চাঁদপুরের মতলব উত্তর

ভাষানচরে ৩০ বছরের পুরোনো কাঠেরপুলের স্থানে সেতু দাবি

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২০, ০০:০০

এম এম সাইফুল ইসলাম, মতলব উত্তর (চাঁদপুর)

চাঁদপুরের মতলব উত্তরের এক অবহেলিত জনপদ ফরাজিকান্দি ইউনিয়ন। উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নের মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন। ইউনিয়নের একটি অবহেলিত জনপদের নাম ভাসানচর। ভাষানচর খালের উপর একটি বিশাল কাঠেরপুল রয়েছে। যেটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এটি ওই ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্র্ডে অবস্থিত। যেটি ছোট হলদিয়া ভাষানচর নামে পরিচিত। দ্রুত এ স্থানে সেতু নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের।

জানা গেছে, ভাসানচর বিলে ৫০ একর জমি রয়েছে। এ বিলে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম বিশাল কাঠেরপুল। যেটি প্রায় পঁচিশ-ত্রিশ বছর আগে সরকারি ভাবে তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ওই কাঠের পুলের নাজুক অবস্থা। প্রতিদিন শতশত লোক কাঠেরপুল দিয়ে যাতায়াত করে। বিশেষ করে সরদারকান্দি, ছোট হলদিয়া, ভাষানচর ও উদ্দমদী গ্রামের লোকজন এ পুল দিয়ে যাতায়াত করে। এটি দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লোকজন যাতায়াত করে। এতে প্রায়ই পুলের পাটাতন ভেঙে পথচারীরা দুর্ঘটনার শিকার হন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পুলের বেহাল দশা। পূর্ব পাড় থেকে পশ্চিম পাড় যেতে বুক ধরফর করে ওঠে। কাঠের পুলের পূর্ব পাড়ে অবস্থিত নাউরী আহম্মদীয়া উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক ও মহিলা লীগ নেত্রী তাসলিমা আক্তার আখির বাড়ি। তিনি বলেন, আমার জন্মের আগে এ খালের ওপর কাঠের পুল তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি পুলটির পাটাতন ভেঙে গেছে। তারপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লোকজন যাতায়াত করেন। চারটি গ্রামের লোকজন এ পুল দিয়ে যাতায়াত করে। ছোট হলদিয়া গ্রামের সাদেক আলী বেপারী জানান, প্রায় পঁচিশ বছর আগে প্রাক্তন চেয়ারম্যান সরকারি ভাবে ভাষানচর খালের উপর কাঠেরপুলটি তৈরি করে দেন। সে থেকে মেরামতের আর কোনো খোঁজ খবর নেই। একই গ্রামের শওকত আলী প্রধান ও আলী মিয়া প্রধান জানান, ভাসানচর বিলে ৫০ একর জমির ফসল ঘরে তুলতে এ কাঠের পুল ব্যবহার করতে হয়। পুলের কাঠ ভাঙা ও ফাঁকা থাকায় প্রায় দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। মেঘনা-ধনাগোদা পানি ব্যবস্থাপনা অ্যাসোসিয়েশনের এবং ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্পাদক সরকার আলাউদ্দিন বলেন, আমি সরজমিনে কাঠেরপুল পরিদর্শন করেছি। এ স্থানে একটি ব্রিজ নির্মাণ প্রয়োজন। স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব অ্যাড. মো. নুরুল আমিন রুহুল মহোদয়ের সঙ্গে আলাপ করে ব্রিজের ব্যবস্থা করে দিবো।

চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব অ্যাড. মো. নুরুল আমিন রুহুল বলেন, এ ব্যাপারে আমি অবগত আছি। আশা করি আগস্টে বরাদ্দ আসলে এ খালের ওপর ব্রিজের ব্যবস্থা করা হবে।

 

"