যমুনার পানি বৃদ্ধিতে প্লাবিত শত শত বিঘা বাদাম খেত

প্রকাশ : ৩০ মে ২০২০, ০০:০০

আরিফ খাঁন, (বেড়া) পাবনা

পাবনার বেড়া উপজেলার যমুনা নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় চরাঞ্চলের শত শত বিঘা বাদাম খেত তলিয়ে গেছে। এসব স্থানে বাদাম চাষিরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তলিয়ে যাওয়া বাদাম তোলার চেষ্টা করছেন। আবার কোনো কোনো স্থানে চাষিরা তলিয়ে যাওয়ার ভয়ে আধা-পাকা বাদামও তুলে ফেলছেন। এতে সব মিলিয়ে বাদাম চাষে মারাত্মক লোকসানের আশঙ্কা করছেন চাষীরা।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় ও কৃষকদের সূত্রে জানা গেছে, বেড়ার চরাঞ্চলে প্রতি বছর প্রচুর বাদামের আবাদ হয়ে থাকে। এবার উপজেলার আটটি ইউনিয়নের ১ হাজার ৩৬০ হেক্টর জমিতে বাদামের আবাদ করা হয়েছে। আর দুই-এক সপ্তাহের মধ্যেই বাদাম কৃষকদের ঘরে উঠার কথা। আবাদ করা বেশির ভাগ জমির বাদাম এখনো পুরোপুুরি পুষ্ট না হয়ে আধাপাকা অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

কৃষকরা জানান, জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু করে প্রায় একমাস ধরে কৃষকরা চরের বালুমিশ্রিত জমিতে বাদাম আবাদ করে থাকেন। আর সেই বাদাম জমি থেকে তোলা শুরু হয় মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে। সাধারণত জুনের শেষ সপ্তাহের মধ্যে সব বাদাম কৃষকের ঘরে উঠে যায়। ভেজা বাদাম ১৮শ’ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা, আর শুকনা বাদাম তিন হাজার থেকে বত্রিশশ’ টাকা দরে বিক্রি হয় বলে জানায় কৃষকরা।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, ঈদের দিন রাতে ভারী বর্ষণের পর থেকে যমুনার পানি দ্রুত বাড়ছে। ফলে চরাঞ্চলের বাদামের খেত তলিয়ে যাচ্ছে। কৃষকরা জানান, তারা ঈদের পর জমি থেকে বাদাম তোলার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই উঠতি বাদাম তলিয়ে যাওয়ায় তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। ঠিক এই সময়েই আবার শ্রমিক সংকটও দেখা দিয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে অনেক স্থানেই চাষিরা পরিবারের নারী ও শিশুসহ সব সদস্যদের নিয়ে ডুবে যাওয়া বাদাম তুলছেন। কিন্তু এভাবে বাদাম তোলার পর অর্ধেক ফলনও পাওয়া যাচ্ছে না। এর ওপর বেশির ভাগ ডুবে যাওয়া জমি থেকে বাদাম তোলা সম্ভবও হচ্ছে না। কোনো কোনো স্থানে আবার ডুবে যাওয়ার ভয়ে শুকনো জমি থেকেও আধাপাকা বাদাম তোলা হচ্ছে।

গতকাল শুক্রবার উপজেলার মাসুমদিয়া, রূপপুর, হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি চরাঞ্চলে গিয়ে দেখা যায় প্রচুর বাদামের খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। সেসব জমি থেকে কৃষক পরিবারের নারী, শিশুসহ সব সদস্য মিলে বাদাম তুলে নৌকায় করে পাড়ে নিয়ে বাদাম ছাড়াচ্ছেন। আবার কোথাও কোথাও তারা জমির পাড়ে শুকনা স্থানে বাদামগাছ থেকে বাদাম ছাড়াচ্ছেন।

রূপপুর ইউনিয়নের দড়িশরীফপুর গ্রামের বাদামচাষি লিয়াকত আলী জানান, তিনি নয় বিঘা জমিতে বাদামের আবাদ করেছিলেন। আর দুই সপ্তাহ জমিতে থাকলেই সব বাদাম পুরোপুরি পুষ্ট হয়ে যেত। কিন্তু যমুনার পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় তার চার বিঘা জমির বাদাম তলিয়ে গেছে। বাকি জমিও তলিয়ে যাওয়ার মুখে রয়েছে। তিনি জানান, তলিয়ে যাওয়া কিছু জমি থেকে তিনি বাদাম তুললেও তাতে এক চতুর্থাংশ বাদামও মিলবে না। তার জমির আশপাশে ৬০ থেকে ৭০ বিঘা বাদাম খেত তলিয়ে গেছে বলে তিনি জানান।

কাজীরহাট লঞ্চঘাটে গিয়ে কথা হয় ঘাটে ভিড়ে থাকা একটি লঞ্চের চালক সাইফুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, এই লঞ্চঘাটের আশেপাশে প্রচুর বাদামের খেত। এসব খেত তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের দুরবস্থা দেখে আমরা লঞ্চের কর্মীরা মিলে গত দু’দিনে প্রচুর বাদাম তুলে দিয়েছি। করোনার কারণে লঞ্চ বন্ধ থাকায় আমরা কৃষকদের সাহায্য করতে পেরেছি।

রুপপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড সদস্য ঠান্টু শেখ জানান, গত বছরের তুলনায় এবছর বাদামের ভালো ফলন হয়েছিল। কিন্তু তিন চারদিন ধরে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় শত শত বিঘা বাদাম ক্ষেত তলিয়ে গেছে। তবে উপজেলার অন্যান্য চরের চেয়ে কাজীরহাট এলাকা নিচু হওয়ায় এখানকার বাদাম চাষিদের বেশি ক্ষতি হয়েছে।

বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশকর আলী বলেন, যমুনায় পানি বাড়ায় বেশ কিছু বাদামের খেত তলিয়ে গেছে। সরেজমিন আমি নিজে গিয়ে তা দেখে এলেও তলিয়ে যাওয়া জমির পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। শিগগিরই তলিয়ে যাওয়া জমির পরিমাণ ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকার ঘোষিত আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

 

"