উলিপুরের চরাঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়

সব বিদ্যালয়ের প্রধানসহ ১২৯ শিক্ষকের পদ শূন্য

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০

আরিফুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ৩৫টি চরের ৫৮টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক ও ৭১টি সহকারী শিক্ষককের পদ শুন্য থাকায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। শিক্ষক সংকট, বর্ষাকাল ও প্রাকৃতিক দূর্যোগের (বন্যা) কারণে বছরের অধিকাংশ সময় চরাঞ্চলের বিদ্যালয়ে ক্লাশ হয় না অথবা বন্ধ থাকে। চরের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলে ২ জন শিক্ষক দিয়ে। তাদের মধ্যে একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হওয়ায় বছরের বেশির ভাগ সময় উপজেলা সদরে শিক্ষা অফিসে নানা কাজে ব্যস্ত থাকে। দূর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা অফিসের সঠিক তদারকিও নেই। ফলে শিক্ষকের অভাবে ওই বিদ্যালয়গুলোতে শিশু শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণির পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি শূন্য পদে শিক্ষক চেয়ে বার বার আবেদন করলেও তা কোন কাজে আসছে না। ওই বিদ্যালয়গুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় কোন শিক্ষকই যেতে চায় না ফলে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা বিভাগের অবহেলা ও বিমাতা সুলভ আচরনের কারণে এমনটি হয়েছে বলে ভুক্তভোগি বিদ্যালয়গুলোর ম্যানেজিং কমিটির অভিযোগ।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ২’শ ৬৫টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদী দ্বারা বেষ্টিত বেগমগঞ্জ, সাহেবের আলগা, হাতিয়া, বুড়াবুড়ি, গুনাইগাছ, বজরা, দলদলিয়া ও থেতরাই ইউনিয়নে প্রায় ৩৫টি চরে ৫৮টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক ও ৭১টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। অপর দিকে উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো এমন ২০৭টি বিদ্যালয়ে কোন শিক্ষক সংকট নেই। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো অনেক বিদ্যালয় আছে যেখানে শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষকের সংখ্যা বেশি। বিগত বছরগুলোতে একাধিকবার নতুন শিক্ষক নিয়োগ হলেও অজ্ঞাত কারণে উপজেলার চরের বিদ্যালয়গুলোর শূন্য পদ পূরণ হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক ছাড়াই সহকারী শিক্ষক দিয়ে চলছে সাহেবের আলগা ইউনিয়নের মশালের চর সপ্রাবি, সাহেবের আলগা সরকারী প্রাঃ বিদ্যালয়, গেন্দার আলগা সপ্রাবি, তিন হাজারিরচর সপ্রাবি, দই খাওয়ারচর সপ্রাবি, বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের, বেগম নুর নাহার সপ্রাবি, বেগমগঞ্জ সপ্রাবি, হাতিয়া ইউপি’র ঘেচুডাঙ্গা সপ্রাবি, চর বাগুয়া সপ্রাবি, বালাচর রামরামপুর সপ্রাবি, অনন্তপুর সপ্রাবি, ধরনীবাড়ী ইউপি’র মৌজা মালতিবাড়ী সপ্রাবি, মধুপুর বালিকা সপ্রাবি, থেতরাই ইউপি’র চর গোড়াই পিয়ার সপ্রাবি, উত্তর দড়ি কিশোরপুর সপ্রাবি, হোকডাঙ্গা ১নং সপ্রাবি, হোকডাঙ্গা ২নং সপ্রাবি, গুনাইগাছ ইউপি’র টিটমা সপ্রাবি, উত্তর সন্তোষ অভিরাম সপ্রাবি, বজরা ইউপি’র খামার বিরহিম সপ্রাবি, ২নং খামার দামর হাট সপ্রাবি, বিরহিম মধ্য পাড়া সপ্রাবি, চর বজরা সপ্রাবি, ধামশ্রেনী ইউপি’র নাওড়া সপ্রাবি, পশ্চিম নাওড়া সপ্রাবি, তবকপুর ইউপি’র দক্ষিন সাদুল্যা সপ্রাবি, কাজলডাঙ্গা সপ্রাবি, পান্ডুল ইউপি’র বড় মহিষমুড়ি সপ্রাবি, পৌরসভার পশ্চিম শিববাড়ী সপ্রাবি সহ ৫৮টি বিদ্যালয়।

সাহেবের আলগা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মমিনুল ইসলাম জানান, উপজেলা সদরে গিয়ে অফিসের কাজ করতে দিন শেষ হয়ে যায়, প্রধান শিক্ষকের অনেক কাজ থাকায় নিয়মিত পাঠদান সম্ভব নয়। বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক সংকট ফলে পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। গেন্দার আলগা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, চরের শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি অবকাঠামো ও প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে পাঠদান ব্যহত হয়।

সাহেবের আলগা সরকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নুর মোহাম্মদ প্রধান বলেন, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক চেয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে অনেক বার আবেদন করেছি কিন্তু তা কোন কাজে আসেনি।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আবু সালেহ সরকার শূন্য পদের কথা স্বীকার করে বলেন, শুন্যপদের প্রতিবেদন আমরা প্রতিমাসে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে প্রেরণ করে থাকি।

উপজেলা চেয়ারম্যান ও শিক্ষা কমিটির সভাপতি হায়দার আলী মিঞা শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষকের সমবন্টন না হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, শূন্যপদে আমরা চাইলেও শিক্ষক দিতে পারবো না। সরকারি ভারে যতক্ষণ পর্যন্ত শিক্ষক দেয় নাই ততক্ষণ আমাদের কিছুই করার নাই।

"