পীরগাছায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২০, ০০:০০

রংপুর ব্যুরো ও পীরগাছা প্রতিনিধি

রংপুরের পীরগাছার কল্যাণী ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুর আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে দলীয় ভাবে এবং পরিষদের লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করছেন ওই ইউনিয়নের সভাপতি সোহরাব হোসেন ও একাধিক ইউপি সদস্য। অভিযোগটি রংপুর বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন দফতরে দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ থেকে জানা গেছে, কল্যাণী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান নুর আলম ২০১৬ সালে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে নানা দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও বিভিন্ন অনিয়মের জড়িয়ে পড়েন। তিনি ইউনিয়নবাসীর স্বাস্থ্যসেবার কথা বলে অ্যাম্বুলেন্স ক্রয়ের জন্য রাস্তার পাশে লাগানো সরকারি গাছ বিক্রি করে ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। ওই টাকায় নতুন এ্যাম্বুলেন্স না কিনে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকায় একটি পুরাতন মাইক্রোবাস ক্রয় করেন, যার খরচ হিসাবে ১০ লাখ টাকা দেখানো হয়। বাকি টাকাও তিনি বিভিন্ন খাতে ভূয়া খরচ দেখিয়ে আতœসাত করেন।

করোনাকালে অসহায় মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ২ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ গ্রহনে তালিকা তৈরিতে অনিয়ম ও উৎকোচ গ্রহন করেন। এদিকে দরিদ্রদের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি দেওয়া ঘর প্রকৃত ব্যক্তিদের না দিয়ে স্বচ্ছলদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে নিয়ে ঘর করে দেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ইউনিয়নে শতভাগ বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য ৪ হাজার একশ পরিবারে কাছ থেকে নির্ধারিত ৬৫০ টাকা পরির্বতে ৪ হাজার টাকা করে গ্রহন করেণ। এমনকি টিআর-কাবিটা, কাবিখা, এডিপি-এলজিএসপির ভূয়া প্রকল্প দেখিয়ে বিপুল পরিমান অর্থ আতœসাত করেন।

অভিযোগ রয়েছে দলের ভাবমুর্ত্তি ক্ষুন্ন করে ও দলীয় নেতাকর্মীদের মতামত গ্রহন না করে নিজের খেয়ালখুশি মত কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। ফলে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ। তার এসব অনিয়ম, দুনীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, নির্যাতন ও অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে ইউনিয়নবাসী।

ওই ইউনিয়নের ভুক্তভোগী বিষনু চন্দ্র বলেন, আমি গরীব মানুষ। অতিকষ্টে সকল প্রক্রিয়া শেষে সেচ কাজে ব্যবহারের জন্য একটি গভীর নলকুপ স্থাপন করে চাষাবাদ করে আসছিলাম। সেচ চলাকালীন সময়ে চেয়ারম্যান তার নিজস্ব পেটোয়া বাহিনী দ্বারা গোলযোগ সৃষ্টি করে সেচ ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে তিনি নিয়মনীতি না মেনে অর্থের বিনিময়ে কাজল ও সুবল নামে দুজনের নামে হস্তান্তর করেন।

এসব বিষয়ে ওই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড সদস্য জালাল উদ্দিন বলেন, চেয়ারম্যানের বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তিনি আমাকেও হুমকি-ধামকিসহ নানা ভাবে হয়রানি করছেন। আমার নামে ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ করে অনাস্থা আনেন। যা তদন্তে মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহরাব হোসেন বলেন, চেয়ারম্যান দলীয় ভাবে নির্বাচিত হলেও তার এসব কর্মকান্ডে দলীয় ভাবমুর্ত্তি নষ্ট হচ্ছে। দল ও জনগণের কথা বিবেচনা করে তার এসব অনিয়ম তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান নুর আলম বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি না বুঝেই অভিযোগ করছেন। তিনি সভাপতির দায়িত্ব কি তাও বোঝেন না।

এ ব্যাপারে পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমীন প্রধান বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে স্থানীয় ভাবে তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন জেলা প্রশাসক বরাবরে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি সেখান থেকেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

"