তানোরে ভালো নেই মৃৎশিল্পীরা

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২০, ০০:০০

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি

চৈত্র সংক্রান্তি মেলা, বৈশাখী ও ঈদ মেলাও হয়নি, তাই তাদের তৈরি মৃৎশিল্প’র বেচাকেনা হয়নি। যে বেচাকেনার ওপর ভর করে সারা বছরের অন্নের সংস্থান হয়, সে মেলা না হওয়ায় আমরা মোটেও ভালো নেই। করোনায় বাড়িতে বসে বসে চলছে আমাদের দিন। এভাবে বসে থাকলে আর আয়-রোজগার না করলে পথে বসতে হবে। খুব কষ্টে আছি আমরা। দীর্ঘশ্বাস ফেলে কথাগুলো জানান রাজশাহীর তানোর পৌরশহরের হাবিবনগর এলাকার মৃৎশিল্পী উজ্জ্বল পাল। শুধু উজ্জ্বল পাল নয় ওই এলাকার প্রায় ২০টি মৃৎশিল্পী (পাল) পরিবার করোনার প্রভাবে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। এমন চিত্র পুরো উপজেলার মৃৎশিল্পীদের মাঝে বিরাজ করছে। বিশ্বব্যাপী করোনার প্রভাবে যখন জীবনযাত্রা থমকে গেছে, কর্মহীন হয়ে পড়েছে অসংখ্য মানুষ। আর এরমধ্যে নান্দনিক মৃৎশিল্পীরা পড়েছেন বড্ড বিপাকে।

সরেজমিন হাবিবনগর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন মাটির তৈরি সামগ্রী পুড়ানোর চুলা বন্ধ। দু’একটি পরিবার মাটির হাঁড়ি-পাতিলের কাজ করছেন।

এ সময় মাটির কাজ করা মৃৎশিল্পী নন্দ রাণী পাল বলেন, ‘করোনার কারণে তারা কষ্টে আছেন। কয়েক সপ্তাহ আগে পৌরসভা থেকে মাত্র ১০ কেজি চাল পেয়েছি। কিন্তু এতটুকু চালে কি হয়? পাড়া-গ্রাম ও হাট-বাজারে আগের মতো কেনাবেচা নেই। আবার পাইকাররাও হাঁড়ি-পাতিল কিনতে বাড়িতে আসছে না। ধার-দেনা করে কোন মতে চলছি।’

প্রবীণ মৃৎশিল্পী ধীরেন্দ্র নাথ পাল বলেন, ‘খুব কষ্টে আছি এই করোনার মধ্যে। সরকারি বা বেসরকারিভাবে কিছু ঋণ বা অর্থ সহায়তা পেলে আমাদের চলতে সুবিধা হতো। কতদিন এই করোনার মধ্যে দিন কাটাতে হবে তা ঈশ্বরই জানেন!’

শুধু পৌর এলাকার হাবিবনগর নয়। উপজেলার শ্রীখন্ডা ও তানোর হিন্দুপাড়ায়সহ প্রায় অর্ধশতাধিক মৃৎশিল্পী পরিবারে এখন আগের মতো কর্মময় নেই। অনেকেই এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশা বেছে নিয়েছেন। অনেকেই আঁকড়ে ধরে কোন মতে বেঁচে আছেন। এদিকে উপজেলার প্রতীমা তৈরির (কারিগর) মৃৎশিল্পীরাও জানান, করোনার মধ্যে তাদের জীবন চলছে কষ্টের মধ্যে। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তারা।

ইউএনও সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, মৃৎশিল্পীসহ তানোর উপজেলা জুড়েই বিভিন্ন পেশার কর্মহীনদের মাঝে বেশ কয়েক দফা সরকারি ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। তবে অসহায় মৃৎশিল্পীদের মাঝে প্রয়োজনে আবারও ত্রাণ দেওয়ার পাশাপাশি তারা চাইলে স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণেরও ব্যবস্থা করা হবে।

 

"