উল্লাপাড়ায় বাড়ি থেকে গরু বিক্রিতে আগ্রহী খামারিরা

উপজেলার পশুর হাটগুলোতে ক্রেতা ও ব্যাপারীর উপস্থিতি ছিল কম

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২০, ০০:০০

সাহারুল হক সাচ্চু, উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

আসন্ন কোরবানির ঈদের আগে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ৭টি পশুর হাট মিলে ১৯টি হাটবার রয়েছে। এর মধ্যে বড় ৩টি হাট হলো- গ্যাসলাইন পশুর হাট, বড়হর ও বোয়ালিয়া পশুর হাট। পুরো উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৩২ হাজার গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এবারে বেশির ভাগ খামারি তাদের পালিত বড় ষাঁড়গুলো খামার থেকেই বিক্রি করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন বিভিন্ন এলাকার গরু ব্যবসায়ীরা খামারগুলোয় আসতে শুরু করেছেন।

এদিকে গতকাল শুক্রবার উপজেলার গ্যাসলাইন পশুর হাটে কেনাবেচা তেমন দেখা যায়নি। হাটটিতে সাধারণ খদ্দের ও গরু ব্যবসায়ীদের সংখ্যা কম ছিল। এ ছাড়া তুলনামূলক কম গরু উঠেছে হাটে। এ ছাড়া হাটে প্রবেশের সময় স্বাস্থ্যবিধি সচেতনতা নিয়ে হাট কর্তৃপক্ষ বেশ সচেতন ভূমিকা নিয়েছে। মুখে মাস্ক লাগিয়ে সবাইকে হাটে ঢুকতে হচ্ছে।

উল্লাপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, পুরো উপজেলায় ১১ হাজার ৪৩৯টি গো-খামার রয়েছে। এর মধ্যে ৮ হাজার ১৮১টি খামারে ৩২ হাজার ৪৬৫টি ষাঁড়গরু ও ৩ হাজার ২৫৮টি খামারে ১২ হাজার ৩৩৮টি গাভি গরু লালনপালন করা হচ্ছে। উপজেলার ৮ হাজার ১৮১টি খামারে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গরু লালনপালন করা হচ্ছে।

একাধিক গো-খামারি ও গৃহস্থরা জানান, কোরবানির ঈদের সপ্তাহ তিনেক আগে থেকেই গরু কেনাবেচা শুরু হয়। আর সপ্তাহ তিনেক বাদেই কোরবানির ঈদ। এলাকার হাটগুলোয় কেনাবেচায় বিপুল পরিমাণ গরু উঠছে। কেনাবেচায় বেশ ভালোই হচ্ছে বলে জানা যায়। এলাকার গো-খামারি ও গৃহস্থরা জানান, গো-খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় গরু লালনপালনে খরচ বেশি পড়ছে।

উল্লাপাড়া গ্যাসলাইন পশুর হাট এলাকায় বেশ কটি গো-খামার রয়েছে। খামারগুলোয় এবারেও বড়-ছোট মিলে বিপুল ষাঁড় গরু লালনপালন করা হয়েছে। এর মধ্যে বড় খামারগুলোর মালিক হলেন আ. আলীম, আ. মতিন, রিমন হাসান মন্ডল। সদর উল্লাপাড়া ইউনিয়নের নাগরৌহা গ্রামের মো. আলম মিয়া এবারে বড় ধরনের ৪টি ষাঁড় গরু লালনপালন করেছেন। তার খামারে পালিত চারটির মধ্যে দুটি ষাঁড় গরু বিশাল আকারের। তিনি পেশায় একজন কৃষক। এদিকে পংরৌহা গ্রামের মো. রেজাউল মিয়া বড় ধরনের ৫টি ষাঁড় গরু লালনপালন করছেন। তিনি অন্য পেশায় কাজ করলেও প্রতি বছরই কোরবানিন ঈদ সামনে রেখে ষাঁড় গরু লালনপালন করেন। এদের সবারই বক্তব্য গরুগুলো মোটাতাজাকরণে লালনপালনে এবারে খরচ আরো বেশি পড়ছে। খামার থেকেই গরু বিক্রি করছেন ও করবেন। তারা আরো জানান, এবারে দেশেই পালিত গরুগুলো দিয়ে কোরবানির গরু চাহিদা মিটবে। অন্য দেশ থেকে গরু এলে তারা ক্ষতির মুখে পড়বেন। উল্লাপাড়ায় বড় ধরনের তিনটি পশুর হাট রয়েছে। গ্যাসলাইন, বোয়ালিয়া ও বড়হর পশুর হাট। অন্য পশুর হাটগুলোÑ জনতা, গয়হাট্টা, কয়ড়া ও সলঙ্গা হাট। করোনা পরিস্থিতিতে হাটগুলো টানা দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে গরু লালনপালনে খামারিদের প্রশিক্ষণ ও সার্বিক পরামর্শ দেওয়াসহ নানা সহযোগিতা করা হয়ে থাকে। চিকিৎসা সহযোগিতায় ভ্যাকসিনেশন করা হয়।

 

"