আক্কেলপুরে বোরোর বাম্পার ফলন

শ্রমিক সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের শঙ্কায় কৃষকরা

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

মওদুদ আহম্মেদ, আক্কেলপুর (জয়পুরহাট)

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও বর্তমান করোনা পরিস্থিতে শ্রমিক সংকট ও আর্থিক লোকসানে আতঙ্কে দিন গুনছেন স্থানীয় কৃষকরা। তারা বলছেন, এবার শ্রমিক সংকট আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ধানের দাম নিয়ে শঙ্কিত কৃষকরা। অপরদিকে রয়েছে কাল বৈশাখীর ভয়। সঠিক সময়ে ধান কাটতে না পারলে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তারা। তাই ধান পাকার সঙ্গে সঙ্গে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন বোরো চাষিরা।

উপজেলার কৃষি অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ১০ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এবার উপজেলার ১০ হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে। এ বছর মাজরা পোকার আক্রমণ বেশি। তা ছাড়া ব্লাস্ট রোগেরও আক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান আবহাওয়া ব্লাস্ট রোগের জন্য অনুকূল থাকায় নার্টিভো, ট্রুপার, ব্লাস্টিন জাতীয় বালাইনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দিচ্ছেন এবং সর্বোপরি বোরো ধানের অবস্থা ভালো বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি অফিস। শ্রমিকরা যাতে নির্বিঘেœ মাঠে যেতে পারে সে জন্য উপজেলা কৃষি অফিস থেকে যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কৃষকরা জানান, এ বছর বোরো মৌসুমে ধান অনেক ভালো হয়েছে। তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যেই ধান কাটা মারাই শুরু হবে পুরোদমে। কিন্তু দুশ্চিন্তা ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া নিয়ে। প্রতি বছর উত্তরের জেলাগুলো থেকে ধান কাটার শ্রমিক আসত। করোনার কারণে এবার শ্রমিক আসা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তবে সরকার বলছেন ধান কাটার শ্রমিক করোনা পরিস্থিতির আওতার বাহিরে থাকবে। যেহেতু ইতোমধ্যে উত্তরের জেলাগুলোতে করোনা সংক্রমিত হয়েছে সেহেতু তাদের আসাটাও কতটা নিরাপদ হবে সে বিষয়ে রয়েছে উৎকণ্ঠা। তারপরও স্বাস্থ্যগত বিষয়ে রয়েছে দারুণ ঝুঁকি।

উপজেলার সোনামুখি ইউনিয়নের কৃষক সাইদুল বলেন, ‘অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর ধানের ফলন খুব ভালো হয়েছে। যেসব শ্রমিক প্রতি বছর আমার ধান কাটা মাড়াই করত তারা এ বছর আসবেন না বলে জানিয়েছেন। তাই ধান কাটা নিয়ে দারুণ দুশ্চিন্তায় দিন পার করছি। তা ছাড়া ধানের দাম নিয়েও একটা উৎকন্ঠা রয়েছে।’

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল-আমিন জানান, বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষকদের নিয়ে চিন্তা করেন প্রতিনিয়ত। তিনি ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছেন বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে ধান কাটার শ্রমিকদের যেতে দিতে হবে এবং তাদের সহযোগিতা করতে হবে। এরই ধারাবাহিকতায় ধান কাটা শ্রমিকরা যাতে নির্বিঘেœ মাঠে যেতে পারে সে জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক ঘোষিত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

 

"