ঘটনাস্থল মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া বাজার

অটোচালক-পুলিশ সংঘর্ষে মহাসড়ক রণক্ষেত্র, সাংবাদিকসহ আহত ৪০

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০১৭, ০০:০০

শারফুদ্দীন কাশ্মীর, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সিএনজি অটোরিকশাচালকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে পুলিশ, সাংবাদিকসহ কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়েছে। পুলিশের টোকেন বাণিজ্য এবং খইয়াছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহেদ ইকবালকে লাঞ্ছনার প্রতিবাদের অটোরিকণাচালকরা গতকাল শনিবার মহাসড়ক অবরোধ করে। অবরোধ সরিয়ে দেওয়ার জন্য পুলিশ চালকদের ওপর লাঠিচার্জ করলে গতকাল বিকাল সাড়ে ৫টায় উপজেলার বড়তাকিয়া বাজার এলাকায় ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ ৩ রাউন্ড গুলি চালায়। পরে মিরসরাইয়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়া আহমেদ সুমন ঘটনাস্থলে গিয়ে চালক ও চেয়ারম্যান জাহেদ ইকবালের সাথে কথা বলে সন্ধ্যা ৭টায় মহাসড়ক থেকে অবরোধ সরানোর ব্যবস্থা করেন। পুলিশের লাঠিচার্জ ও চালকদের ইটপাটকেলে আহতরা হলেন, সমকাল মিরসরাই প্রতিনিধি বিপুল দাশ, মিরসরাই থানার এএসআই জহির, কনস্টেবল মেহেরাবরু। চালক ও পথচারীদের মধ্যে রয়েছে আবু সাঈদ, বেলাল, সৈকত, পাভেল, ফজলুল, তাজুল, মুনসুর, গিয়াস উদ্দিন, দেলোয়ার, সবুজ, নুর উদ্দিন, আরাফাত, মাহবুবুল হক, আজাদ, সাকিব, করিম, নুরল নবী, আশরাফ, সাইফুলসহ কমপক্ষে ৪০ জন। আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানা গেছে। শরীফ উদ্দিন নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, গতকাল বড়তাকিয়া বাজার থেকে বিকাল সাড়ে ৩টায় একটি অটোরিকশা নিয়ে খইয়াছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহেদ ইকবাল একটি জানাজায় যাচ্ছিলেন। এ সময় চৌধুরী হাট হাইওয়ে পুলিশের এএসআই জাকির ওই অটোরিকশাটি আটক করেন। জাহেদ ইকবাল নিজের পরিচয় দিয়ে অটোরিকশাটি ছাড়ার অনুরোধ করলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা চেয়ারম্যানকে গালিগালাজ করে অটোরিকশাটি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এ খবর বড়তাকিয়া বাজারের অটোরিকশা স্ট্যান্ডে পৌঁছলে চালকরা শত শত অটোরিকশা রেখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় চেয়ারম্যান জাহেদ ইকবাল পুলিশের চাঁদাবাজি ও তাকে অপমানে প্রতিবাদে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অবরোধ ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানান, অবরোধের খবর পেয়ে বিকাল ৫টায় মিরসরাই থানার ওসি (তদন্ত) জাকির হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১০ মিনিটের মধ্যে অবরোধ তুলে নিতে সময় দেন। কিন্তু তার আগে পুলিশ চালকদের ওপর লাঠিচার্জ শুরু করলে চালকদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে স্থানীয় লোকজন। একপর্যায়ে ইটের আঘাত থেকে রক্ষা পেতে চার পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিক বিপুল দাশ বাজারের একটি দোকানে আশ্রয় নিলে বৃষ্টির মতো সেখানে ইটের টুকরো ছুড়ে মারা হয়। এ সময় চালকদের ওপর পুলিশ ৩ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। কিন্তু পুলিশের গুলি শেষ হয়ে গেলে চালক ও স্থানীয়রা দোকানে ঢুকে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এদিকে সংঘর্ষ ও অবরোধের খবর পেয়ে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়া আহমেদ সুমন ঘটনাস্থলে গিয়ে চেয়ারম্যান জাহেদ ইকবালের সহযোগিতা নিয়ে চালকদের শান্ত করেন। পরে চেয়ারম্যান ও অবরোধকারীদের সাথে বৈঠক করে তাদের দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দিলে সন্ধ্যা ৭টায় অবরোধ তুলে নেয়া হয়। খইয়াছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহেদ ইকবাল জানান, এখন থেকে কোনো অটোরিকশাচালক টাকার বিনিময়ে পুলিশের কোনো টোকেন নেবে না। মহাসড়কে চালকদের হয়রানি বন্ধ করা, টোকেন বাণিজ্য বন্ধ করা, হাইওয়ে পুলিশের এএসআই জাকিরকে প্রত্যাহারসহ তাদের দাবি পূরণের জন্য আগামী ২২ জুলাই পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দাবি আদায় না হলে ২৩ জুলাই থেকে আবার সড়ক অবরোধসহ কর্মসূচি দেওয়া হবে। চৌধুরীহাট হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ এসআই শফিকুর হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন।

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়া আহমেদ সুমন জানান, চালকদের সাথে কথা বলে অবরোধ সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আলাপ-আলোচনা করে বিষয়টির সমাধান করে দেওয়া হবে।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বড়কাকিয়া বাজারে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। মিরসরাই থানা পুলিশ ছাড়াও জোরারগঞ্জ ও সীতাকু- থেকেও পুলিশ আনানো হয়েছে। এএসপি মাহবুবুর রহমান (মিরসরাই সার্কেল) জানান, সংঘর্ষের সময় পুলিশের একটি রাইফেল খোয়া গেছে এবং চারজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশ রাইফেলটি উদ্ধারের চেষ্টা করছে।

"