ইত্যাদির আকবর

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০

এস আর শানু খান

মানুষের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করতে ইত্যাদির জুড়ি নেই। বছরের পর বছর দেশের অলিগলিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অগণিত প্রতিভাবানকে সামনে নিয়ে আসছেন এই ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানটি। ১৯৯০ সালের পর থেকে ইত্যাদি বাংলাদেশের একটা জনপ্রিয় টেলিভিশন ম্যাগাজিন হিসেবে প্রচারিত হয়ে আসছে। যেটার নির্মাতা ও উপস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী হানিফ সংকেত। সময়টা ছিল ২০০৩ সাল। যশোর শহরের অলিগলিতে রিকশা চালাতেন আকবর। জন্ম খুলনার পাইকগাছায় হলেও আকবের বেড়ে উঠা যশোরে। রিকশা চালাতেন আর গান গেয়ে বেড়াতেন। অসাধারণ কণ্ঠের জন্য সারা শহরে আকবরের একটা অন্যরকম কদর ছিল। সরকারি এমএম কলেজে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বহিরাগত শিল্পী হিসেবে গান গাওয়ার সুযোগ মেলে আকবরের। এই অনুষ্ঠানে আকবরের গান শুনে মুগ্ধ হয়েছিলেন বাগেরহাটের এক ভদ্রলোক। বাগেরহাটের এই ভদ্রলোক আকবরের এই অসাধারণ সুরের গুণগান করেই চিঠি লিখেছিলেন জনপ্রিয় ইত্যাদি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে। চিঠিতে উল্লিখিত ঠিকানা অনুযায়ী ইত্যাদি টিম এসে যোগাযোগ করেন রিকশাচালক আকবরের সঙ্গে। আকবরের ভাগ্য চাকার ঘূর্ণন বেগমান হতে থাকে। ইত্যাদি অনুষ্ঠানে উপমহাদেশের অমর শিল্পী কিশোর কুমারের ‘একদিন পাখি উড়ে যাবে আকাশে, ফিরবে না সে তো আর কারো আকাশে’। ইত্যাদিতে একটা গান গেয়েই রাতারাতি পাল্টে যায় আকবরের জীবন। সে রাতে রিকশাচালক আকবরের মৃত্যু হয় আর জন্ম হয় বাংলাদেশের এক কিংবদন্তি শিল্পী আকবরের। আকবরের প্রথম অ্যালবাম ছিল ‘একদিন পাখি উড়ে’। যেটা বের করেছিলেন দেশের স্বনামধন্য মিউজিক কোম্পানি সংগীতা। এর পর ‘হাত পাখার বাতাসে’ অ্যালবামের কাজ করেন আকবর। ব্যাপক সাড়া জাগে আকবরের। নিমিষেই পেছনে পড়তে থাকেন সেই সময়কার সব সংগীতশিল্পী। এ ছাড়া ‘বেদনার মেঘ’ নামক অ্যালবামটিও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। আকবর রিয়েলিটি শো করতে চলে যান আমেরিকায়। তিন মাস কনসার্ট করেন। দেশে ফিরেও দেশের বিভিন্ন স্থানে সব নামিদামি স্থানে কনসার্ট করে বেড়ান। আকবরের সাদা-কালো জীবন রঙিন থেকে রঙিন হতে শুরু করে। কিন্তু সেই সুখ আর বেশি দিন সইল না আকবরের কপালে। ফাটল ধরে তার ক্যারিয়ারে। আকবরের মা মারা যান ২০০৮ সালের ২৪ অক্টোবর। মা মারা যাওয়ার পর ভেঙে পড়েন আকবর। মায়ের শোকে সংগীতজগৎ থেকে খানেকটা ছিটকে পড়েন তিনি। এরপর ২০১৬ সালের অক্টোবরে ইত্যাদির অনুষ্ঠান যশোরের কালেক্টরসংলগ্ন ডিসি অফিসের সামনে অনুষ্ঠিত হয়। এবং ইত্যাদি এই অনুষ্ঠানে যশোরের সেই খ্যাতনামা শিল্পী আকবরকে আমন্ত্রণ জানান। আকবর আসেন এই অনুষ্ঠানে। সংক্ষেপে তিনি তার জীবনী তুলে ধরেন। দর্শকদের মাঝে তার মনের কষ্ট প্রকাশ করেন। কৃতজ্ঞতা জানান ইত্যাদির প্রতি। এই অনুষ্ঠানে তিনি জানান, মায়ের মৃত্যুর কারণে তিনি এতকাল সংগীত থেকে সরে ছিলেন। এবং বেশ কিছুদিন তিনি নিজেও মারাত্মকভাবে অসুস্থ ছিলেন। যক্ষ্মা ও কিডনিজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল কলেজে বেশ কিছুদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। আকবর বলেন, ‘এই ইত্যাদিই আমাকে রিকশাচালক থেকে শিল্পী বানিয়েছে। সেই ইত্যাদিই আবার এত বছর পর আমার খোঁজ নিয়েছেন। আমাকে আবার আপনাদের সামনে হাজির করেছেন। আমি আবারও আপনাদের সামনে নতুন নতুন গান নিয়ে হাজির হব, ইনশাল্লাহ।’ আরো বলেন, বেশ কয়েকটি গানের কাজও চলছে। আকবর বলেন, ‘আমাকে শুধু আকবর বললে কেউই চিনে না। ইত্যাদির আকবর বললেই মানুষ সহজে চিনতে পারে।

"