খাদুলি মাঠে বন্যার পানির মাছ বিক্রি

লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রভাবশালীরা

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০

সাহারুল হক সাচ্চু, উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ)

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় প্রায় চার হাজার বিঘার খাদুলির মাঠের বন্যার পানির প্রকাশ্য ডাকের মাধ্যমে মাছ ৬ লাখ ৫ হাজার টাকা বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। আবাদি মাঠের শত শত সাধারণ জমি মালিকদের বিভিন্ন ভয় ও প্রভাব খাটিয়ে আগাম মাছ বিক্রির নামে এ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানা যায়। এই মাছের ক্রেতারা মাঠ দখল নিতে ইতোমধ্যেই ‘বাঁশগারি’র ভেতর নৌকা বোঝাই করে গাছের ডাল ফেলতে শুরু করেছে। এরা মাঠ জুড়ে কড়া পাহারা বসিয়েছে। এমনকি জমি মালিকদের পানিতে নামতে বাঁধা দেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে মাঠটির বন্যার পানির মাছ এভাবে বিক্রি করায় এলাকার সরকারী তালিকাভূক্ত ৩৬২ জনসহ প্রায় ৫’শ মৎসজীবির জীবিকার পর আটকে দেওয়া হয়েছে। আর দুইমাস পরে বন্যার পানি নেমে যেতেই এরা মাছ ধরে বিক্রিতে সংসার চালাতো। অভিযোগ আছে, উপজেলার খাদুলি গ্রামের সৈয়দ আলীর নেতৃত্বে একটি চক্র গ্রামের তিনটি মসজিদের উন্নয়নের নাম এই কাজ করছে বলে দাবি করলেও মসজিদগুলোর পরিচালনা কমিটি বলছে, তারা এতে জড়িত নেই। গত ৫-৬ বছর হলো এভাবেই মাছ বিক্রির টাকা হাতিয়ে নেওয়া হলেও মসজিদের উন্নয়নে টাকা দেওয়া হয় না বলে জানা যায়। অপর দিকে, একই গ্রামের (খাদুলি) আলাউদ্দিন আলীর নেতৃত্বে আরেকটি চক্র বন্যার মাছ কিনে নেওয়ার পর মাঠ দখলের জন্য পানিতে বাশগাড়ি (বাঁশপোতা) করেছেন।

উল্লাপাড়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দুরে পোতার বিল, মরার বিল, চোয়ার বিল মিলে খাদুলি আবাদি মাঠের জমির পরিমান প্রায় ৪ হাজার বিঘা। খাদুলি গ্রামের প্রায় সাত’শ পরিবার মাঠটির জমির মালিক। এছাড়া প্রায় সাড়ে তিন’শ বিঘা সরকারী খাস জমি রয়েছে। এ মাঠের ইরি ধান কাটার পর পরই গত মাস দুয়েক আগে পুরো মাঠ দশ থেকে বার ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে। খাদুলি মাঠের পাশাপাশি দিঘল গ্রাম, বাঘমারা, উধুনিয়াসহ আরোও কয়েকটি এলাকার শত শত বিঘা জমি বন্যার পানিতে ডুবে আছে। গত মাস খানেক আগে খাদুলি গ্রামের বাজারে বসে প্রকাশ্য ডাকে এমাঠ কেনা বেচা হয় বলে জানা যায়। খাদুলি মাঠের মাছ বিক্রেতা সৈয়দ আলীর সঙ্গে ১২-১৫ জনের একটি দল রয়েছে। এদের কয়েকজন হলেন জিনদার আলী, আবু বক্কার, দানেজ আলী, রজব আলী, আমজাদ হোসেন। অপর দিকে ক্রেতা আলাউদ্দিন আলীর পক্ষে গ্রামের ৩০-৩৫ জন আছেন। এদের কয়েকজন হলেন তোরাপ আলী, ঠা- মিয়া, হাসেম, মোহাম্মদ আল, এরশাদ মিয়া এ মাঠটি কিনে নেওয়ার পর এখন মাছের খাদ্য হিসেবে গাছের ডালপালা ফেলা হচ্ছে।

‘বিক্রেতা’ সৈয়দ আলী বলেন, গ্রামের তিনটি মসজিদসহ এলাকার উন্নয়নে তা করা হয়েছে। তবে মসজিদগুলোর পরিচালনা কমিটির কাউকে এ বিষয়ে জানানো হয়নি। এখনও মসজিদে কোন টাকা দেওয়া হয়নি।

‘ক্রেতা’ আলাউদ্দিন আলী বলেন, তিনি প্রকাশ্য ডাকের মাধমে এ মাঠের মাছ কিনে নিয়েছেন। কোন প্রতিষ্ঠানের নামে মিথ্যে ভাওতা দিয়ে এ কাজ করা হলে তিনি নয়, যারা বিক্রি করেছেন তারাই অপরাধি হবে বলে জানান। খাদুলি উত্তরপাড়া মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারন সম্পাদক মোঃ ইমরান হোসেন বলেন, তিনি এ সবের কোন কিছুতেই জড়িত নেই। তিনি এর আগেও নেই পিছনেও নেই। খাদুলি দক্ষিণপাড়া মসজিদের সাধারন সম্পাদক মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, গত বছর পাচ সাতেক হলো এ কাজ হয়ে আসছে। মসজিদের নাম করে করা হলেও বাস্তবে দয়া করে এক দু’হাজার টাকা দেয়। এবারেও কি করা হয়েছে তিনি কিছুই জানেন না।

বড় পাঙ্গাসী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ হুমায়ন কবির লিটন বলেন, তিনি বিষয়টি শুনেছেন। গত কয়েক বছর হলো এ কাজ করা হচ্ছে। গ্রামের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের নাম করে এ কাজ করা হলেও আসলে প্রতিষ্ঠানগুলো তা পায় কিনা সঠিক করে তা জানা নেই। তবে তিনি আরোও বলেন গ্রামটিতে দুটি পক্ষ রয়েছে। এক পক্ষ আরেক পক্ষের কাছে বরাবরই খারাপ বলে প্রচার হয়ে আসছে।

উল্লাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়া বলেন, এ বিষয়টি তার জানা নেই। খাদুলি গ্রামের ছাব্বিশ জনসহ বড় পাঙ্গাসী ইউনিয়নের সরকারী তালিকাভূক্ত ৩’শ ৬২জন মৎস্যজীবি রয়েছে। এভাবে বন্যার পানির মাছ বিক্রিতে প্রকৃত মৎস্যজীবিদের রেজেকের পথ আটকে দেওয়া হয়েছে।

"