দুর্গাপুর পৌরসভায় ২৩ বছরেও মেলেনি প্রত্যাশিত সেবা

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০

দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

চলতি বছরে ২৩ বছরে পা রাখলেও নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌরসভায় বাড়েনি নাগরিক সেবার মান। ২২ বছর পর ২০১৬ সালে উন্নীত হয় দ্বিতীয় শ্রেণিতে। ১৯৯৪ সালে তৃতীয় শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে যাত্রা শুরু করে।

পৌর অফিস সূত্রমতে, ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই পৌরসভায় ২৩ হাজার ৫১৭ লোকের বসবাস। হোল্ডিং সংখ্যা ৪১৮০টি।খানা ৫০২২টি। পৌরসভা শুরুর পর থেকে ৪ বার নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে পরিষদ।

সরেজমিনে ওয়ার্ডগুলো ঘুরে দেখা যায়, পৌর শহরের মূল কিছু সড়কের উন্নয়ন কাজ শুরু হলেও অলিগলির রাস্তাগুলোর অধিকাংশই করুণ। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতি হয়নি আশানুরূপ। রাস্তার যত্রতত্র পড়ে থাকে ময়লা-আবর্জনা। আজও নেওয়া হয়নি সুপেয় পানির ব্যবস্থায় কোন পদক্ষেপ। এখনো পৌরসভার ৬ নং ও ৮নং ওয়ার্ডের সম্পূর্ণ এলাকা আসেনি বিদ্যুৎ এর আওতায়। গড়ে উঠেনি নাগরিককে বিনোদন দিতে কোন লাইব্রেরি। কোথাও বন্দোবস্ত নিয়ে আবার কোথাও জোর করে অসাধুরা দখলে নিয়েছে পুকুর-খাল।

পাহাড় এর সন্নিকটে অবস্থিত পৌর শহরের সাধারণ টিউবয়েল এর পানিতে অতিরিক্ত মাত্রায় আয়রন। সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এর কথা পৌর নিয়মাবলিতে থাকলেও দুই যুগ পার করেও এই সুবিধা জুটেনি নাগরিকদের। এমনকি এই বিভাগে নিয়োগ দেওয়া হয়নি কর্মকর্তা-কর্মচারী। মাত্র ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে চলছে দ্বিতীয় শ্রেণির পৌরসভাটি। বিভিন্ন পদে কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলে প্রায় ৬০টি পদ খালি।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর পৌর সভাপতি মতিলাল হাজং বলছিলেন, সংগঠন থেকে একাধিকবার পৌর প্রশাসনকে দখল করা জলাশয়গুলো অবমুক্ত করার কথা বলেও কোন জবাব পাচ্ছি না।

সহকারী প্রকৌশলী নওশাদ আলম বলেন, এই পৌরসভার মোট রাস্তা ৪৪ কিমি। যার প্রায় অর্ধেকের মত পাকা করা হয়েছে এবং কাজ চলমান আছে। আমাদের মূল সমস্যা ফান্ডিং।

পৌর মেয়র আব্দুস ছালাম বলেন, আমাদের মাস্টার প্ল্যান আছে এই পৌরসভা কে নিয়ে,যা প্রক্রিয়াধীন। হয়তো খুব শীঘ্র বাস্তবায়ন হবে। আর দখল করা জলাশয়গুলো অবমুক্ত করতে আমি জেলা প্রশাসক মহোদয় কে বলেছি। বিদ্যুৎ আমার দেওয়ার কথা না, আমি অনুরোধ করবো পল্লীবিদ্যুৎকে আমার পৌরসভায় শতভাগ বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে।

"