ক্রেতা না আসায় বন্দর গুদামে আটকা পড়েছে চাল

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:০০

অলিউজ্জামান রুবেল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

দেশের বাজারে চালের কৃত্রিম সংকটকে কেন্দ্র করে মূল্যবৃদ্ধি ঘটলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরের চিত্র অন্য। সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি করা চাল মূলত জেলার বাইরে যায়। কিন্তু দেশের বিভিন্ন স্থানে চালের দাম কেজিপ্রতি ২-৫ টাকা কমে যাওয়ায় বাইরে থেকে চাল কেনার জন্য ব্যবসায়ীরা আসছেন না। ফলে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে বাইরে প্রাইভেট খাদ্যগুদামগুলোয় প্রচুর পরিমাণে আমদানি করা চাল আটকা পড়েছে বলে চাল ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে। ফলে জেলার বাজারে চালের দাম আশানুরূপ কমছেই না, এমনকি চাঁপাইনবাবগঞ্জের চালের বাজারে দামের ক্ষেত্রে কোনো কমবেশি হচ্ছে না।

সোনামসজিদ স্থলবন্দরের সহকারী কমিশনার ও পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেড কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে গত জুলাই থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় এক লাখ টন চাল আমদানি হয়েছে। অন্যদিকে, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা বলছেন, সাধারণ সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি করা চাল জেলার বাইরে গেলও, এবার জেলার বাইরে কম যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে সোনামসজিদ দিয়ে আমদানি করা চালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের চালের বাজারে দামের ক্ষেত্রে কোনো কমবেশি হয় না।

পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার বেলাল হোসেন ও বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সোনামসজিদে দায়িত্বরত ইন্সপেক্টর আলীমউজ্জামান জানান, গত রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত পানামা ইয়ার্ডের ভেতরে প্রায় ২২৫টি চালভর্তি ভারতীয় ট্রাক আটকা পড়ে রয়েছে। তারা উভয় ব্যবসায়ীদের উদ্ধৃতি দিয়ে আরো জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে চালের দাম কেজিপ্রতি ২-৫ টাকা কমে যাওয়ায় বাইরে থেকে চাল কেনার জন্য ব্যবসায়ীরা আসছেন না। আর প্রতিদিন ভারত থেকে আসছে ৭০-৭৫টি করে চালভর্তি ট্রাক। ফলে সোনামসজিদ স্থলবন্দরের বাইরে প্রাইভেট খাদ্যগুদামগুলোয় প্রচুর পরিমাণে আমদানি করা চাল আটকা পড়েছে।

সারা দেশে চালের বাজারে অস্থিরতার পর সরকারের সঙ্গে চালকল মালিকদের বৈঠকে কেজিতে দুই টাকা করে চালের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত হলেও এখনো চাঁপাইনবাবগঞ্জের চালের বাজারে তা কার্যকর হচ্ছে না বলে জানা গেছে। আর খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, চালকল মালিক ও মজুদকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারলেই চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে। যদিও মিল মালিক ও ব্যবসায়ী নেতাদের দাবি, আস্তে আস্তে চালের দাম কমে আসবে। সেই সঙ্গে সরকার যদি চালের মজুদ বাড়ায় ও আরো বেশি পরিমাণ চাল আমদানি করে তাহলেই চালের বাজার স্থিতিশীল হয়ে আসবে বলে তারা জানান।

এদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রশাসন চাল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মজুদের অভিযোগ পেলেই কঠোর ব্যবস্থার নেওয়ার কথা বলেছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, খাদ্য উদ্বৃত্ত জেলা ও দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চাল উৎপাদনকারী জেলা হিসেবে পরিচিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ। অথচ পর্যাপ্ত সরবরাহ ও উৎপাদন হলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাজারে বেড়েছে চালের দাম। গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সব ধরনের প্রতি কেজি চালের দাম ৮-১০ টাকা বাড়লেও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে গত কয়েকদিন থেকে কেজিপ্রতি ২-৩ টাকা করে কমেছে। একাধিক চাল বিক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, গত সপ্তাহের দরে অর্থাৎ ৫২-৫৮ দরে মোটা জাতীয় চাল বিক্রি হয়েছে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসার রিয়াজুর রহমান রাজ জানান, জেলায় চলতি ইরি-বোরো চাল কিনতে তালিকাভুক্ত ১৯২ জন চাল মিল মালিকের সঙ্গে চুক্তি হয়। তারা ১৬ হাজার টন চাল সরবরাহ করবেন। কিন্তু মাত্র ২৯ জন চাল মিল মালিক ১৪০৬ টন চাল সরবরাহ করেন। চাল সরবরাহ দিতে ব্যর্থ ১৬৩ মিল মালিকের বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গের অংশ হিসেবে আগামী দুই বছর তারা সরকারের কাছে আর চাল বিক্রি করতে পারবেন না। তবে, চালের বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ডিলারের মাধ্যমে খোলাবাজারে চাল বিক্রি শুরু হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) এরশাদ হোসেন খান জানান, চালের বাজার ও মজুদকারীদের ব্যাপারে প্রশাসন খুবই সতর্ক রয়েছে। এরই মধ্যে বাজার মনিটরিং কমিটির জরুরি সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক জেলার বিভিন্ন অটোরাইস মিল ও গোডাউনের চালের স্টক পরিদর্শন শেষ করেছেন কমিটির সংশ্লিষ্টরা। প্রতিবেদন পেলেই নেওয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মিল মালিক ও আতপ ধান-চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মশিউল করিম বাবু জানান, তারা ধান কেনায় বাজারে ১০০-১৫০ টাকা করে ধানের দর কমে এসেছে। এখন চালের দর আস্তে আস্তে কমে আসবে। সোনামসজিদ স্থলবন্দরের শুল্ক স্টেশনের সহকারী কমিশনার সাইদুল ইসলাম জানান, সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে গত জুলাই থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় এক লাখ টন চাল আমদানি হয়েছে।

"