পুলিশ বলছে ‘পলাতক’

অফিস করছেন দন্ডপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:০০

মাহাবুব চান্দু, মেহেরপুর

প্রতারণা মামলায় দুই বছরের কারাদ-প্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা প্রায় দুই মাস ধরে নিয়মিত অফিস করলেও পুলিশ বলছে ‘তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’ মেহেরপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদের ক্ষেত্রে এই ঘটনা ঘটছে।

অভিযোগ আছে, পুলিশ তাকে আটক করতে গেলে ‘একটি মহলের চাপে’ ফিরে আসতে হয়। এদিকে গতকাল সোমবারও পৌরসভায় গিয়ে দেখা যায় প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ বহালতবিয়তে অফিস করছেন। তবে কাজের চাপের অজুহাতে তিনি কোনো কথা বলতে চাননি। ২০১৫ সালের ২৫ আগস্ট পৌরসভার ঠিকাদারি পাইয়ে দেওয়ার জন্য ২০১১ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ৫ লাখ ৬২ হাজার টাকা নিয়েও কাজ না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা হয়। ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার ঘোষপাড়ার মৃত হারুন অর রশিদের ছেলে ঠিকাদার হাফিজুর রহমান ডলার জেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতে এ মামলা করেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, অবৈধভাবে অর্থ গ্রহণ, অর্থ ফেরতে দেওয়া নিয়ে চেক প্রতারণা ও ভুক্তভোগী পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ তাকে এই কারাদ- দেওয়া হয়েছে। গত ৩০ জুলাই মেহেরপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের বিচারক মো. মহিদুজ্জামান এক রায়ে তাকে দুই বছর কারাদ-, ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক মাসের বিনাশ্রম কারাদ-াদেশ দেন। পৌরসভার ঠিকাদারি পাইয়ে দেওয়ার জন্য ২০১১ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ঠিকাদার হাফিজুর রহমান ডলারের কাছ থেকে ৫ লাখ ৬২ হাজার টাকা নেন পৌর প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ। এ জন্য কাজ না পেলে ওই বছরের ১৫ মার্চ ১ লাখ ৬২ হাজার এবং ১৫ মের মধ্যে বাকি ৪ লাখ টাকা ফেরতের শর্তে নন জুডিশিয়াল স্ট্যাাম্পে অঙ্গীকারনামা স্বাক্ষর করেন তিনি। কাজ না পাওয়ায় শর্তানুয়ায়ী গত ৫ মার্চ পূবালী ব্যাংকের নিজ সেভিংস একাউন্ট থেকে ১ লাখ টাকার চেক দিলেও দুবার ফেরত আসে। অনেক দেন দরবারের পর ৩০ আগস্ট ’১২ একই একাউন্ট থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকার অপর একটি চেক প্রদান করলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ টাকা জমা না থাকায় চেক ফেরত দেয়। বিষয়টি নিয়ে প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ নানা অজুহাতে কালবিলম্ব ও হয়রানি করতে থাকেন। এক পর্যায়ে ‘তোমার টাকা ফেরত দিতে পারব না’ সাফ জানিয়ে দেন। মামলার বাদী ঠিকাদার হাফিজুর রহমান ডলার বলেন, বিষয়টি পৌরসভার মাহাফুজুর রহমান রিটন ও সাবেক এমপি জয়নাল আবেদীন আপসরফা করার জন্য বলেছেন। আমি আপসের অপেক্ষা করছি।

কোর্টের রায় শুনেছেন স্বীকার করে পৌর মেয়র মাহাফুজুর রহমান রিটন বলেন, এ ব্যাপারে আমাকে ওইভাবে কিছু জানানো হয়নি। কাগজপত্র পেলে আমাকে কোর্টের রায় বাস্তবায়ন করতেই হবে। কারাদ-াদেশের পরও অফিস করা বিষয়ে তিনি বলেন, ওইভাবে নিয়মিত তিনি অফিসে করেন না। তবে আমি এখন ঢাকায় আছি।

দ-প্রাপ্ত প্রকৌশলী নিয়মিত অফিস করছেন স্বীকার করে পৌর সচিব তৌফিকুল আলম বলেন, ‘বিষয়টি আপনিও জানেন, আমিও জানি। কিন্তু কোর্ট বা থানা থেকে আমার কাছে লিখিত কোনো নির্দেশনা না আসায় আমি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি নাই।’ এ প্রসঙ্গে মেহেরপুর থানার ওসি রবিউল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মোবাইলে তিনি বলেন, ‘না না, তিনি (নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ) অফিস করছেন না, তিনি পলাতক আছেন।’ তবে গতকালও তাকে অফিস করতে দেখা যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘করতে পারে, কিন্তু পুলিশ যখন তাকে গ্রেফতার করতে গিয়েছিল, তখন তিনি পলাতক ছিলেন।’ কোর্টের রায় পৌরসভার মেয়রকে জানানো হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

"