বা প্রমাণ ছাড়া বলা হয়নি। লিফটসুজ জিয়ার জীবদ্দশাতেই তাকে খুনি বলতেন। দেশের আদালত আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন নয়। তারা বিজ্ঞজনের মতামত নিয়েই রায় দিয়েছেন। জিয়ার ভক্তরা এটি সত্য জানত বলেই আদালতে বিরোধিতা করেননি। রায়টির বিষয়ে সুযোগ ছিল আপিল করার। কিন্তু সেটি তারা গত কয়েক বছরেও করেনি। কারণ তারা জানেন, সামরিক আইন অবৈধ ঘোষণার পর সেই আইনের আওতায় করা বিচার অবৈধ হবেই। এই সরল সত্যটি কোনো সাধারণ মানুষকেও বলে দিতে হয় না। জিয়ার হাত এতই রক্তাক্ত যে, আদালত দেখেছেন, জিয়াকে ২১ জুলাই শহীদ তাহেরকে ফাঁসি দেওয়ার পর সামরিক আইনে মৃত্যুদন্ড যুক্ত হয়েছে ৩১ জুলাই। এর চাইতে অন্যায় আর কী হতে পারে। তাহের কেবল যে মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন তা নয়, তিনি মুক্তিযুদ্ধে একটি পা হারিয়েছিলেন। এমন একজন পঙ্গু মানুষকে ফাঁসি দেওয়া যায় না। এর চাইতে নির্মমতা ইতিহাসের পাতায় আর কী হতে পরে। জিয়া যে তাহেরকে ফাঁসি দেবেন, তার উল্লেখ তো জিয়াভক্ত মওদুদের বইতেও আছে। এমনকি জিয়া যে তাহের ছাড়াও শত শত মুক্তিযোদ্ধাকে খুন করেছেন, সেটিও নতুন কোনো তথ্য নয়। যারা জিয়ার পক্ষে মিথ্যাচার করছেন, সেটি স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে হোক আর তাহেরের খুন নিয়েই হোক, আমি এটি দৃঢ়তার সঙ্গে মনে করি যে, বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম সেই মিথ্যার ঊর্ধ্বে উঠবেই। ইতিহাস বলে, কিছু লোককে কিছু সময়ের জন্য বিভ্রান্ত করা যায়, কিন্তু সব লোককে সব সময়ের জন্য মিথ্যার আড়ালে রাখা যায় না। কোনো এক সময়ে এ দেশের মানুষ জিয়ার পুরো চেহারাটা দেখবে এবং ইতিহাসের সত্যতা জানবে। আদালত যে কথা বলছে যে, জিয়া বঙ্গবন্ধুর হত্যার পেছনেও ছিল, এক দিন হয়তো সেটিও প্রমাণিত হবে। কোনো না কোনো উইকিলিকস সেই তথ্য উদ্ঘাটন করবেই।

আমরা যখন আমাদের স্বাধীনতা ঘোষণার প্রায় সাড়ে চার দশক পার করছি; তখন পেছনে তাকিয়ে আমরা প্রথম ৪০ বছরের হিসেবে অনেক ক্ষেত্রেই অনেক অর্জন দেখলেও খুব বড় সফলতার ইতিহাস দেখি না। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আমাদের আশাপ্রদ সফলতা না পাওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলো, ৭৫-এর পর থেকে ৯১ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে সামরিক শাসন বহাল থাকা। জিয়া-এরশাদগং পাকিস্তানের ধারাবাহিকতাটিকে একানব্বই পর্যন্ত টেনে রেখেছিল। তবে আমি মনে করি, কেবল সামরিক শাসন নয়, এরপরও জিয়ার অনুসারীরা দেশটিকে পাকিস্তানের দিকেই ধাবিত করার জন্যই আমরা সামনে যেতে পারছিলাম না। তারা এমনকি ২০১৩-১৫ সালেও সেই অপপ্রয়াস অব্যাহত রেখেছে।

তবু যদি আমরা বিগত ১০ বছরে আমাদের অগ্রগতির দিকে তাকাই, তবে দেখব কেবল পাকিস্তান নয়, আমরা ভারতকে ছাপিয়ে গেছি অনেক ক্ষেত্রে।

 

"