শরণখোলায় দুই মাসে অর্ধশত চুরি রাত জেগে পাহারা এলাকাবাসীর

প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২০, ০০:০০

বাগেরহাট প্রতিনিধি

গত দুই মাসে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও হাটবাজারে অর্ধশতাধিক চুরি সংঘঠিত হয়েছে। গত ২৫ এপ্রিল থেকে ৩ জুন বুধবার পর্যন্ত চোরের দল সিঁধ কেটে টাকা-পয়সা, সোনাদানা থেকে শুরু করে গৃহপালিত গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি, ভ্যান-ইজিবাইক, সোলার প্যানেল, ব্যাটারী এমনকি ঘেরের মাছ পর্যন্ত লুটে নিচ্ছে।

এদিকে, চোরের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় অতিষ্ঠ এলাকাবাসী এখন রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে। এ ব্যাপারে পুলিশের তেমন কোনো তৎপরতা না থাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে মানুষের মধ্যে। উপজেলার চারটি ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সাথে কথা বলে এসব চুরির খবর জানা গেছে। তবে, শরণখোলা থানা পুলিশ বলছে, দু-একটি ছিঁচকে চুরির ঘটনা ঘটলেও এনিয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেনা।

জানা গেছে, খোন্তাকাটা ইউনিয়নের পশ্চিম রাজৈর গ্রামে বুধবার (৩ জুন) রাতে পাঁচ বাড়িতে সিঁধ কেটে চোরেরা স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে। রাত তিনটার দিকে ইউনুচ মোল্লার ঘরে সিঁধ কেটে তার স্ত্রীর গলায় থাকা পাঁচ আনা ওজনের সোনার চেইন ও ১০ হাজার টাকা দামের একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। একই রাতে আলামিন হাওলাদারের ১০ হাজার টাকা দামের মোবাইল ফোন, শামিম হাওলাদারের আট হাজার টাকার মোবাইল ফোন, জাহাঙ্গীর আলম বাচ্চুর বাড়ির জানালার পাশে থাকা ১৫ হাজার টাকা দামের মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। ওই রাতে দুলাল শিকদারের ঘরে সিঁধ কাটার সময় লোকজন টের পাওয়ায় চোরেরা পালিয়ে যায়।

ধানসাগর ইউনিয়নের উত্তর ও দক্ষিণ বাধাল গ্রামে মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে বিপুল হালদারের ৭০ হাজার টাকা দামের অটোভ্যান নিয়ে যায়। এর আগে হানিফ সরদারের বাড়িতে সিঁধ কেটে ১০ হাজার টাকা ও একজোড়া স্বর্ণের কানের দুল, বাশার সরদারের ৩৫ হাজার টাকা দামের মোবাইল, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের রাতে মোস্তফা হাওলাদারের অটোভ্যান ও আলতাফের ইজিবাইকের ব্যাটারী নিয়ে যায় চোরেরা। এছাড়াও আরো পৃথক পৃথক চুরির ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে চুরি হওয়া বাড়ি-ঘরের গৃহকর্তারা জানান, থানায় মামলা করে কোন লাভ হবে না, বরং নিজেদের হয়রানির শিকার হতে হবে এ কারনে কেউ থানায় অভিযোগ করেনা।

শরণখোলা থানার ওসি এসকে আব্দুল্লাহ আল সাইদ বলেন, চুরির বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। ছোটখাটো দু-একটি চুরির খবর শুনেছি। মাদকসহ এসব অপরাধ প্রবনতা ঠেকাতে শীগ্রই এলাকা ভিত্তিক প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হবে।

 

"