সাতক্ষীরায় প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে ১৪ লাখ টাকার দুধ

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

করোনাভাইরাসের বিরূপ প্রভাব পড়েছে দেশের দুগ্ধপল্লীগুলোতে। দুগ্ধপল্লীখ্যাত সাতক্ষীরার তালা সদরের ঘোষপাড়া এলাকায় নষ্ট হচ্ছে প্রতিদিন ৪৫-৫০ হাজার লিটার দুধ। টাকার হিসেবে প্রতিদিন ১৩-১৪ লাখ টাকার দুধ নষ্ট হচ্ছে বলে জানিয়েছে দুগ্ধ সমিতির নেতারা। এতে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন খামারিরা।

জানা গেছে, সাতক্ষীরার তালা সদরের জেয়ালা, আটারই ও জেয়ালা নলতা এই তিন গ্রামে প্রায় ১২ হাজারের বেশি দুগ্ধ গাভী রয়েছে। খামারির সংখ্যা কয়েকশ। এসব খামার থেকে প্রতিদিন ৫০ হাজার লিটার দুধ উৎপাদন হয়। বেশির ভাগ দুধ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলে যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে করোনার প্রাদুর্ভাবে বিক্রি হচ্ছে না দুধ।

তালা দুগ্ধ সমিতির সভাপতি দিবস চন্দ্র ঘোষ জানান, মিল্ক-ভিটা দৈনিক ৮ হাজার লিটার ও আকিজ ৫০০-৭০০ লিটার দুধ সংগ্রহ করছে। আর বিনেরপোতা সাতক্ষীরা এলাকায় ৪০০ লিটার দুধ নিচ্ছে। সব মিলিয়ে ১০ হাজার লিটার দুধ বিক্রি হচ্ছে খামারিদের। বাকি ৪০ হাজার লিটার দুধ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এসব দুধ সাতক্ষীরা খুলনাসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর মিষ্টান্ন ভান্ডার ও বিভিন্ন বেসরকারি ফার্মে বিক্রি হতো। এলাকায় কিছু দুধ বিক্রি হচ্ছে ৫-১০ টাকা কেজি দরে। বাকি দুধ পুরোটাই নষ্ট। ফলে খামারিরা পড়েছেন বিপাকে। তিনি বলেন, টাকার হিসেবে প্রতিদিন ১৩-১৪ লাখ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন খামারিরা।

জেয়ালা ঘোষপাড়ার খামারি সুভাষ ঘোষ বলেন, দেশের সংকটময় সময়ে আমার প্রতিদিন হাজার লিটার দুধ নষ্ট হচ্ছে। কিছু দুধ ১০ টাকা কেজি দরে এলাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাকি দুধ ফেলে দিতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকার এই দুর্যোগকালীন সময়ে যদি এই দুধ সংগ্রহ করে গুড়া দুধ তৈরি করে ত্রাণ হিসেবে দিত তবে খামারিরা ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেত।

দুগ্ধ খামারিদের বিষয়ে জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল জানান, জেলায় শিশু খাদ্যের যে বরাদ্দ এসেছে সেটি দিয়ে ইতোমধ্যে জেলার খামারিদের কাছ থেকে দুধ ক্রয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মিল্কভিটার মাধ্যমে এই দুধ সংগ্রহ করা হবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে মিল্কভিটার চেয়ারম্যানকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। বলা হয়েছে শিশু খাদ্যের জন্য যে দুধ প্রয়োজন সেটি যেন সাতক্ষীরা জেলা থেকে নেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীও বিষয়টিতে সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন বলে জানান জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল।

 

"