ঝালকাঠিতে ১০২৪ পারিবারিক সবজি বাগানের উদ্যোগ

প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২০, ০০:০০

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

ঝালকাঠি জেলার ৩২টি ইউনিয়নের এক হাজার ২৪টি পরিবারকে কালিকাপুর মডেলে (একখন্ড জমিতে কয়েক ধরনের সবজি চাষ) পারিবারিক সবজি বাগান করার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহ জালাল জানান, ঝালকাঠি জেলার সদর উপজেলার ১০ ইউনিয়ন, নলছিটি উপজেলার ১০ ইউনিয়ন, রাজাপুর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে এবং কাঠালিয়া উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে কালিকাপুর মডেলে সবজি চাষের উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি বিভাগ। প্রতিটি ইউনিয়নের ৩২টি পরিবারকে এর আওতায় নেওয়া হবে। আওতাভুক্ত প্রতিটি পরিবার পাবে ১০ ধরনের সবজি বীজ। কৃষক পরিবার তাদের বাড়ির আঙিনায় ৫ বর্গ মিটার যায়গায় ৫টি প্লট করে লতা জাতীয় ও লালশাক, পুঁইশাক, কলমি শাক ইত্যাদি চাষাবাদ করবেন। এই কাজের জন্য কৃষি বিভাগ কৃষক পরিবারকে বেড়া তৈরীর জন্য এক হাজার টাকা, পরিচর্যার জন্য ৫০০ টাকা এবং জৈব-অজৈব সার ক্রয়ের জন্য ৪৩৫ টাকাসহ মোট এক হাজার ৯৫০ টাকা প্রদান করবে। এই অর্থ কৃষকের মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে প্রেরণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী করোনা পরিস্থিতিতে আবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।

তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৩২০টি বাছাইকৃত কৃষক পরিবারের মাঝে বরাদ্দকৃত উপকরণ ও অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। গত সোমবার, ২৯ জুন দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বিতরণ অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সদর ইউএনও রোজি আক্তারের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান খান আরিফুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান মইন তালুকদার, ইসরাত জাহান সোনালী, কৃষি কর্মকর্তা রিফাত সিকদার প্রমুখ।

ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফজলুল হক জানান, সরকার কতৃৃক ঘোষিত করোনা দুর্যোগে যাতে কোন ধরনের খাদ্য ঘাটতি না পড়ে এজন্য সব ধরনের জমিকে চাষাবাদের আওতায় নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই এ নির্দেশনা দেন। সে নির্দেশনা অনুযায়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কালিকাপুর মডেলে পারিবারিক সবজি চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ঝালকাঠি জেলার ৩২টি ইউনিয়নের ১০২৪টি কৃষক পরিবারকে বাছাই করে এর আওতায় নেওয়া হচ্ছে।

 

"