বাজার উন্নয়নের টাকায় চেয়ারম্যান-নেতাদের শানশওকত

প্রকাশ : ২০ মে ২০১৭, ০০:০০

পিরোজপুর প্রতিনিধি

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলায় বাজার উন্নয়নের বরাদ্দের টাকায় সোহাগদল ইউপি চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতাদের বাড়ি উন্নয়নের অভিযোগ উঠেছে। সিসিআরআইপির আওতায় ৮৬ লাখ টাকার উন্নয়নকাজের মধ্যে ৪৫ লাখ টাকা উপজেলার সোহাগদল ইউপি চেয়ারম্যান ও ঠিকাদার আ. রশিদের নিজের, আত্মীয় স্বজনদের ও স্থানীয় যুবলীগ নেতার বাড়ির আশপাশে ড্রেন তৈরিসহ আত্মসাৎ করেছেন।

জানা যায়, উপজেলার ইন্দেরহাট বাজার উন্নয়নে সিসিআরআইপির আওতায় ৮৬ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয় গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে। চলতি বছর সম্পন্ন হয় ৪১ লাখ টাকার বরাদ্দের কাজ। সামান্য বৃষ্টিতে ইন্দেরহাট বাজারের পরিবহন স্ট্যান্ডসহ খোদ ইউনিয়ন পরিষদের সামনের রাস্তা পানিতে নিমজ্জিত থাকলেও বরাদ্দের ২৭৬ মিটার টপসøাপসহ ড্রেন করা হয়েছে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের ঘরের পাশে, চেয়ারম্যানের আত্মীয়ের বাড়ির মধ্যে ও বাজার থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে চেয়ারম্যানের নিজ বাড়িতে, যা ওই বাড়ির লোকজনেরও বিশেষ উপকারে আসবে না।

অথচ ইন্দেরহাট বাজারের প্রায় চার শতাধিক ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে প্রায় ২০ হাজারের বেশি জনগণের নিত্যদিনের ভোগান্তির এই পরিবহন স্ট্যান্ড ও পরিষদের সামনের পানি সরানোর জন্য কাছেই খাল ও দীঘি থাকা সত্ত্বেও এই বরাদ্দের ড্রেন নেতাদের বাড়ি চলে যাওয়ায় জনগণ ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে ঠিকাদার ও সোহাগদল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুুর রশিদের বিরুদ্ধে।

এ ব্যাপারে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবুল হোসেন জানান, সিসিআরআইপির আওতায় সুরাজ কনস্ট্রাকশন (যার কাজ করছেন আ. রশিদ চেয়ারম্যান ও উজ্জল) সিসি রাস্তা,একটি টিউবওয়েল, দুটি গার্ভের সেট, দুটি স্টল, একটি ওপেন সেট ও একটি টয়লেট, ২৭৬ মিটার টপসøাপসহ ড্রেন, একটি তিন ফুট কালভার্ট বাবদ ৮৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে সিসি রাস্তা, ড্রেন ২৭৬ মিটার ও কালভার্ট বাবদ ৪১ লাখ টাকা বরাদ্দের কাজ করেছেন বাকি কাজের জায়গা না পাওয়ায় কাজ বন্ধ আছে।

এ বিষয়ে পরিবহন শ্রমিকরা বলেন, বৃষ্টি শেষে আমরা স্ট্যান্ডে বসতে পারি না। কারণ পানি জমে থাকে আর কোনো যানবাহন চলাচল করলেই ভিজে যাই। বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, পরিষদের সামনে ও লেজ রোডে (পরিবহন স্ট্যান্ডে) পানি জমে থাকায় চলাচলে খুবই সমস্যা হয়। অথচ চেয়ারম্যান সাহেব বাজার উন্নয়নের নামে ড্রেন করেছেন বাড়িতে।

এ ব্যাপারে সোহাগদল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ঠিকাদার আ. রশিদ বলেন, এলজিইডি থেকে দেওয়া স্কিম অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে বাকি স্থাপনার জায়গা না থাকায় কাজ বন্ধ রয়েছে।

তবে, উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. আবুল হোসেন বলেন, বাজার উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাজার কমিটির চাহিদা অনুযায়ী প্ল্যান করেন ইন্দেরহাট বাজারের সভাপতি ও চেয়ারম্যান আ. রশিদ। তাই তার চাহিদা অনুযায়ী প্ল্যান দেওয়া হয়েছে। বাজারের বাইরে ড্রেন করা হয়েছে ও ইউনিয়নের বাইরে সিসি রাস্তার ব্যাপারে তিনি বলেন, আমি হজে যাওয়ায় এমনটা হয়েছে। বরাদ্দের শতকরা ৬ টাকা ঘুষ বাণিজ্যের ব্যাপারে তিনি বলেন, ঠিকাদারদের এই কথা মিথ্যা, আমি ফাইল আটকিয়ে পয়সা নিই না।

পিরোজপুর জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, দোকানঘর নেই এমন স্থানে বাজার উন্নয়নের বরাদ্দে কোনো কাজ করা যাবে না এবং ইন্দেরহাটে জায়গা না থাকলে বরাদ্দ বাতিল করা হবে, কিন্তু অন্য জায়গায় দেওয়া হবে না।

"