কৃষিবান্ধব ধৈঞ্চা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি

নওগাঁর রাণীনগরে দিন দিন ফসলি জমিতে কৃষিবান্ধব ধৈঞ্চা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। এই ধৈঞ্চা ফসলি জমির উর্বরতা শক্তি ও সবুজ সার হিসেবে ব্যবহারের প্রতি কৃষকরা ঝুঁকছেন। কৃষি অফিসের মাধ্যমে কৃষকরা জানতে পারছেন এই ধৈঞ্চা চাষের উপকারিতা সম্পর্কে।

জানা গেছে, রাসায়নিক সারের ব্যবহার হ্রাস করার প্রত্যয়ে উপজেলার কৃষকরা বর্তমানে ধৈঞ্চা চাষের দিকে ঝুঁকছেন। সবুজ সার ও জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারিত ধৈঞ্চা জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি ও লাভজনক হওয়ায় এ বছর উপজেলার আটটি ইউনিয়নে বিগত দিনের তুলনায় বেশি পরিমাণ ধৈঞ্চা চাষ হয়েছে।

রাণীনগর কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি খড়িপ-২ মৌসুমে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে প্রায় ২২০ হেক্টর জমিতে ধৈঞ্চা চাষ করা হয়েছে। বিগত বছরে ধৈঞ্চার ভালো ফলন এবং চাষযোগ্য জমিতে মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সবুজ সার হিসেবে ব্যবহার করে ধানের আশানুরূপ ফলন পাওয়ায় এলাকার চাষিরা অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি ধৈঞ্চা চাষ করছেন। এক বিঘা জমিতে ধৈঞ্চা চাষে মাত্র ৮০০ টাকা খরচ হয়। প্রতি বিঘা জমির ধৈঞ্চা প্রায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয় বলে জানিয়েছেন চাষিরা। রাসায়নিক সার ব্যবহার কমিয়ে ধৈঞ্চা চাষে কৃষকদের উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে রাণীনগর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের আয়োজনে মৌসুমের শুরু থেকেই উপজেলার ছয়বারিয়া, বগারবাড়ি, পারইল, কুজাইল গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় লাইভ পাচিং হিসেবে আফ্রিকান ধৈঞ্চা চাষ ও ব্যবহার বিষয়ে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করে আসছে কৃষি অফিস। ধৈঞ্চা চাষ ও এর উপকারিতা সম্পর্কে অবহিত করার লক্ষ্যে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে প্রতিনিয়তই কৃষক সমাবেশ ও ধৈঞ্চা চাষের ওপর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ছয়বাড়িয়া গ্রামের কৃষক মো. এনামুল হক জানান, তিনি পূর্বে এই ধৈঞ্চার উপকারিতা সম্পর্কে জানতেন না। তাই এবার কৃষি অফিসের সহায়তায় তিনি প্রতিটি জমিতে সবুজ সার হিসেবে ব্যবহারের লক্ষ্যে প্রায় ছয় বিঘা জমিতে ধৈঞ্চার আবাদ করেছেন তিনি।

বগাড়বাড়ি গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি অনেক দিন ধরেই ফসলি জমিতে ধৈঞ্চার আবাদ করে তা জৈবসার ও জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। এতে তার জমিতে ফসলের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে অনেক গুণ। আগের মতো জমিতে তার আর রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হচ্ছে না। এতে খরচও অনেক কম পড়ছে বলে জানান তিনি। রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এস এম গোলাম সারওয়ার জানান, এ বছর উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ধৈঞ্চার আবাদ হয়েছে। ফসলি জমিতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার হ্রাস করতেই প্রতিনিয়ত কৃষকদের মধ্যে পরিবশে ও কৃষিবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

"