ভাঙনে বন্ধ দৌলতপুরের দেড় হাজার শিক্ষার্থীর পাঠদান

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

যমুনার অব্যাহত ভাঙনের ফলে ২২ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার চরকাটারী ইউনিয়নের সবুজ সোনা উচ্চবিদ্যালয়ের ১৫শ শিক্ষার্থীর পাঠদান। বিদ্যালয়ের আশপাশে জায়গা না থাকায় বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে মারাত্মকভাবে সমস্যায় পড়ছে বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরাসহ পিএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের সাহায্য চাইলেও তারা বলছেন, আমাদের করার কিছুই নেই।

সরেজমিন দেখা যায়, যমুনার ভাঙনের ফলে সবুজ সোনা উচ্চবিদ্যালয়ের চেয়ার-টেবিলসহ অন্যান্য আসবাবপত্রসহ ভবনের একাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। যেকোনো মুহূর্তে বিলীন হয়ে যাবে ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী এ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিক্তা আক্তার বলেন, বিদ্যালয়ের ভবন নদীতে চলে যাওয়ার কারণে আমাদের পাঠদান বন্ধ রয়েছে। এখন সরকার যদি ব্যবস্থা নেয়, তাহলে আমরা ঠিকমতো পড়ালেখা করতে পারব, না হলে আল্লাহ জানে কী হবে। জোসনা শারমিন আক্তারসহ আরো বেশ কয়েকজন পিএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার্থী বলে, সামনেই আমাদের পরীক্ষা। আমরা পড়ালেখায় পিছিয়ে আছি আর এ মুহূর্তে বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা এখন পড়ালেখা সংকটে আছি এবং সমস্যায় আছি। এখন ঠিকমতো পড়ালেখা না করলে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা সম্ভব হবে না। আমাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজিজুল হক বলেন, ২২ দিন ধরে আমাদের সবুজ সোনা উচ্চবিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ রয়েছে। বিদ্যালয়ের ১৫শ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ কী হবে বলা অসম্ভব। সামনে শিক্ষার্থীদের পিএসসি ও এসএসসি পরীক্ষা। এ পরিস্থিতি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। এখন তারা যদি ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আমাদের করার কিছুই নেই।

জেলা শিক্ষা অফিসার হাসিনা আক্তার জানান, ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাতে তাদের পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারে সে ব্যাপারে সব সময় খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। এখন যার যার মতো বাড়িতেই পড়ালেখা করতে হবে। বর্তমানে আমাদের করার কিছুই নেই। পানি কমলে বিদ্যালয়ের কাছাকাছি টিনের ঘর তুলে ক্লাস নেওয়ার ব্যাবস্থা করা হবে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যাতে ধ্বংস না হয় তার জন্য আমরা সতর্ক আছি।

"