নিম্নমানের সারে বাজার সয়লাব ওজনেও ঠকছে কৃষক

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জমাট বাধা নি¤œমানের সারে সয়লাব হয়ে আছে বিভিন্ন বাজার। আউশ ও আমন মৌসুমের জন্য বরাদ্দ পাওয়া এসব সার দোকানে তুলতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। সারের গুণগতমান না থাকায় জমাট বাধা এসব সার কিনে ঠকছেন উপজেলার প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার কৃষক। শুধু কৃষক নয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, জমাট বাধা সারের বস্তায় তারাও ঠকছেন। কারণ প্রতি বস্তায় ৫০ কেজি সার থাকার কথা থাকলেও সার আছে ৪২ থেকে ৪৫ কেজি।

ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের আবদুল্লাহ নামে একজন কৃষক জানান, তিনি মৌসুমি সবজি ও আউশ চাষ করেছেন। ফসলে একাধিক বার ইউরিয়ার সার প্রয়োগ করলেও সারের কোন কার্যকারিতা দেখছেন না। একাধিকবার সার প্রয়োগের ফলে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। খইয়াছড়া ইউনিয়নের কৃষক নুরুনবী অভিযোগ করেন, এক একর জমিতে তিতা করলা ও দুই একর জমিতে হাইব্রিড আউশ চাষ করেছেন। বর্তমানে বাজারে থাকা ইউরিয়া সার ফসলে প্রয়োগ করে সারের কার্যকারিতা বুঝছেন না। তিনি বলেন, বাজার থেকে নি¤œমানের সার কিনে কৃষক ঠকছেন।

অঞ্জন নামে এক কৃষক বলেন, তিনি ৫০ কেজির এক বস্তা সার কিনেন ৭৮০ টাকায়। কিন্তু ফসলে দেয়ার সময় দেখেন বস্তায় সার রয়েছে ৪৬ কেজি। বাজারের প্রতি কেজি সার খুচরা ১৬ টাকায় বিক্রি করলেও সে বস্তা হিসেবে সার কিনে তার প্রতি কেজি সারের দাম পড়ে প্রায় ১৭ টাকা।

বারইয়ারহাট এলাকার সার ডিলার অহিদ এন্ড ব্রাদার্সের মালিক আবুল হোসেন বলেন, তাকে জুন মাসে ১৫ টন সারের বরাদ্দ দেয়া হয়। সারগুলোর মধ্যে ৩ টন সার নিম্নমানের ও বিক্রয় অনুপযোগী। এছাড়া প্রতি বস্তায় ওজন কম।

বড়তাকিয়া বাজারের সার ব্যবসায়ী বিকাশ দাস জানান, চলতি আউশ মৌসুমের জন্য উপজেলা কৃষক অফিস তাকে ১৫ টন সারের বরাদ্দ দেয়। এরপর বিসিআইসির প্রতিষ্ঠান সিউইএফএল থেকে সার নিয়ে আসেন। ওই সার গুলোর মধ্যে ৩ টন সার চীন থেকে আমদানিকৃত রয়েছে। হাদি ফকির হাটের সার ব্যবসায়ী আবুল কাশেম ও মো. জসীম উদ্দিন অভিযোগ করেন, আউশ মৌসুমের জন্য বরাদ্দ দেয়া সারগুলো অনেকটা নি¤œমানের। ওই সার প্রয়োগ করে কৃষক আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মিরসরাই উপজেলা সার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শেখ সেলিম বলেন, গত এক বছর ধরে প্রতি ১৫ টন সারে ৩ টন দেয়া হচ্ছে মেয়াদ উত্তীর্ণ সার। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ জমাট বাধা সার বাজারের থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, সারগুলো যে নিম্নমানের তা ঠিক নয়। যে কোন কারণে সার জমাট বাধতে পারে। জমাট বাধলে সারের নাইট্রোজেন কমবে না।

"