নয় বছরেও চালু হয়নি রামগতি আবহাওয়া অফিস

প্রকাশ : ১৮ জুন ২০১৭, ০০:০০

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

মেঘনা উপকূলীয় এলাকা লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় ভবন নির্মাণের নয় বছরেও চালু হয়নি আবহাওয়া অফিসের কার্যক্রম। এতে দুর্যোগ মুহূর্তে আগাম কোনো বার্তা না পাওয়ায় উপকূলের লাখো বাসিন্দাদের থাকতে হয় নানা শঙ্কায়। দীর্ঘ নয় বছরেও অফিসটি চালু না হওয়ায় এখন মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মেঘনা উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরে বর্তমানে বাস করছেন প্রায় ১৮ লাখ মানুষ। আর নদীকূলে ঝুঁকি নিয়ে বাস করছেন প্রায় আট লাখ মানুষ। এদের মধ্যে মেঘনা নদীতে ৬২ হাজার জেলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। যেকোন দুর্যোগ মুহূর্তে এ অঞ্চলের মানুষ আগাম সতর্কীকরণে বার্তা পেতে সরকার ২০০৮-০৯ অর্থবছরে আবহাওয়া অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল পূর্বাভাস কেন্দ্রটি নির্মাণ করে। রামগতি উপজেলার চর সেকান্তর এলাকায় দেড় একর ভূমির ওপর এক কোটি টাকা ব্যয়ে আবহাওয়া অফিসের এই ভবনটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের নয় বছরেও শুরু হয়নি এর কার্যক্রম। বর্তমানে এ আবহাওয়া অফিসে কর্মরত রয়েছে দুজন আনসার সদস্য। তারাও ঠিকমতো অফিসে থাকেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি ওই অফিসে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি, তবে দরজা-জানালা খোলা ও দিনের বেলায় বাতি জ্বালিয়ে রাখাসহ অফিসের আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে থাকার দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হয়। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবজি চাষও করতে দেখা গেছে স্থানীয়দের। এমন পরিস্থিতিতে এ ভবনটি প্রায় পরিত্যক্ত ও অরক্ষিত হয়ে আছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। এ সুযোগে ভবনটি প্রতিনিয়ত মদ জুয়া ও অসামাজিক কার্যকলাপের আস্তানা হিসেবে বখাটেরা ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

এতে স্কুল কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীরা বিপথগামী হয়ে পড়ছে বলেও জানান তারা। অফিসের কার্যক্রম চালু না হওয়ায় ঘূর্ণিঝড় আইলা, সিডর, নার্গিস ও মোরার মতো দুর্যোগ মুহূর্তে সঠিক সিগন্যাল না পেয়ে চরম আতঙ্কে থাকেন এ উপকূলের লাখো বাসিন্দা।

বহু প্রাণহানি ও বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষায় খুব দ্রুত এ আবহাওয়া অফিসটি চালু হবে এমন প্রত্যাশা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরসহ প্রধানমন্ত্রীর কাছে জোর দাবি জানান এলাকাবাসী। স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, চলমান বাজেট অধিবেশনে আবহাওয়া অফিসের বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে। আর অচিরেই কার্যক্রম শুরু হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

"