ভেস্তে যাচ্ছে ৩ কোটি টাকার প্রকল্প

পাউবোর বাঁধ কেটে মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়, হুমকিতে কয়েকশ গ্রাম

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০১৭, ০০:০০

মো. সবুজ হোসেন, নওগাঁ

নওগাঁ সদর উপজেলায় ট্রাক্টরে করে মাটি বহনের কাজে পানি উয়ন্নন বোর্ড (পাউবো) বাঁধের স্লোপ কাটা হয়েছে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে জেলার ৩টি উপজেলার ৬ ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম। উপজেলার শৈলগাছী ইউনিয়নের মকরামপুর গ্রামে ছোট যমুনা নদীর পাঁচটি স্থানে পাউবোর বাঁধের স্লোপ কেটে স্থানীয় প্রভাবশালী এক ব্যক্তি ইটভাটায় বহন করেছেন। তবে পাউবো থেকে নিয়মিত কোনো তদারকি না থাকায় ওই প্রভাবশালী এ সুযোগটি ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

নওগাঁ পাউবো সূত্রে জানা গেছে, আত্রাই ও ছোট যমুনা নদীর আগাম বন্যায় জেলার সদর উপজেলা, রাণীনগর, আত্রাই, মান্দা ও মহাদেবপুর উপজেলার প্রায় ৫৬ হাজার ১০০ হেক্টর এলাকার ফসলি জমির বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হতো। বন্যার পানি জমে থাকায় আমন মৌসুমে ফসলের চাষাবাদ করা সম্ভব হতো না। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে নওগাঁ পোল্ডার-১ উপ-প্রকল্পের আওতায় ১৯৮৬-৮৭ এবং ১৯৯৩-৯৪ সালে ১০৩ কোটি টাকা ব্যায়ে বাঁধ, রাস্তা, রেগুলেটর, সেচ-ইনলেট, ড্রেনেজ স্লুইস, পানি নিয়ন্ত্রণ কাঠামো, ক্রস রেগুলেটর, রোড ব্রিজ, ব্রিক ম্যাট্র্রেসং ও রিভেটমেন্টের প্রতিরক্ষা কাজ করা হয়। সূত্র অনুযায়ী নওগাঁর ঘোষপাড়া থেকে শৈলগাছী বাজার পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার পর্যন্ত বাঁধ নির্মানে ওই সময়ে খরচ হয়েছে ৩ কোটি টাকা।

সদর উপজেলার শৈলগাছী ইউনিয়নের মকরামপুর গ্রামে ছোট যমুনা নদীর পাঁচটি স্থানে পাউবো বাঁধের স্লোপ কেটেছেন স্থানীয় প্রভাবশালী আবুল কালাম আজাদের ছেলে সোহাগ। গত ৩-৪ মাস থেকে ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে ট্রাক্টর করে ইটভাটায় বহন করেছেন। অথচ কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ বাঁধটি পাউবো অফিস থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে অবিস্থত। এ এলাকাটিতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাঁধ কাটা হলেও বিষয়টি এত দিনেও নজরে আসেনি পাউবো কর্তৃপক্ষের। কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে একটা বড় ধরনের ক্ষতি হতে চলেছে নওগাঁবাসীর। নওগাঁর ছোট যমুনা নদীতে যখন পানির চাপ থাকে তখন এলাকাবাসীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। পাঁচটি স্থানে যেভাবে বাঁধের স্লোপ কাটা হয়েছে তাতে সামনের বন্যায় সদর উপজেলার শৈলগাছী, শিকারপুর, দুবলহাটী, হাঁসাইগাড়ী, রাণীনগর উপজেলার মিরাট ও মান্দা উপজেলার কসব ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম হুমকির মধ্যে রয়েছে। একবার যদি বাঁধ ভেঙে যায় তাহলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হবে। এতে করে ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে। তখন এলাকাবাসীদের দূর্ভোগের শেষ থাকবে না। এছাড়া শহরের ঘোষপাড়া থেকে শৈলগাছী বাজার পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার বাঁধের রাস্তার মধ্যে তিন কিলোমিটার রাস্তা থেকে ইট তুলে নিয়ে গেছে। এ ব্যাপারেও কোনো মাথাব্যথা নেই পাউবো কর্তৃপক্ষের।

আত্রাই উপজেলার মির্জাপুর নামক স্থানে গত দুই বছর একই স্থানে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় এখনো স্বাভাবিক হতে পারেনি সেখানকার এলাকাবাসী। ফসলি জমিতে বালুর স্তুপ পরে যাওয়া সেখানে ফসল হচ্ছে না।

দেশের সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লালমনিরহাট, নীলফামারীর, খুলনা ও বগুড়া সহ বিভিন্ন জেলায় যখন বাঁধ ভেঙে বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় মোরার প্রভাবে কক্সবাজারের টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া, চকরিয়া নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে ঘরবাড়ি, ফসল ও গৃহপালিত পশুসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়ে মানববেতর জীবনযাপন করছেন বন্যা কবলিত এলাকার মানুষরা।

স্থানীয় নজিবর, সোবহান, শামছুর, ধনেশ্বরসহ কয়েক জন বলেন, ‘ছোট যমুনা নদীর পাশে ফসলি জমিতে দীর্ঘ দিন থেকে ঈদ-উল-ফিতরের আগ পর্যন্ত মাটি কেটে ইট ভাটায় বহন করা হয়েছে। সোহাগ খুব প্রভাবশালী হওয়ায় কোন কিছু বলার সাহস পায়না এলাকাবাসী। যেভাবে বাঁধের রাস্তা কাটা হয়েছে এবার যদি বন্যা হয় তাহলে কাটা স্থান ভেঙে যাওয়ার আশংকা আছে। আর পাউবো থেকে নিয়মিত কোন তদারকি না হওয়ায় এ সুযোগটি ব্যবহার করেছেন সোহাগ।’

"