নারীর সাজে শাড়ি

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০

জীবনযাপন ডেস্ক

বাঙালি নারীর চিরন্তন সৌন্দর্যের পোশাক শাড়ি। এই পোশাকটির সঙ্গে বাঙালিয়ানার রয়েছে প্রবল ঐতিহ্যের টান। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সাধারণত শাড়িকে সবচেয়ে উপযোগী পোশাক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একসময় নারীরা শাড়ি বলতেই বুঝতেন ভারতীয় শাড়িকে। কিন্তু এখন নারীদের দেশীয় শাড়ির সৌন্দর্যই বেশি টানে। তাই তাঁত, জামদানি, কাতান, সিল্ক, হাফসিল্ক ও বেনারসি শাড়ির সঙ্গে নারীর সম্পর্ক নিবিড়ভাবে জড়িয়ে রয়েছে। আমাদের দেশে মেয়েরা একটু বুঝতে শেখার সঙ্গে সঙ্গেই শাড়ির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। নানা রঙের শাড়িতে নিজেকে সাজিয়ে তুলতে ভালোবাসেন। এই শাড়ির রয়েছে নানা ধরন, নানা রং। চলুন জেনে নিই সে রকমই কিছু শাড়ি সম্পর্কে।

হালকা, আরামদায়ক ও সব বয়সের জন্য মানানসই জর্জেট শাড়ি পরার মজাটাই আলাদা। এগুলো এখনকার আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়েও যায় বেশ। কড়া রোদেও যেমন গরম লাগে না; তেমনি আবার বৃষ্টির পানি লাগলেও শুকিয়ে যায় বেশ তাড়াতাড়ি। জর্জেট, শিফন জর্জেটের শাড়িগুলোতে রয়েছে বৈচিত্র্যের ছোঁয়া।

ফুলেল নকশা, কলকা, লতাপাতা, জ্যামিতিক নকশা, একরঙার সঙ্গে চিকন লেস এখন বেশি দেখা যাচ্ছে। কর্মক্ষেত্রে পরার জন্য পোলকা ডট, জ্যামিতিক নকশা, বিমূর্ত নকশা বেছে নিতে পারেন। আবার একরঙা জর্জেট শাড়িতে কাপড় লাগিয়ে বৈচিত্র্য আনতে পারেন। প্রিন্ট ও একরঙা পাড়ের জর্জেট শাড়িগুলোই এখন সময়ের সঙ্গে মানানসই।

সিল্কে রয়েছে নানা রকমফের। কোটা সিল্ক, জুট সিল্ক, চন্দ্রমুখী সিল্ক, পার্বতী সিল্ক, সিল্ক শিফন, কাশ্মীর সিল্ক, সুপরা সিল্ক, বলাকা সিল্ক-সবই সিল্ক। হ্যান্ডপেইন্ট, কাটওয়ার্ক, কাঁথাস্টিক, ব্লক, মিরর, কারচুপি, বাটিক, ভেজিটেবল ডাই সবই খুঁজে পাওয়া যায় এই সিল্ক শাড়িতে। আর তাই নানা ধরনের সিল্ক যেমন বেছে নেওয়া যায় অফিসে পরার জন্য; তেমনি অনায়াসে পরা যায় কোনো পার্টিতেও। রয়েছে হালকা রং নকশার কিংবা গর্জিয়াস কাজেরও। হ্যান্ডপেইন্ট, স্প্রে, এমব্রয়ডারি, কাঁথাস্টিকসহ নানা ডিজাইনের সিল্ক, হাফসিল্কগুলো এখন নজর কাড়ছে সবার। এসব শাড়িতে বৈচিত্র্য আনতে এখন পাড়ে ব্যবহার করতে দেখা যায় কাতান, নেটের কাপড়, হাতের কাজসহ নানারকম সুকুইন।

তাঁত, টাঙ্গাইল, কোটাসহ নানারকম সুতি শাড়ি যেমন জনপ্রিয় তরুণীদের কাছে; তেমনি মধ্যবয়সীদের কাছেও। পরতে আরামদায়ক হওয়ায় এই শাড়ির প্রতি রয়েছে একটু বাড়তি মনোযোগ। বর্তমানে বিচিত্রময় বুননের সুতি শাড়িতে যোগ হয়েছে নানা কারুকাজ ও নকশা। মণিপুরি তাঁত, সিল্ক তাঁত, কোটা শাড়িতে এখন কারচুপি, চুমকি, অ্যাপ্লিক ব্যবহার করায় এগুলো এখন মেয়েদের কাছে বেশ আকর্ষণীয় ও গর্জিয়াস হয়ে উঠেছে। তাই অনায়াসে পরতে পারেন যেকোনো পার্টিতে।

সিল্ক, হাফসিল্ক শাড়িতে এখন বেশ দেখা যাচ্ছে গাঢ় রঙের ব্যবহার। জমিনে গাঢ় নীল, সরষে, সবুজ, মেরুন, লাল, ছাই-এ রংগুলোর জনপ্রিয়তা এখন বেশি। এ ধরনের শাড়ির সঙ্গে হালকা সাজই ভালো লাগবে। সঙ্গে অ্যান্টিক ধাঁচের বা রুপার গহনা বেশ নজর কাড়বে। রঙের ক্ষেত্রে সুতি শাড়িতে হালকা শেডগুলোই বেশি আকর্ষণীয়। সবুজ, হালকা সবুজ, লেমন, অফ হোয়াইট ইত্যাদি সুতি শাড়িতে বেশ ভালো লাগে। সুতি শাড়ির সঙ্গে কানে পরতে পারেন মানানসই কাঠ, মাটি বা পুঁতির দুল। অ্যান্টিক রুপা, তামা ও কাঁসার গহনাও চমৎকার লাগবে।

"