তিন যুগ ধরে বন্ধ বরফকল কোটি টাকার সম্পত্তি বেদখল

প্রকাশ : ১৭ জুন ২০১৭, ০০:০০

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

সংস্কার আর অব্যবস্থাপনার কারণে দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে বরগুনার আমতলী উপজেলার একমাত্র বরফকলটি। বন্ধ থাকায় সুযোগে কলটি কোটি টাকা মূল্যের দুই একর সম্পত্তি দখল করে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। উপজেলার মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ীদের কথা বিবেচনা করে সমবায় অফিসের ব্যবস্থাপনায় নির্মিত বরফকলটি বন্ধ হওয়ায় ভোগান্তি পোহাচ্ছেন স্থানীয়রা। 

উপজেলা সমবায় অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপকূলীয় জেলেদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ১৯৭৩ সালে আমতলী পৌরসভার বাসুগী গ্রামে দুই একর জায়গায় পাকা ভবনে বরফকলটি স্থাপন করে ক্রিশ্চিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (সিসিডিবি)। সংস্থাটির আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় প্রতিদিন ১০ টন বরফ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ৬২ অশ্বশক্তির একটি ডিজেলচালিত মোটর ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি। শুরুতে লাভজনক হলেও অজ্ঞাত কারণে মাত্র সাত বছরের মাথায় ১৯৮১ সালে বন্ধ হয়ে যায়। আমতলীতে আর কোনো বরফকল স্থাপিত না হওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে বরফ সংগ্রহ করে মৎস্য প্রক্রিয়াজাত ও বাজারজাত করছেন মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ীরা। বাধ্য হয়ে অনেক সময় কম মূল্যে মাছ বিক্রি করে দিতে হয় তাদের।

সরেজমিন বরফকল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বরফ উৎপাদনের জন্য নির্মিত ৬০০ বর্গফুটের ভবনটির জীর্ণদশা। দরজা জানালার পাল্লা, চৌকাঠ এবং লোহার গ্রিলগুলো স্থানীয় লোকজন খুলে নিয়ে গেছে। বরফ তৈরি মেশিন-মোটর-যন্ত্রপাতি কিছুই নেই, সব চুরি হয়ে গেছে। ভবনের পাশেই পানি সরবরাহের জন্য খননকৃত পুকুরটি মৃতপ্রায়। ভবনটুকু বাদে পুরো জায়গা স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী লোকজন দখল করে গাছ লাগিয়েছে এবং ঘরবাড়ি তুলে বসবাস করছে। স্থানীয় বাজারমূল্যে জবরদখলকৃত জায়গার মূল্য কোটি টাকার ওপরে। সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. কালু মিয়া বলেন, বেদখল হয়ে যাওয়া বরফকলের সম্পত্তি জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধার হওয়া প্রয়োজন।

বরফকলের জায়গা দখল, যন্ত্রপাতি চুরি হয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আজাদুর রহমান বলেন, অবৈধ দখলমুক্ত এবং বরফকলটি চালু করার জন্য বেশ কয়েকবার ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানালেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুশফিকুর রহমান বলেন, এ উপজেলাটি উপকূলীয় হওয়ায় এখানে জেলেদের সংখ্যা বেশি। জেলেদের আহরিত মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য বরফ একান্ত প্রয়োজন। তা ছাড়া এ এলাকায় ছোট-বড় কয়েকটি মৎস্যবন্দর রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনা করে এ এলাকায় বরফকল স্থাপন জরুরি হয়ে পড়েছে। বেদখল হয়ে যাওয়া সম্পত্তিও দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধার করা হবে বলেও তিনি জানান।

"