ধোবাউড়া-উল্লাপাড়া

খাল-বিলে অবাধে পোনা মাছ নিধন

প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২০, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

বর্ষার পানিতে এখন খাল বিল, নদী-নালা ভরপুর। সেই সুবাধে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে মাছের পোনা। কিছুদিনের মধ্যে মাছগুলো বড় হবে। কিন্তু এরই মধ্যে এক শ্রেণি মৎস শিকারি বেড় ও সূতি জাল দিয়ে অবাধে পোনা মাছ নিধনে ব্যস্ত। তবে বেশীরভাগ জেলে দরিদ্র হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে এসব পোনা মাছ নিধন করছেন।

ধোবাউড়া (ময়মনসিংহ) : টানা বর্ষণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ধোবাউড়া উপজেলার কংশ, নেতাই নদীসহ বিভিন্ন এলাকায় পানিতে ভরপুর।

সরেজমিনে পোড়াকান্দুলিয়া ইউনিয়নের নিদয়া বিলে গিয়ে দেখা যায় জেলেরা বেড় ও সূতি জাল দিয়ে অবাধে পোনা মাছ নিধন করছেন। স্থানীয়রা বর্ষার পানি প্রবেশের সাথে সাথেই মাছ শিকারের ধুম পড়েছে। নদী থেকে খাল বিলে পানি প্রবেশের পথে বেড় ও খড়া জাল দিয়ে ডিমওয়ালা মা মাছ পোনা মাছ নিধন করা হচ্ছে। প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে এই মাছ শিকার। খুব সস্তায় স্থানীয় বাজারগুলো এসব মাছ বিক্রি করা হচ্ছে। উপজেলার পোড়াকান্দুলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা নদী ও বিলে পানি প্রবেশের পথগুলোতে বসানো হয়েছে খড়া জাল। এছাড়া দুই নৌকা এক সঙ্গে করে বেড় জাল দিয়ে পানি ছেঁকে তুলে আনা হচ্ছে ছোট বড় সব ধরনের মাছ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিলে মাছ নিধনের কোন বিধি নিষেধ নেই, যতদিন পানি আছে ততদিন চলবে। মৎস শিকারিদের কাছে বড় বা ছোট বলে কোন মাছ নেই। বর্ষার শুরুতেই স্থানীয় বাজারগুলোতে ছোট মাছ বিক্রি হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছেনা। এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে ইতোমধ্যে অবগত হয়েছি, খুব শীগ্রই মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করা হবে।

উল্লাপাড়া ( সিরাজগঞ্জ ) : সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবাধে বন্যার পানিতে সব জাতের পোনা মাছ ধরা ও বিক্রি চলছে। উপজেলার আটটি ইউনিয়ন এলাকার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন বন্যার পানি। এবারে আগাম বন্যার পানি এসেছে। গত সপ্তাহ দেড়েক হলো মাঠগুলো বন্যার পানিতে তলিয়েছে। বন্যার পানি আরো বাড়ছে। উপজেলার নীচু অঞ্চলের চারটি ইউনিয়নের মাঠগুলো বন্যার পানিতে আগে তলিয়েছে। ইউনিয়ন চারটি হলো- উধুনিয়া, বড় পাঙ্গাসী, মোহনপুর ও বাঙ্গালা ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার মোহনপুর, উধুনিয়া, বড় পাঙ্গাসী, বাঙ্গালা ইউনিয়ন এলাকার বহু লোক এখন এ মাছ ধরা ও বিক্রিতে জড়িত। এর সংখ্যা আরো বাড়ছে বলে জানা যায়। এরা বড় ছোট বাদাই ও বেড় জাল দিয়ে সব ধরণের পোনা মাছ ধরছেন। শনিবার সকালে সদর উল্লাপাড়া ইউনিয়নের গ্রাম্য নাগরৌহা বাজারে তিনজনকে বন্যার পানিতে ধরা পোনা মাছ বিক্রি করতে দেখা গেছে।

উপজেলার বড় পাঙ্গাসী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির লিটন জানান, এরই মধ্যে তিনি ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশদের নজরদারি রাখতে বলেছেন তার ইউনিয়ন এলাকায় বাদাই কিংবা বেড় জালে বন্যার পানিতে পোনা মাছ ধরতে না পারে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার ড. বায়েজিদ আলম বলেন, বন্যার পানিতে সব ধরণের পোনা মাছ ধরা ও বিক্রিতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। প্লাবন ভূমিতে বানার বাধ দিয়ে মাছ আটক ও ধরা বিষয়েও অভিযান চালানো হবে।

 

"