হুট করে অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত বিপাকে রাবির শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২০, ০০:০০

রাবি প্রতিনিধি

করোনা সংক্রমণ শুরুর সাড়ে তিন মাসের বেশি সময় ধরে সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি)। গত সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের সভাপতিদের সঙ্গে উপাচার্যের ভার্চুয়াল সভায় অনলাইন ক্লাসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত আসে। অনেকটা তড়িঘড়ি করে গত বৃহস্পতিবার থেকেই অনলাইন ক্লাসে যাওয়ার ঘোষণা দেয় সব বিভাগ। হঠাৎ করে এ ঘোষণা দেওয়াতে বিপাকে পড়ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী।

জানা যায়, চলমান করোনা পরিস্থিতির মাঝামাঝি সময় থেকে শিক্ষাব্যবস্থা সচল রাখার উপায় হিসেবে অনলাইন ক্লাস নিয়ে আলোচনা শুরু হয় সংশ্লিষ্ট মহলে। উন্নত দেশগুলোতে অনেক আগে থেকেই অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থা মানিয়ে নিয়েছে। তবে এ ব্যবস্থা প্রচলনে দেশ কতটা সক্ষম আছে তা নিয়ে সংশয় দেখা যায়। বিশেষ করে ধীরগতির ইন্টারনেট, শিক্ষার্থীদের সবার হাতে স্মার্টফোন থাকার অনিশ্চয়তা, শিক্ষকদের প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতাসহ নানা প্রশ্ন উঠতে থাকে। অপর দিকে প্রান্তিক পরিবার থেকে উঠে আসা শিক্ষার্থীদের হাতে অনলাইনে ক্লাস করার জন্য দরকারি প্রযুক্তি ও উচ্চ দামে ইন্টারনেট ডাটাপ্যাক কেনার সক্ষমতা নাই। তাদেরকে এ ক্লাস বঞ্চিত করার নৈতিক অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অনেকেই। তবে এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িতদের দাবি, অন্তত শুরুটা করতে চান তারা। পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থীদের সুবিধা-অসুবিধার কথা বিবেচনায় রেখে আগাতে চাইছেন তারা।

বাবির সুপ্ত বিহঙ্গ নামের এক শিক্ষার্থী জনান, অনলাইন ক্লাস হবে ভালো কথা। কিন্তু আমি তো আমার স্মার্টফোন বিক্রি করে করোনা কালে পরিবারকে সাপোর্ট দিয়েছি। এখন নতুন করে ফোন কিনবো সে সামর্থ্যও নেই। সেক্ষেত্রে আমি কিভাবে অনলাইন ক্লাসে অংশ নিবো?

মো. কামরুল ইসলাম নামের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান, গ্রামে নেটওয়ার্কের যে অবস্থা তাতে ফেসবুকের একটা পোস্ট দেখতে গেলে বারবার বাফারিং করে। সেখানে অনলাইনে ক্লাস্ত যাদের সমস্যা এরা কি তাহলে ক্লাস করবে না নাকি যাদের নেট স্পিড ভাল শুধু তাদের জন্য অনলাইন ক্লাসের আয়োজন?

এদিকে ক্লাস শুরুর প্রথম দিন বৃহস্পতিবার ৬০-৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি অনুষদের ডিনদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। তবে শুরুর দিনে ক্লাসে ফিরতে পারেনি বেশিরভাগ বিভাগ। আবার ক্লাসের যে উপস্থিতির হার অনুষদের ডিনরা জানিয়েছেন তা নিয়ে ভিন্ন মত আছে সংশ্লিষ্ট অনুষদভুক্ত বিভাগগুলো শিক্ষার্থীদের।

অনলাইন ক্লাসের বিষয়ে জানতে চাইলে রাবি সাদা দলের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য অধ্যাপক ইফতেখারুল আলম মাসউদ বলনে, যদিও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো চাপ ছিলো না, তবু অনেকটা অপরিকল্পিতভাবে অনলাইনে ক্লাস শুরু করা হয়ছে। ক্লাস নিতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে ২০ শতাংশের কম শিক্ষার্থী উপস্থিত হচ্ছে ক্লাসে।

যোগাযোগ করা হলে, শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ বলছে বন্যাকবলিত এলাকায় আছি। কারও নেটওর্য়াক পায় না। অর্থাৎ মানসিক প্রস্তুতি নেওয়ার সময়টাও শিক্ষার্থীরা পায় নায়। আমরা ভবেছেলিাম সরকার ঘোষিত ৬ আগস্টের পর ক্লাস পরীক্ষা শুরু হবে। নূন্যতম একমাস সময় পেলেও হয়তো অর্ধেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির ব্যবস্থা করতে পারতো। বাকিদের বিশ্ববদ্যিালয়ের থেকে সহযোগতিার চিন্তা করা যেতো। এই অবস্থায় একটা হযবরল পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে বলে মনে করছি।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডীন অধ্যাপক ফজলুল হক জানান, প্রাথমিকভাবে ২-১টি ক্লাস নেওয়া হয়েছে। বিভাগগুলো এখনো রুটিন তৈরি করতে পারেনি। রুটিন তৈরি করার জন্য একাডেমিক কমিটির মিটিং হবে। আশা করি, রুটিন অনুযায়ী প্রতিটি বিভাগের ক্লাস শুরু হবে। রাবি শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি সাকিলা খাতুন বলেন, এই মুহূর্তে অনলাইন ক্লাস অবশ্যই ইতিবাচক। তবে সকল শিক্ষার্থীর অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহনের সুবিধা নিশ্চিত করে, তবেই অনলাইনে শিক্ষা র্কাযক্রম শুরু করা দরকার ছিল। প্রস্তুতিহীনভাবে তড়িঘড়ি করে অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন শিক্ষার্থীদের উপর একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক লুৎফর রহমান। জানতে চাইলে এ ব্যাপারে প্রতিদিনের সংবাদকে তিনি বলেন, আমরা শুরুটা করতে চেয়েছি। সেটা হয়েছে। দুই-একদিনের মধ্যে সব বিভাগে অনলাইন ক্লাস শুরু হয়ে যাবে। শিক্ষার্থীদের সমস্যায় কথা বিবেচনায় রেখে উপাচার্য টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করেছেন। কমিটি অনলাইন ক্লাসের খুঁটিনাটি সমস্যা সম্পর্কে প্রশাসনকে অবহিত করলে পরবর্তীতে আবার সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যাবে।

 

"