দশমিনায় দুই শতাধিক গভীর নলকূপ অকেজো

খাবার পানির তীব্র সংকট

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২০, ০০:০০

দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় দুই শতাধিক গভীর নলকুপ অকেজো হয়ে পড়ে আছে। বিশুদ্ধ পানির অভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দূর্গম চরাঞ্চলে বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিশুদ্ধ পানির অভাবে পুকুর ও খালের পানি পান করে ডায়রিয়া পেট ব্যাথাসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন চরাঞ্চলের মানুষ।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী শাহিন আলম জানান, উপজেলায় বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ব্যাবহারসীমা শেষ হওয়ায় উপজেলায় প্রায় দুই শতাধিক গভীর নলকুপ অকেজো হয়ে গেছে, অকেজো হওয়া গভীর নলকূপের মধ্যে অধিকাংশ দুর্গম চরাঞ্চলে। সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে ৪৯টি সরকারি নলকূপ অকেজো হয়ে গেছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন চরবোরহান, চরশাহজালাল, চরহাদী, চরবাঁশবাড়িয়া, পাতারচর ও চরঘূর্ণি এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট চরমে পৌঁছেছে। চর বোরহানের ইউপি চেয়ারম্যান নজির আহমেদ সরদার জানান, বিশুদ্ধ পানির অভাবে চরের মানুষ এখন বাধ্য হয়ে পুকুর, ডোবা অথবা খালের পানি পান করছেন।

আউলিয়াপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি বাহাউদ্দিন লাবু জানান, চরের মানুষের পানি বাহিত রোগ বালাই এখন প্রধান সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা অধিকাংশ রোগী পানি বাহিত রোগে আক্রান্ত। হাজিরহাট কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি কারিবুল ইসলাম জানান, সেবা নিতে আসা চরের মানুষের অধিকাংশই পানি বাহিত রোগে আক্রান্ত। উপজেলা চর উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি কালু মৃধা জানান, বিশুদ্ধ পানি পাওয়া এখন চরের মানুষের কাছে দূর্লভ হয়ে উঠেছে। দূষিত পানি পান করে চরের মানুষ বিভিন্ন রোগ বালাইতে ভুগছে।

দশমিনা হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পানিবাহিত রোগীর সংখ্যা দশমিনা হাসপাতালে বাড়ছে তবে চরাঞ্চলের রোগীরা কমিউনিটি ক্লিনিক গুলোতেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. শাহিন আলম জানান, ক্ষতিগ্রস্থ্য নলকূপের তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

 

"