পাইকগাছার গড়ইখালী ফকিরশাহ পুকুর সংরক্ষণের দাবি

এক পুকুরের পানিতে প্রাণ বাঁচে লাখো পরিবারের

প্রকাশ : ১৯ জুন ২০১৭, ০০:০০

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি

জেলা শহর খুলনা থেকে পাইকগাছা উপজেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার। আর উপজেলা সদর থেকে গড়ইখালী ইউনিয়ন সদরের দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। ১৭টি গ্রাম নিয়ে গঠিত গড়ইখালী একটি দুর্গম ও নদীবেষ্টিত ইউনিয়ন। ইউনিয়নের এক পাশে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী শিবসা নদী, আরেক পাশে রয়েছে মিনহাজ নদ, আর সর্বশেষ প্রান্তে রয়েছে গাংরখী নদী। ইউনিয়নের সীমান্তজুড়েই রয়েছে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন। যার ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানলেই সর্বপ্রথম আক্রান্ত হয় গড়ইখালীর মানুষ। বর্তমানে এ ইউনিয়নে লোকসংখ্যা ৩০ হাজার। প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় এলাকার মানুষের জীবনমান এখনো তেমন কোনো উন্নতি ঘটেনি। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিদ্যুতায়ন হওয়ায় অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা কিছুটা বাড়লেও এলাকার মানুষের প্রধান সমস্যা সুপেয় পানি। নদীবেষ্টিত ইউনিয়ন হওয়ায়, এ ইউনিয়নের কোথাও কোনো সুপেয় পানির সুব্যবস্থা নেই। শতভাগ নলকূপ ব্যবহারের অনুপোযোগী। লবণ আর আর্সেনিকে ভরা ভূ-গর্ভস্থ পানি। ফলে পুকুর কিংবা বৃষ্টির পানি ধরে রাখায় একমাত্র সুপেয় পানির সুব্যবস্থা।

ইউনিয়নের সদরের অতিপরিচিত একটি গ্রামের নাম ফকিরাবাদ। এ গ্রামের বুকেই প্রায় শত বছর আগে একটি পুকুর খনন করেন আলমশাহ ফকির বংশধররা। শত বছরের পুরনো পুকুরটি এই ইউনিয়নের গড়ইখালী, বাসাখালী, ফকিরাবাদ, আমিরপুর, শান্তা, হুগলারচক, বাইনবাড়িয়া, কানাখালী, পাতড়াবুনিয়া, কুমখালী, বগুড়ারচকসহ পার্শ্ববর্তী, সোলাদানা, লস্কর ও চাঁদখালী ইউনিয়ন এবং কয়রা উপজেলার আমাদী, মহেশ্বরীপুর এবং দাকোপের চতুরখালীসহ আশপাশ এলাকার প্রায় এক লাখ পরিবারের সুপেয় পানির একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে পুকুরটি। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন পিকআপ, নছিমন, করিমন, ইঞ্জিন ভ্যান ও নৌকায় করে পুকুর থেকে পানি নিয়ে যায়। এ ছাড়াও প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে গ্রামের গৃহবধূরা পুকুরের পানি নিয়ে জীবন ধারণ করে। এলাকার হোটেল রেস্তোরাঁর সুপেয় পানির একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে পুকুরটি। এ পুকুরের পানি বিক্রি করে অনেক পরিবার জীবিকা ধারণ করছে।

এ ব্যাপারে গড়ইখালী ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বিশ্বাস জানান, পুকুরটি বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তদারকি করা হয়। পুকুরের পানি ভালো রাখার জন্য মাছ চাষ, হাত-পা ধোয়া এবং গোসল করা নিষেধ রয়েছে। তবে মাঝে মধ্যে অনেক সময় হাঁস এবং গরু-ছাগল পুকুর এরিয়ার মধ্যে ঢুকে পড়ে এবং হাঁস ও গরু-ছাগলের মলমূত্র বৃষ্টির পানিতে পুকুরে নেমে যায়। এতে পানি দূষিত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে এলাকায় সুপেয় পানির একমাত্র মাধ্যম পুকুরের চারপাশে সীমানা প্রাচীর দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। সরকারি সহায়তা জরুরি হয়ে পড়েছে।

পুকুরটি সংরক্ষণের জন্য সরকার এবং সহযোগী সংস্থা এগিয়ে আসবেন এমনটাই প্রত্যাশা করেছেন প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষ।

"