কৃষকদের বঞ্চিত করে ক্ষমতাসীনদের পকেট ভারী

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০১৭, ০০:০০

নড়াইল প্রতিনিধি

নড়াইল সদর ও লোহাগড়া উপজেলায় সরকারি তারিখের প্রায় দুই মাস পরে গম সংগ্রহ অভিযান শুরু হলেও ততদিনে তিন-চতুর্থাংশ কৃষকের গোলায় বিক্রি করার গম নেই। গত ১৮ এপ্রিল থেকে সারা দেশে এই সংগ্রহ শুরু হলেও নড়াইলে শুরু হয়েছে গত সোমবার (১২ জুন) থেকে, চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের তালিকা পেতে দেরি হওয়ায় এ সমস্যা হয়েছে বলে খাদ্য বিভাগের দাবি। অভিযোগ আছে, ক্ষমতাসীন দলের কয়েক ব্যক্তির গুদামে গম দেওয়ার অনৈতিক দাবির কারণে সংগ্রহ অভিযান শুরু করতে দেরি হয়েছে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় মোট ৯৩৮ মেট্রিকটন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। মধ্যে সদরে ৩২৯, লোহাগড়ায় ২৭৫ এবং কালিয়ায় ৩৩৪ মেট্রিক টন। কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি বছরে জেলায় চার হাজার ১২৪ হেক্টর জমিতে গম আবাদ এবং ১২ হাজার ২৪৬ মেট্রিকটন গম উৎপাদন হয়।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জেলার ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী কয়েক নেতা ও বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ম্যানেজ করে কৃষকের (খাতা-কলমে) নামে গম গুদামে সরবরাহ করে থাকেন। বর্তমানে কৃষকের কাছে গম না থাকায় এ মহলটি মাইজপাড়া, মিঠাপুর, বড়দিয়া, লোহাগড়া, রূপগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার আড়ৎদারের কাছ থেকে গম সংগ্রহ করে গুদামে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খাদ্য গুদামের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জেলা আওয়ামী লীগ ও জেলা ছাত্রলীগের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা গুদামে এবার সম্পূর্ণ গম দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ আবদার না মানায় সংগ্রহ অভিযান দেরি হয়েছে।

সদরের মাইজপাড়া ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শোভন সরদার বলেন, গম কৃষক বেশিদিন ঘরে রাখে না, তোলার সঙ্গেই বিক্রি করে দেয়। মাইজপাড়ায় তিন ভাগের একভাগ কৃষকের কাছে এখন গম নেই। অফিস গমচাষির তালিকা চেয়েছে, আমরা দিয়েছি।

‘রাজনৈতিকভাবে কিছু তালিকা’ আসার কথা স্বীকার করে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনোতোষ কুমার মজুমদার জানান, তা বাতিল করে কৃষি বিভাগের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, গম সংগ্রহ শুরু হয়েছে। গত ৮ জুন কৃষি বিভাগ থেকে তালিকা পাওয়া গেছে। খাদ্য সংগ্রহ এবং মনিটরিং কমিটির উপদেষ্টা নড়াইল-২ আসনের এমপি ও জাতীয় কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ হাফিজুর রহমান বলেন, নড়াইলে যে গম চাষ হয়, তা শুকানোর পরই বিক্রি হয়ে যায়। কৃষকের কাছে এখন গম নেই, আছে ফড়িয়াদের কাছে। এসব ফড়িয়ার কাছ থেকেই গম কেনা হবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে স্মারকলিপির মাধ্যমে জানিয়েছি।

"