গোবিন্দগঞ্জে সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অননুমোদিত ট্রাক্টর, বাড়ছে দুঘর্টনা

প্রকাশ : ২২ মে ২০২০, ০০:০০

শামীম রেজা ডাফরুল, গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা)

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সড়ক, মহাসড়ক, আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কগুলোতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শতাধিক যন্ত্রদানব ট্রাক্টর। খেত খামারের হালচাষের এই যন্ত্রটির বেপরোয়া বিচরণে ১টি পৌরসভাসহ ১৭টি ইউনিয়নের সড়কগুলোতে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করছে। বেপরোয়া চালানোর কারণে এসব ট্রাক্টর প্রায়ই দুঘর্টনায় আহত, নিহতের ঘটনা ঘটছে। এ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা সভাসহ বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হলেও প্রশাসন অজ্ঞাত কারনে নিরব রয়েছে।

প্রশাসনের সামনে দিয়েই বেপরোয়া গতিতে বিকট শব্দে মাটি, বালু ও ইট বোঝাই ট্রাক্টর ধুলো উড়িয়ে দ্রুতগতিতে চলছে। উপজেলার সর্বত্র কৃষি জমি থেকে ইটভাটায় ব্যবহারের জন্য মাটিসহ বিভিন্ন কন্সট্রাকশন কাজের বালু, খোয়া, রড, সিমেন্ট নিয়ে ট্রাক্টরগুলো মহাসড়ক, আঞ্চলিক সড়ক ও গ্রামীণ সড়কগুলোর ওপর দিয়ে দিনরাত ছুঁটে চলছে। এছাড়া গোবিন্দগঞ্জ-জয়পুরহাট, গোবিন্দগঞ্জ দিনাজপুর, গোবিন্দগঞ্জ-গাইবান্ধা আঞ্চলিক সড়ক প্রশস্থকরনসহ রংপুর-বগুড়া মহাসড়ক ৪ লেন উন্নীতকরণ কাজের জন্য করতোয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বালু নিয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক ট্রাক ও ট্রাক্টর সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত বেপরোয়া গতিতে বিভিন্ন সড়ক দিয়ে চলাচল করছে। ফলে করতোয়া নদীর বাঁধ ও গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়কসহ আঞ্চলিক সড়ক গুলো ভেঙে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়ছে, সেই সঙ্গে এসব সড়ক দিয়ে স্কুল, কলেজ, মাদ্রারাসাগামী শিক্ষার্থীসহ জনসাধারণকে পায়ে হেটে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ নাগরিক কমিটির আহবায়ক এমএ মতিন মোল্লা বলেন, দেশের নাগরিকের কষ্টার্জিত অর্থে মহাসড়ক, আঞ্চলিক সড়ক ও গ্রামীণ সড়ক পাঁকাকরণ ও মেরামত করা হয়। যাতে নিবিঘেœ গ্রামের মানুষ নিরাপদে চলাচল শেষে বাড়িতে ফিরতে পারে। এছাড়া কৃষি খাতের জন্য আমদানি করা এসব ট্রাক্টর কৃষি খাতে ব্যবহার করার কথা। কিন্তু একশ্রেণির কৃষি কাজের ঘোষণা দিয়ে এসব ট্রাক্টর কিনে তাতে ডালা লাগিয়ে অবৈধভাবে মালামাল বহনের কাজে ব্যবহার করছে। তিনি আরো বলেন, ভয়ংকর যন্ত্রচালিত ট্রাক্টর এসব সড়কে যাতে চলাচল করতে না পারে এর জন্য সরকারের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রশাসন আইন প্রয়োগ করে তা বন্ধ করবে। কিন্তু আমাদের এখানে ঘটছে তার উল্টোটা। এসব অবৈধ ট্রাক্টর প্রশাসনের সামনে দিয়ে অবাধে চলাচল করলেও অজ্ঞাত কারণে তারা নিরব দর্শকের ভুমিকা পালন করছেন। তবে শোনা যায়, প্রতি যন্ত্রদানব ট্রাক্টর থেকে প্রতিমাসে ৫শ’ টাকা করে চাঁদা তোলা হয়। যা দিয়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করা হয়। তাই জনগণের জানমালের নিরাপত্তাসহ পরিবেশ দূষণরোধে সড়কে এসব ট্রাক্টরের চলাচলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ঠ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।

 

"