ফরিদপুরে জনপ্রিয় হচ্ছে ছাদে বাগান

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০

কে. এম. রুবেল, ফরিদপুর

বাড়ির ছাদে বিভিন্ন ধরনের ফলের গাছ। আছে নানা জাতের সবজি ও ফুল। এ যেন বিপন্ন প্রকৃতির মাঝে সবুজের বিপ্লব। বিশুদ্ধ অক্সিজেনের কারখানা। আর এই অক্সিজেনের কারখানা গড়ে তুলেছেন ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার স্কুলশিক্ষক আবুল বাসার মিয়া। বৃক্ষপ্রেমী আবুল বাসার মিয়া নিজ বাড়ির ছাদে গড়ে তুলেছেন ফলের বাগান। নগরকান্দা উপজেলা কৃষি অফিসার আশুতোষ কুমার বিশ্বাসের সহযোগিতায় নিজের বাড়ির ছাদে দুই বছর আগে গড়ে তুলেছেন ফল ও সবজির বাগান। আবুল বাসারকে বাগানের কাজে সহযোগিতা করেন তার দুই মেয়ে। বাগানে রয়েছে কমলা, মালটা, ডালিম, হিমসাগর, ব্যানানা মেঙ্গ, হাঁড়িভাঙা, ফজলি আম, লেবু, পেয়ারা, আমড়া, ড্রাগন, শরিফা, জাম্বুরাসহ ২৩ প্রকার ফলের গাছ। আছে করলা, চিচিংগা, ঝিংগা, কাঁচামরিচ, ক্যাপসিকাম, পুদিনাপাতা, লালশাক ও বিভিন্ন প্রকারের ফুলের গাছ। বর্তমানে বাগানে ঝুলছে বিভিন্ন প্রকারের মৌসুমি ফল ও সবজি।

আবুল বাসার বলেন, গাছের প্রতি ভালোবাসা থেকে তিনি বাড়ির ছাদে বাগান করেছেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে উন্নতমানের ফলের চারা সংগ্রহ করে লাগিয়েছেন। সামান্য পরিশ্রম করলেই বাড়ির ছাদে বাগান করে বিভিন্ন প্রকার ফল ও সবজি উৎপাদন করে নিজের পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটানো সম্ভব। এতে যেমন ভেজালমুক্ত ফল ও সবজি পাওয়া যায়, তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হয় এবং অক্সিজেনের চাহিদাও পূরণ হয়। শুধু স্কুলশিক্ষক আবুল বাসারই নন, ছাদে বাগান করেছেন শহরের পশ্চিম খাবাসপুরের বাসিন্দা একেএম কিবরিয়া স্বপন। ছোটবেলা থেকেই গাছের প্রতি তার ভালোবাসা। সেই ভালোবাসা থেকে নিজ বাড়ির ছাদে গড়ে তুলেছেন ফলের বাগান। ছাদে ফুটিয়েছেন দুর্লভ পদ্মফুলও। বর্তমানে তার বাগানে ঝুলছে, মালটা, কমলা, কামরাঙা, ছবেদা, আমড়া, কদবেল, ডালিম, আমলকী, এলাচসহ বিভিন্ন প্রকারের ফল। দেখলে মন জুড়িয়ে যায়। কিছু ফলগাছ আছে সারা বছর ফল ধরে। ছাদের বাগানে চাষ করা বিষমুক্ত ফল নিজেরা খাচ্ছেন, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের দিচ্ছেন।

একেএম কিবরিয়া স্বপন বলেন, ইট-কংক্রিটের শহরে নির্মল বাতাস ও অক্সিজেনের বড়ই অভাব। গাছের প্রতি ভালোবাসা থেকে গত চার বছর আগে শুরু করি ছাদের বাগান। বর্তমানে আমার ছাদে ২০ ধরনের ফল আছে। এ ছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন প্রকার সবজি। শহরের অনেকেই আমার বাগান দেখে বাগান করছেন। নগরকান্দা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আশুতোষ কুমার বিশ্বাস বলেন, বাড়ির মালিকদের সঙ্গে কথা বলে ছাদে বাগান করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করি। সেই প্রচেষ্টায় শিক্ষক আবুল বাসার দেড় বছর আগে বাগান শুরু করেন। এখন তার দেখাদেখি অনেকেই এ কাজে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। উদ্যোক্তাদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

"