দুর্ভোগের নাম সড়ক

প্রকাশ : ২০ জুন ২০১৭, ০০:০০

আকরামুল ইসলাম, সাতক্ষীরা

ঈদে সাতক্ষীরায় ঘরমুখো মানুষের সড়ক-মহাসড়কে দুর্ভোগের অন্ত নেই। নিত্যদিন এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জেলার ২২ লাখ মানুষকে। এই দুর্ভোগের নতুন মাত্রায় যুক্ত হচ্ছে ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঘরে ফেরা মানুষ। রোজা রেখে ক্লান্ত শরীরে দূর-দূরান্ত থেকে আসা বাস থেকে নেমেই নতুন ভোগান্তি পীড়া দিচ্ছে সবাইকে। অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে অনেকেই। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যানবাহনের মালিকরাও। জেলা সদরের প্রধান সড়ক অলিগলিসহ ৭টি উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান প্রধান সড়ক দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই কোনটি রাস্তা, তা বোঝার উপায় থাকে না। এসব মেনে নিয়েই চলাফেরা করতে হয় সাতক্ষীরাবাসীকে। তবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যারা ঈদের সময়টা পরিবার-পরিজনের সঙ্গে কাটাতে গ্রামের বাড়ি ফিরছে, তাদের নতুন করে কষ্টের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে সড়কগুলো। সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কাজী মামুনুর রশিদ থাকেন ঢাকায়। একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করেন। ঈদের জন্য পরিবার নিয়ে এসেছেন নিজ গ্রামে। কিন্তু বাড়ি ফিরতে হয়েছে রাস্তার সঙ্গে অনেকটা যুদ্ধ করে। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময় মিডিয়ার মাধ্যমে সাতক্ষীরার সড়কগুলোর বেহাল অবস্থার কথা জেনেছি। কিন্তু এতটা যে ভয়াবহ, তা জানতাম না। সাতক্ষীরা সদরে পরিবহন থেকে নামার পর আশাশুনি সড়কের দিকে রওনা হতেই দেখলাম রাস্তার কী ভয়ানক পরিস্থিতি!’ জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি আবু আহম্মেদ জানান, রাস্তার কারণে শুধু যে যাত্রীদের ভোগান্তি, তা-ই নয়। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যানবাহনের মালিকরাও। জেলার সব রাস্তার বেহাল দশা। কর্তৃপক্ষকে বার বার বলা সত্ত্বেও সুফল মিলছে না। এটা এক দিনে সৃষ্টি হয়নি। পর্যায়ক্রমে একের পর এক সব রাস্তা নষ্ট হয়ে গেছে। একযোগে সব রাস্তার সংস্কার প্রয়োজন।

সাতক্ষীরার সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দীন বলেন, ‘সাতক্ষীরা সদরের প্রধান সড়কটির অত্যন্ত দুরবস্থা। এটার টেন্ডার হয়েছে। অল্পদিনের মধ্যেই কাজ শুরু হবে এবং ঈদুল আজহার আগেই কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি। এর পাশাপাশি জেলার যেসব সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল, সেগুলোর কিছুটা সংস্কার করা হয়েছে। গত অর্থবছরে তিন কোটি টাকা বাজেট ছিল। ওই টাকায় যেটুকু সম্ভব, সেটুকুই করা হয়েছে। আগামীতে বরাদ্দ পেলে সংস্কার করা হবে।’ তিনি আরো জানান, জেলার মধ্যে ২৫০ কিলোমিটার পাকা রাস্তা রয়েছে। সব রাস্তাই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত। বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

"