ঠাকুরগাঁওয়ে ভারী বর্ষণে ১৫০ পরিবার পানিবন্দি

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২০, ০০:০০

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

টানা দুই দিনের ভারি বৃষ্টিতে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা এলাকায় ১৫০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এতে দুর্ভোগ বেড়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। এছাড়া পানি বেড়েছে জেলার অন্যান্য নদ-নদীর। গতকাল সোমবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার পূর্ব গোয়ালপাড়া, বসিরপাড়া, মিলননগর, কলেজপাড়া রোড, শাহাপাড়া ও শান্তিনগর এলাকায় এ দৃশ্য দেখা যায়। পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ড রয়েছে। এরমধ্যে ১, ২, ৬, ৯, ১২ নম্বর ওয়ার্ডে ১৫০ টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এদিকে এসব পানিবন্দি পরিবারের মাঝে সরকারিভাবে ত্রাণসহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, পৌরসভা এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। নিয়মিত পরিস্কার না করার কারণেই ড্রেন দিয়ে পানি চলাচল করতে পারছে না। এ কারণে ভারি বৃষ্টির পানি বাড়িতে ঢুকে পড়ে দুর্ভোগে পড়েছে বাসিন্দারা। পূর্ব গোয়ালপাড়া এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, দুই দিনের ভারি বৃষ্টির কারণে এ এলাকার প্রায় ৩০টি পরিবারের বাড়ি ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে করে কেউ ঘরে থাকতে পারছে না। মিলননগর এলাকার বাসিন্দা নাসরিন আক্তার বলেন, পৌরসভা থেকে ড্রেনগুলো পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন না করার কারলেই এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে পৌরবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এদিকে শহরের উপর দিয়ে বয়ে চলা টাঙ্গন নদীরও পানি বেড়েছে। নদীর আশপাশের অনেক বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। অন্যদিকে ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আফতাব হোসেন বলেন, জেলায় ১২শ’ হেক্টর জমিতে আমন ধানের বীজতলা করা হয়েছে। দুই দিনের ভারী বৃষ্টিতে ১২০ হেক্টর জমির বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়াও ভুট্টা, শাক-সবজিসহ বিভিন্ন ফসলও পানিতে তলিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, দুই একদিনের মধ্যে পানি সরে না গেছে বীজতলাসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। এতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিকরা তালিকা প্রণয়নের জন্য কাজ করছে কৃষি কর্মকর্তারা।

ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, নিয়মিত আমাদের কর্মীরা পৌরসভা এলাকার ড্রেন পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করছে। অথব কিছু মানুষ ড্রেনগুলোতে ময়লা ফেলার কারণে পানির গতিপথ বন্ধ হয়ে গেছে। ড্রেনগুলো পরিস্কার করা হবে। সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, পৌরসভা এলাকায় পানিবন্দি ১৫০টি পরিবারের মাঝে ত্রাণসহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। যেকোন দুর্যোগে সরকার অসহায়দের পাশে আছে থাকবে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান, ঠাকুরগাঁওয় জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম।

 

"