কালীগঞ্জে মাদরাসাছাত্রসহ দুই সহোদরকে অ্যাসিড নিক্ষেপ

প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

পূর্বশত্রুতার জেরে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে এক মাদরাসাছাত্রসহ দুই সহোদরকে এসিড নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার গভীর রাতে উপজেলার গোড়ল ইউনিয়নের চৌপতি মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধরা হলেন- আবুল কালামের ছেলে ফরহাদ হোসেন ও তার চাচাত ভাই জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে নূর হক।

নুর হক স্থানীয় গোড়ল দাখিল মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্র।

স্থানীয়রা জানান, ৭/৮ বছর আগে তাদের প্রতিবেশী গজর পাটোয়ারীর মেয়ে তানজিলা আক্তার অপহরণ মামলায় এজাহার নামীয় আসামি ফরহাদ হোসেন কিছুদিন হাজতবাস করেন। এরপর জামিনে মুক্ত হয়ে ঢাকার একটি কোম্পানিতে চাকরি নেন ফরহাদ। ওই মামলায় গতকাল আদালতে হাজিরা দেওয়ার জন্য গত শনিবার রাতে বাড়ি ফেরেন ফরহাদ। এরপর চাচাত ভাই নূর হকসহ ঘুমিয়ে পড়েন। হঠাৎ ভোর রাতে দুজন মুখোশধারী ব্যক্তি তাদের এসিড নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। এ সময় তাদের আর্তচিৎকারে বাড়ির লোকজনসহ স্থানীয়রা ছুটে এসে তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে কালীগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে গতকাল দুপুরে চিকিৎসকরা ফরহাদকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠান।

আহত ফরহাদের বাবা আবুল কালাম বলেন, মিথ্যা মামলা করে হয়রানি করে ব্যর্থ হয়ে গজর পাটোয়ারীর ছেলে সবুজ মিয়া ফরহাদকে মেরে ফেলতে এসিডে ঝলসে দিয়েছে। তিনি এর বিচার দাবি করেন। ফরহাদের বাবার সন্দেহের তীর গজর পাটোয়ারীর ছেলে সবুজের দিকেই ফেলে বলেন, এসিড নিক্ষেপ করে পালিয়ে যাওয়ার সময় তার ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলম নিজ চোখে তাকে দেখেছেন।

তবে অভিযুক্ত গজর পাটোয়ারী তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার ছেলে সবুজের চারিত্রিক কিছু সমস্যা থাকলেও এমন কাজ করতে পারে না।

কালীগঞ্জ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আহসান হাবীব বলেন, ফরহাদের মুখমন্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যাওয়ায় তাকে রংপুরে পাঠানো হয়েছে। অপরজনকে কালীগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

কালীগঞ্জ থানার ওসি মকবুল হোসেন জানান, এসিড নিক্ষেপের ঘটনাটি শুনে হাসপাতালে দগ্ধদের খোঁজ-খবর নেওয়া হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"