জমি মালিকদের জিম্মি করে কালিগঙ্গার পাড়ে মাটি বিক্রি

লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা

প্রকাশ : ১৭ জুন ২০১৭, ০০:০০

সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

সিংগাইর উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নের চক পালপাড়া মৌজার কালিগঙ্গা নদী তীরবর্তী ফসলি জমিতে চলছে মাটি কাটার মহোৎসব। জমি মালিকদের জিম্মি করে মাটি বিক্রির ফলে আশপাশের ফসলি জমিসহ চক পালপাড়া গ্রাম ভাঙনের আশঙ্কা করছেন তারা। অভিযোগ আছে, মাটি বিক্রি চক্রের অন্যতম উপজেলার চান্দহর ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা সেলিম রেজার নেতৃত্বে অবৈধভাবে মাটি বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। গত বছর বর্ষার আগে তারা প্রায় এক কিলোমিটার নদী তীরবর্তী ফসলি জমির মাটি বিক্রি করে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কালীগঙ্গা নদীর ভাঙন কবলিত ফতেপুর-বার্তা গ্রামের দক্ষিণে চক পালপাড়া মৌজায় প্রায় ১০ বিঘা ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে পার্শ্ববর্তী নদী তীরবর্তী ফসলি জমিতে চলছে ভেকু লাগিয়ে অবাধে মাটি কাটা।

স্থানীদের অভিযোগ, ফসলি জমি শ্রেণি পরিবর্তন না করে গত বছর চলতি মৌসুমে এ মাটি কাটা চক্রটি প্রায় এক কিলোমিটার নদীতীরবর্তী ফসলি জমির মাটি বিক্রি করে স্থানীয় সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা। ফলে অনেকের জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়। গত বছরের মতো এবারও ওই চক্রটির অন্যতম চান্দহর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও চক পালপাড়া গ্রামের আবদুল কুদ্দুছের পুত্র সেলিম রেজার নেতৃত্বে চলছে অবৈধ মাটি বিক্রির ধুম। গত ১৫ দিন ধরে অব্যাহতভাবে মাটি কাটার ফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন পার্শ্ববর্তী ফসলি জমির মালিকরা। তাদের অভিযোগ, প্রথমে এ চক্রটি জমির মালিকদের মাটি কেনার প্রস্তাব দেয়। তাদের কথা না শুনলে পাশের জমি ঘেঁষে গভীর করে মাটি কেটে নেয়। এতে ফসলি জমি মালিকদের বিপদে পড়তে হয়। ফলে ভাঙনের ভয়ে মাটি বিক্রি করতে বাধ্য হন তারা।

ইতোমধ্যে ওই এলাকার শুকুর মোল্লা, লেলিন মোল্লা, মোবারক ও বখতিয়ারের জমি থেকে মাটি কেটে সাবাড় করা হয়েছে। তাদের পাশের ফসলি জমির মালিক নূরুল ইসলাম, শাহাদাত, একশেদ আলী, লিপন শেখ, আবদুল হালিম ও হারুন মোল্লা আতঙ্কে রয়েছেন। কখন যেন এ মাটি চোরচক্র তাদের জমির দিকে কু-দৃষ্টি দেয়। সেই সঙ্গে ফসলি জমি ভাঙনের আশঙ্কা করছেন তারা।

জমির মালিক আবদুল আলীম বলেন, নদী ভাঙন রোধে বার্তা গ্রামে সরকার বাঁধ দিচ্ছেন আর এ এলাকায় সরকারি দলের নেতাকর্মীরা মাটি কেটে বিক্রি করছেন। দেখার যেন কেউ নেই।

হারুন মোল্লা প্রতিবাদী সুরে বলেন, এলাকায় নেতারা মাটি কেটে বিক্রি করছে। আমার মতো অনেককে চাপ দিচ্ছেন। মরে গেলেও জমি বিক্রি করব না। আল্লাহ যতটুকু রাখে রাখবে।

মাটি কাটার কাজে সংশ্লিষ্ট সুপার ভাইজার মনির হোসেন মিন্টু বলেন, এসব মাটি ট্রলারযোগে নদীপথে জাজিরা-সাপেরচর ইটভাটাগুলোতে বিক্রি করা হয়। নির্বিঘেœ এ মাটির ব্যবসা চালিয়ে যেতে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে অর্থকড়ি দিয়ে ম্যানেজ করতে হয় বলেও একটি সূত্র দাবি করেন।

মাটি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা সেলিম রেজা বলেন, স্থানীয় লোকজন তাদের জমি থেকে মাটি বিক্রি করছেন। আমি এর সঙ্গে জড়িত নই। চান্দহর ইউপি চেয়ারম্যান শওকত হোসেন বাদল বলেন, বৈধভাবে স্থানীয় যুবলীগের সেলিম, হাসান, মিন্টু, নাসির ও রায়হান মাটির ব্যবসা করছেন। তবে শ্রেণি পরিবর্তন ও নদী কমিশনের চেয়ারম্যানের নির্দেশ প্রসঙ্গ তুললে এড়িয়ে যান তিনি।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) এলিনা আক্তার বলেন, এভাবে তো মাটি বিক্রি করতে পারবে না। অবশ্যই অনুমতি নিতে হবে। এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. যুবায়ের বলেন, আইন ভঙ্গ করে যদি মাটি বিক্রি করা হয় তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"