মির্জাগঞ্জে পানিভর্তি খালে পুনঃখনন প্রকল্পের তথ্য জানেন না সহঠিকাদার

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২০, ০০:০০

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ২ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করছে কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। কিন্তু তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করতে গিয়ে অনিয়মের আশ্রয়ের নিচ্ছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। পাড়ে রাখা খনের মাটি গড়িয়ে পড়ছে খালে। টানানো হয়নি কাজের প্রকল্পের নাম ও প্রকল্প ব্যয়ের সাইনবোর্ড। পানি ভর্তি খালে খননের নামে চলছে তহবিলের ‘খাল চুরি’।

মির্জাপুরে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) আওতায় প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করছে। বরিশাল ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের (বিডিএমআইডিপি) মাধ্যমে খাল কাটা বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পগুলো হচ্ছে উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের বিশ্বাস বাড়ি ও কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের সিংবাড়ি এলাকায় ২টি খাল। এই দুটি খালের ২ কিলোমিটার নামমাত্র খনন কাজ করে বরাদ্ধকৃত টাকার সিংহভাগ লুটপাট করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান।

নিয়মানুযায়ী খালের দুই পাশের বাঁধ দিয়ে পানি সেচ না করেই এসকেভটর (ভেকু) দিয়ে খাল খনন করছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এর তলদেশে ৭ ফুট গভীর করে মাটি খনন করার কথা থাকলেও সেখানে পানির মধ্যে দায়সারাভাবে খনন কাজ করছেন। কাজে বরাদ্দকৃত টাকা লোপাট করার উদ্দেশেই বর্ষা মৌসুমে এ কাজ শুরু করা হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

সরেজমিনে দেখা যায়, খালের মধ্যে পানি থৈ থৈ করছে। এর মধ্যেই ভেকু দিয়ে হরহামেশা চলছে খাল খননের কাজ। একদিক থেকে মাটি ভেকু দিয়ে এক পাড়ে রাখলে অন্যদিকের পাড় থেকে মাটি খালে নেমে যাচ্ছে। এছাড়াও মাটি খালের পারে না ফেলে ফসলের জমিতে ফেলা হচ্ছে বলে জানান এলাকাবাসী। এতে কৃষকের ফসলের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ।

স্থানীয়রা বলেন, পানির মধ্যে খাল খনন করে কী হবে? সব মাটি ধুয়ে পানিতেই চলে যাবে। এছাড়া খালের মাটি কৃষি জমিতে ফালানোর কারনে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে।

জানতে সহকারী ঠিকাদার লাল মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি জানান, কাজটি পটুয়াখালীর মেসার্স মহিউদ্দিন এন্টারপ্রাইজ পেয়েছে এবং সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজটি করাচ্ছে। প্রকল্প ব্যয় সম্পর্কে আমার জানা নাই।

জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা হলে পটুয়াখালী সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. সৈয়দ সোহেল হোসেনের সঙ্গে। মুঠোফোনে তিনি জানান, কাজের মান খারাপ হলে, আবার করে দেওয়া হবে।

বিএডিসি ক্ষুদ্রসেচ প্রকল্পের পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কায়সার আহমেদ মুন্সী। প্রতিদিনের সংবাদকে তিনি বলেন, খাল খননে অনিয়ম হলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সঠিকভাবে ঠিকাদার কাজ না করলে পুনরায় খালের কাজ করানো হবে।

 

"