পীরগঞ্জে বালু উত্তোলন বদলে গেছে নদী মুখ

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২০, ০০:০০

এহতেশাম হাবীব এমরান, পীরগঞ্জ (রংপুর)

রংপুরের পীরগঞ্জে করতোয়া ঘেঁষা ৩০টি গ্রামের অর্ধশতাধিক স্থানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। উপজেলার টুকুরিয়া, বড় আলমপুর, চতরা ও কাবিলপুর ইউনিয়নের এই সবগ্রাম থেকে প্র্রতিদিন শতাধিক মাহিন্দ্র ট্রলি ও ভারি যানবাহনে করে বিক্রি হচ্ছে বালু। এমনকি পরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে করতোয়ার নদীমুখও বদলে যাওয়া অবস্থা হয়েছে।

এদিকে বালু উত্তোলনের ফলে মাসখানি আগে বৃষ্টিপাতে উপজেলার বড় আলমপুর ইউনিয়নের টুংরাদহ ও মাটিয়ালপাড়া গ্রামের মধ্যে অবস্থিত বাঁশের সাকো ভেঙে গেছে। ওই স্থানে এখন নৌকা দিয়ে পাড়াপাড় করছেন স্থানীরা।

জানা যায়, অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলনের ফলে করতোয়ার নদীমুখও বদলে পীরগঞ্জের ভেতর প্রবাহিত হওয়ার অবস্থা হয়। এতে এপ্রিলের শেষের দিকে টুকুরিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ দুর্গাপুর ও বিছনা গ্রামে ১৪৪ ধারা জারি করে পীরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। অন্য স্থানে বালু উত্তোলন বন্ধে মাইকিং করলেও সংঘবদ্ধ কয়েকটি চক্র বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার করতোয়ার কূল ঘেঁষা গ্রামগুলোতে বিরতিহীনভাবে বালু পরিবহন করায় ভাঙ্গছে জমি, পুকুর পাড়, রাস্তা-ঘাট। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে বর্ষা মওসুমে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে অর্ধশতাধিক গ্রামের হাজারো মানুষ। ধুলোবালিতে দুষিত পরিবেশ। অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে এলাকার রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, ফসলী জমি স্থাপনা ধ্বসে নষ্ট হয়ে যাওয়া ছাড়াও নদীর গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে। যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দিনাজপুর-রংপুর জেলাকে বিভক্ত করে পীরগঞ্জ, নবাবগঞ্জ ও ঘোড়াঘাট উপজেলার ধার ঘেঁষে প্রবাহিত করতোয়া নদী। এক সময়ের খর¯্রােতা করতোয়া বর্তমানে শুকিয়ে গেছে। চতরা, বড় আলমপুর কাবিলপুর ও টুকুরিয়া ইউনিয়নের ৩০টি গ্রামের অর্ধশতাধিক স্থানে এবং নদীর ওপারে দিনাজপুর এলাকায় বেশ কয়েকটি স্থানে জোটবদ্ধ হয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

চতরা ইউনিয়নের কুয়েতপুর হামিদপুরের নেংড়ার ঘাটে ৫টি স্থানে শামিম, সুজন, আবু তাহের, বাবু, মজিদ, নজরুল, ছকমল, আব্দুল মজিদসহ ১৬ বালু সন্ত্রাসী জোটবদ্ধ হয়ে একাধিক বোমা মেশিন দিয়ে প্রতিদিন শত শত মাহিন্দ্র ও পাওয়ার ট্রলি বালু বিক্রি করছে। বদনাপাড়ার টোংরার দহ সাবু মেম্বার বালু উত্তোলন করছে। এছাড়াও চক ভেকা, নুনদহ ঘাট, কুমারপুরে বালু উত্তোলনের দৃশ্য দেখা গেছে। টুকুরিয়া ইউনিয়নে জয়ন্তীপুর ঘাট, সুজারকুটি, মোনাইল, কাঁচদহঘাটে সুলতান মাহামুদ, মাহমুদ, আব্দুস সবুর, গোলাম রব্বানী, সোহরাব, রবিউল বালু উত্তোলন ও বিক্রি করে আসছে।

এছাড়াও বড় আলমপুরের বাঁশপুকুরিয়ায় পৃথক ১০টি স্থানে মিজানুর রহমান, সাইফুল ইসলাম ও গোলাম রব্বানীর নেতৃত্বে, কাবিলপুর ইউনিয়নের নিজ কাবিলপুর গ্রামের ৩টি স্থানে জুয়েল, হাসান আলী, আদিল ও বিপু দিবারাত্র বালু উত্তোলন করছে।

অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় তহসীলদারদের সঙ্গে বালু উত্তোলনকারীদের বিশেষ চুক্তি রয়েছে। প্রতিমাসে কর্মকর্তারা বালু উত্তোলনকারিদের কাছে চুক্তির টাকা নেয়। এ জন্য বালু উত্তোলন বন্ধে উপজেলা ভুমি অফিস থেকে কোন ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টিএমএ মমিন বলেন, নির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে অবশ্যই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি আফতাবুজ্জামান আল ইমরান জানান, আমি কিছু দিন হয় যোগদান করেছি।

রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসানের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, বালু উত্তোলনে মাইকিং করা সহ মোবাইল কোর্ট ও নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। দ্রুত আরো আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অবশ্যই করতোয়া থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ করা হবে।

 

"