পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক

৫ মাসে রাউজানে ১২ শিশুর প্রাণহানি

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০

রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো এলাকায় পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়া এভাবে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় সর্বত্র বাড়ছে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিভিন্নমুখী মানসিক চাপ অথবা সামাজিকভাবে আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ায় অনেক পরিবার ছোট্ট শিশুটি কোথায় যাচ্ছে অথবা কী করছে সেদিকে দৃষ্টি রাখতে পাচ্ছে না। এসব কারণে এমন ঘটনা বাড়ছে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, শিশুরা একটি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত পানির প্রতি আসক্ত থাকে। তাদের মধ্যে বোধশক্তি না থাকায় যেখানে পানি দেখে সেখানে ছুটে গিয়ে পানিতে আনন্দ করতে চায়। তারা পানির দেখা পেলেই সবকিছু ছেড়ে পানির দিকে ছুটে গিয়ে মৃত্যু মুখে পতিত হয়।

জানা গেছে, পানিতে ডুবে মারা যাওয়া বেশির ভাগ শিশু প্রবাসী পরিবারের কনিষ্ঠ সদস্য। সূত্রমতে, উপজেলা পর্যায়ে সর্বাধিক শিশু মৃত্যুর ঘটনা রাউজানে। এখানে প্রায় পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। দেখা গেছে, প্রতিটি ঘটনায় অবুঝ শিশুরা পরিবারের সদস্যদের দৃষ্টির অগোচরে গিয়ে মৃত্যু মুখে পতিত হয়েছে।

জানা গেছে, রাউজানে পানিতে ডুবে গত পাঁচ মাসে মারা গেছে ১১ শিশু। এখানে যেসব শিশু এই পর্যন্ত মারা গেছে তাদের মধ্যে নব্বই শতাংশই পরিবারের দৃষ্টি অগোচরে ঘরে বাইরে খেলতে গিয়ে।

সম্প্রতিক সময়ে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টির দৃষ্টি আকর্ষণ করলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আফজল হোসেন বলেন, মাতৃগর্ভে শিশুর ভ্রুণ বেড়ে ওঠে পানির মধ্যে। শিশু জন্মের পর থেকে নির্দিষ্ট একটি সময় পর্যন্ত পানির প্রতি তাদের আকর্ষণ বেশি থাকে। এ কারণে শিশুরা যেখানে পানির দেখা পায় সেখানে পানি নিয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠতে চায়। এই বয়সী শিশুদের অভিভাবকদের দৃষ্টির মধ্যে রাখার ব্যর্থতার কারণে বেড়ে গেছে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা। তার মতে, শিশুদের পানি প্রতি আকর্ষণ বেশি থাকে আট বছর বয়স পর্যন্ত ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. ইন্দ্রজিৎ কুন্ডের মতে, আধুনিক এই সমাজে আমরা প্রায় সবাই আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছি। কারো খবর কেউ রাখতে চায় না। এ ছাড়া অনেক পরিবারে রয়েছে বিভিন্নমুখী সমস্যায় মানসিক চাপ। এসব চাপ সামলাতে গিয়ে পরিবারের কনিষ্ঠ সদস্যটির প্রতি নজর রাখতে ব্যর্থ হয়। এর পরিণতিতে হারাতে হয় পরিবারের কনিষ্ঠ সদস্যটিকে।

"