দুশ্চিন্তায় নওগাঁর খামারিরা এখনো আসেননি ব্যাপারীরা

প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২০, ০০:০০

সবুজ হোসেন, নওগাঁ

কোরবানির জন্য পালন করা আড়াই লক্ষাধিক গবাদি পশু নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন নওগাঁর প্রায় ৩১ হাজার খামারি। এখন পর্যন্ত রাজধানীসহ বড়শহরের পশু ব্যবসায়ীদের দেখা না পাওয়া এই বিপাকে পড়েছেন না। শুধু কাঙ্খিক্ষত দাম নয়, বরং লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন তারা। ঈদুল আযহা যত ঘনিয়ে আসছে উদ্বোগ ততই বাড়ছে।

মুসলিম ধর্মাম্বলীদের প্রধানতম উৎসব হলেও কোরবানীর সঙ্গে জড়িয়ে আছে এদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি। প্রতিবছর ঈদুল ফিতরের পরই রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানের ব্যবসায়ীরা নওগাঁর গবাদি পশু কিনে নিয়ে যান। তবে এবার চিত্রটা সম্পূর্ণ উল্টো। কোরবানির এগিয়ে এলেও করোনার কারণে দূরের ব্যবসায়ীরা এখনো যোগাযোগ করেনি এই খামারিদের সাথে।

নওগাঁর বেশ কয়েকটি খামারির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূলত কোরবানী সামনে রেখে সারা বছর গরু, ছাগল লালন-পালনে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে থাকেন তারা। করোনার কারণে এবার পশুগুলো সঠিক মূল্যে বিক্রি করতে না পারলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন। এ কারণে কিছুতেই দুশ্চিন্তামুক্ত হতে পারছে না তারা।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য মতে, নওগাঁ জেলায় এবার ২ লাখ ৭২ হাজার ৫৩টি কোরবানীর পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। যা প্রতিবছরের ন্যায় জেলার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, পার্শ্ববর্তী রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রফতানি করা হয়ে থাকে। এবারো তার ব্যতিক্রম হবে না বলে আশাবাদী প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

নওগাঁর দুবলহাটি গ্রামের খামারি বেনজির আহম্মেদ পলাশ এবারে ২৫টি ষাঁড় প্রস্তুত করেছেন বিক্রির জন্য। যার প্রত্যেকটির বাজার মূল্য ধরা হয়েছে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত। তিনি ১৮ বছর ধরে গরু মোটাতাজাকরণের খামার করছেন। অন্যান্য বছর ঈদুল ফিতরের পরেই দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকাররা তার খামার থেকে গরু নিয়ে যান। কিন্তু এ বছর করোনার কারণে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি কেউ। ফলে কিছুটা শঙ্কায় পড়েছেন তিনি।

একই গ্রামের আরেক খমারি রবিউল ইসলাম বাবুল বলেন, করোনার কারনে মানুষ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। করোনার কারনে বাজারে ক্রেতা মিলবে কিনা বা সঠিক দাম পাবে কিনা তা নিয়ে চিন্তিত তিনি। সদরের মাতাসাগর গ্রামরে খামারি আব্দুল মজিদ এ বছর ২৭টি গরু পালন করেছেন। কিন্তু কোরবানীর হাটে ঠিকমত গরুগুলো নিতে পারবেন কি না, ক্রেতা মিলবে কিনা বা নায্য মূল্য পাবেন কিনা তা নিয়ে চিন্তিত তিনি। সারা বছর গরু লালন-পালনের ব্যয় পাবেন কিনা এ নিয়ে চরম হতাশায় রয়েছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদের (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা ডা. মো. হেলাল উদ্দীন খান। জানতে চাইলে প্রতিদিনের সংবাদকে তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে খামারিদের মাঝে কিছুটা হলেও ভয় সঞ্চার হয়েছে। তবে খামারিরা যাতে পশু বিক্রয়ের জন্য সঠিকভাবে পরিবহন করতে পারে, যাতে কেউ হয়রানির স্বীকার না হয় এ জন্য আমরা প্রশাসনের সঙ্গে সম্মিলিত চেষ্টা করছি। করোনার জন্য আমারা প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করব। জেলার প্রতিটা পশুর হাটে এবার সমাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পশু ক্রয় বিক্রয়ের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

তবে যেখানে রাস্তা ঘাট, গণপরিবহ ও শপিং মলগুলোতেই যেখানে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না, সেখানে পশুরহাটে কি করে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকবেÑ তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। স্থানীয় সামাজিক সংগঠন একুশে পরিষদের সভাপতি ডিএম আবদুল বারী বলেন, ঈদ উপলক্ষে পশুর হাট নয়, বরং সেটি ‘করোনার হাট’ বসবে। যদি পশুর প্রকার ভেদে আলাদা আলাদাভাবে হাট বসানো হয় এবং সর্বনি¤œ ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রাখা হয় তাহলে হয়তো কিছুটা স্বস্তি মিলবে। তবে প্রশাসন যদি কড়া নজরদারী আর হাট ইজারাদারদের সচেতনতা না থাকলে তা করোনা মহামারি বৃদ্ধি পাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

"