গোবিন্দগঞ্জে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

ঘরে বসেই শিশু-কিশোরদের নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২০, ০০:০০

গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

করোনার এই মহামারীকালে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে একটি ক্লাবের কয়েকজন যুবকের কিছু ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এলাকাবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছে। এই ক্লাবের উদ্যোগে সাংবাদিকদের পিপিই প্রদান, কর্মহীন মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণসহ ঘরে বন্দি ঝিমিয়ে পড়া শিশু-কিশোরদের কিছুটা হলেও উজ্জীবিত করতে ঘরে বসেই অনলাইনে ব্যতিক্রমী চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজন করে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

রয়েলস ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানায়, করোনাভাইরাসের কারণে বাংলাদেশ এখন কঠিন সময় অতিবাহিত করছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ কারো মাঝেই নেই স্বস্থির নিঃশ্বাস। বিশেষ করে চরম বিপাকে পড়েছে শিশু-কিশোররা। নেই সেই দূরন্তপনা, নেই কোন উচ্ছাস। তাদের কোমল মন এখন চার দেয়ালের মাঝে বন্দি। ছুটির অপেক্ষায় বিভোর হয়ে থাকা এই বাচ্চারা আর ঘরবন্দি ছুটি চাইছে না। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রয়েলস ক্লাব এইসব শিশু-কিশোরদের কথা চিন্তা করে এবং তাদের মেধা বিকাশের জন্য আয়োজন করেছে ঘরে বসে অনলাইনে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। যেখানে দেশ এবং দেশের বাইর থেকে কোমলমতি শিশু-কিশোররা অংশ গ্রহণ করেছে।

নিয়মানুসারে তিন বিভাগে সাত দিনে মোট ১৪৫টি আঁকা ছবি জমা পড়ে। বিচারকদের বিশ্লেষণ শেষে সেরা দশ জনের হাতে উঠে সনদ, ক্রেস্টসহ বিভিন্ন উপহার। বিচারক হিসেবে ছিলেন টরেন্টোর কালার্স হ্যাপি আর্ট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সোয়াথিকা আনানদান এবং ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ফ্যাকাল্টি ভিজুয়াল আর্টিস্ট বিপুল মল্লিক। শিশু-কিশোরদের একঘেয়ামি দূর করতে চিত্রাঙ্কন হতে পারে আদর্শ পন্থা উল্লেখ করে বিচারক বিপুল মল্লিক বলেন, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন বিশ্লেষণ খুব একটা কঠিন বিষয়। প্রতিযোগিতার কারণে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থান নির্ধারণ করতে হয়েছে। নয়তো আমার কাছে সবাই বিজয়ী।

শাম্মি আক্তার নামে এক অভিভাবক বলেন, আমার ছেলে সালিলুল কবির সাবির শিশু বিভাগে প্রথম হয়েছে। ও প্রথম না হলেও আমার খারাপ লাগত না। কেননা আমি মনে করি, সব কিছুর মাঝে শিক্ষা আছে। করোনাকালে এমন একটি প্রতিযোগিতা শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশে কাজ করবে। এমন আয়োজনের জন্য ক্লাব কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ।

রয়েলস ক্লাবের সভাপতি শামীন ইস্তিয়াক জানান, করোনার শুরু থেকে আমরা অসহায় মানুষের সেবায় কাজ করে যাচ্ছি। ক্লাবের নিজস্ব উদ্যোগসহ বিদ্যানন্দের সঙ্গেও কাজ করছি। শিশু-কিশোররা করোনায় অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। তাদেরকে একটু আনন্দ দেওয়ার জন্য আমাদের এই আয়োজন। যেখানে প্রতিযোগীরা ঘরে বসে চিত্রাঙ্কন করে আমাদের মেইল করে পাঠিয়েছে। অনেক সাড়া পেয়েছি আমরা। আমাদের এই আয়োজন শিশু-কিশোরদের যদি একটুখানি প্রশান্তি দিতে পারে, এতেই আমাদের স্বার্থকতা।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রামকৃষ্ণ বর্মন এই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী, অংশগ্রহনকারী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে সকলের প্রতি শুভ কামনা জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি ঝিলপাড়া রয়েল’স ক্লাবের সফলতাও কামনা করেন।

 

"