পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানিতে এলাকা প্লাবিত

প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০১৭, ০০:০০

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

যশোরের কেশবপুর শহরের পানি নিষ্কাশনের পরিকল্পিত কোন ব্যবস্থা না থাকায় শহরের বাজার ও শহর সংলগ্ন আবাসিক এলাকা বদ্ধ পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এর সঙ্গে নদের উজানের পানিও ঢুকছে এসব এলাকায়। ইতোমধ্যে শহরের মাছ বাজার, কেশবপুর অনন্ত সাহা সড়কের সাহাপাড়া, মধ্যকুল, ভবানীপুর, আলতাপোল মাছ বাজার, ধান বাজারসহ চারানি বাজার এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়েছে। কেশবপুর সাহাপাড়ার ১শ’৫০ পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। প্রায় পতিটি বাড়িতেই শিশুসহ পরিবারের সদস্যরা ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। ভুক্তভোগিসহ সচেতন মহল পানিবদ্ধতার কারন হিসেবে সুষ্ঠু ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা ও অপরিকল্পিত মাছের ঘেরের বেড়িকে দায়ি করেছেন।

অপরদিকে কেশবপুর শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হরিহর নদে ও খোজাখালি খালে পানি বৃদ্ধি পেয়ে এখন পানি শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঢুকে পড়ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দায়িত্ব প্রাপ্ত সহকারি কমিশনার ভুমি মো. কবীর হোসেন নিজেই হরিহরসহ আশপাশের খালের পানি প্রবাহে বিঘœ সৃষ্টিকারি বাঁশের পাটা, নেট উচ্ছেদ অভিযানে নেমেছেন। এছাড়া গত এক সপ্তাহ ধরে উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে নদীতে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টিকারি পাটা ও নেট অপসারনের জন্য মাইকিং করা হলেও তার কোন সুফল লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। গত শনিবারও দিনভর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারি কমিশনার ভূমি মো. কবীর হোসেন নিজে হরিহর নদী থেকে একাধিক পাটা উচ্ছেদ করেছেন।

সহকারি কমিশনার ভূমি মো. কবীর হোসেন জানান, উচ্ছেদ অভিযানে নদীর তলদেশ থেকে তিন স্তরে বাঁশের বেড়া, পলিথিন ও ঘনচট জাল ব্যবস্থার করে ৯টি স্থানে কমপক্ষে ৪ ফুট পানি আটকে রাখে। এক একটি স্থানে কমপক্ষে এক ট্রাক করে সরঞ্জাম ব্যবহার করে এই মাছ মারার ফাঁদ তৈরি করা হয়েছিল।

তিনি আরও জানান, এলাকাবাসীর সহযোগীতায় বুড়িভদ্রা নদির ৬টি সহ মোট ৯টি স্থানকে দখল মুক্ত করা হয়। কেশবপুর থানায় মশিউর রহমানসহ অবৈধ দখলদারদের নামে মামলা করার প্রস্তুতি চলছিল। তাছাড়া নদের প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে দখল মুক্ত অভিযান অব্যহত থাকবে।

স্থানীয় এমপি জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক’র কাছে ভুক্তভোগি জলাবদ্ধ এলাকার নাগরিকদের দাবি, হরিহরনদীর বালিয়াডাঙ্গা হয়ে কেশবপুর শহর পর্যন্ত ড্রেজার মেশিন দিয়ে পলি অপসারনসহ প্রভাবশালীদের অপরিকল্পিত মাছের ঘেরের বেড়ি উচ্ছেদ করতে পারলে দ্রুত পানি নিস্কাশন করা সম্ভব হবে। বর্তমানে নদীতে যে ভাবে উজানের পানির চাপ রয়েছে ২/১ দিনের মধ্যে কেশবপুর শহরের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে যাবে।

"