ভাঙনে বিলুপ্তির পথে নায়েব আলী সড়ক, দুর্ভোগে স্থানীয়রা

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০

বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পৌরসভাধীন সিপাহি নায়েব আলী সড়কটি স্থানীয় জনসাধারণের কাছে এখন দুর্ভোগের আরেক নাম। খালগর্ভে বিলীন হয়ে ৮ ফুট প্রশস্ত রাস্তাটি এখন ২ ফুটে গিয়ে ঠেকেছে। স্থানীয়দের কাছে এটি লোচন মহাজন সড়ক নামে পরিচিত। উপজেলার মিয়ার বাপের বাড়ি এলাকায় অবস্থিত সড়কটি স্বাধীনতার পর থেকে কোনো ধরনের উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ হয়নি। বর্ষা মৌসুমে এবং জোয়ারের পানি বৃদ্ধির ফলে নাজিরখালী খালের অব্যাহত ভাঙনে সড়কটি এখন বিলুপ্তির পথে। অথচ এ সড়কটি দিয়ে গোমদ-ী উপজেলা সদর হতে মিরপাড়া হয়ে রায়খালী ও শাকপুরা চৌমুহনী এলাকায় সহজে আসা-যাওয়া করা যেত। অপচয় ঠেকানো যেত মানুষের মূল্যবান সময়ের। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৪ বছর পরও উন্নয়ন এবং সংস্কার তো দূরের কথা খালের ভাঙন ঠেকাতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিন দেখা যায়, প্রায় আধা কিলোমিটার পর্যন্ত সড়ক খালগর্ভে বিলীন হয়ে ৮ ফুট প্রস্থের সড়কটি এখন ২ ফুটে ঠেকেছে। সড়কটি দিয়ে চলাফেরা করা শত শত শিক্ষার্থীর জীবন বিপন্ন হতে পারে যে কোনো মুহূর্তে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এবং জোয়ারের পানি বৃদ্ধির পেলে সড়ক এবং খাল পানিতে ডুবে একাকার হয়ে যায়। এ সময় কোনটি সড়ক কোনটি খাল নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে প্রাণহানির আশঙ্কায় থাকেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় মোহাম্মদ সেলিম জানান, সড়কটি উন্নয়ন ও সংস্কারের ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, উপজেলা চেয়ারম্যান, নির্বাহী কর্মকর্তা থেকে শুরু করে এমন কোনো সংশ্লিষ্ট দফতর নেই যেখানে আবেদন করা হয়নি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ২০১২ সালের মার্চ মাসে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদনের পেক্ষিতে তৎকালীন বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সুপারিশ করেন দ্রুত সড়কটি উন্নয়ন ও সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য, তা-ও হয়নি। সড়কটিতেই রয়েছে আল মদিনা জামে মসজিদ, বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের বিহার, পূর্ব গোমদন্ডী বড়–য়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বায়তুল করম জামে মসজিদসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। খালের ভাঙন থেকে সড়কটি কীভাবে রক্ষা করা যায় তা পৌর প্রকৌশলীরা নির্ধারণ করার পর ধাপে ধাপে কাজ করা হবে বলে জানান পৌরসভার মেয়র হাজী আবুল কালাম আবু। স্থানীয় জনসাধারণের জোর দাবি আর কোনো প্রতিশ্রুতি ও সময়ক্ষেপণ নয়, সড়কটি সংস্কার করে চলাচল উপযোগী করে গড়ে তুলে মানুষের কষ্ট লাঘব করবেন-এমন আশা তাদের।

"