সুন্দরবনে মাছ ধরা বন্ধ পরিবার নিয়ে বিপাকে জেলেরা

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

মজিবার রহমান, কয়রা (খুলনা)

সম্প্রতি সুন্দরবনে চর পাটা ও ঝাঁকি জাল দিয়ে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়েছে। বলা হয়েছে সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে বিষ দিয়ে মাছ শিকার রোধ এবং মাছের নিরাপদ প্রজনন ও সংরক্ষণ করতেই এই নিষেধাজ্ঞা। পশ্চিম সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. আবু সালেহ এই তথ্য জানিয়েছেন। তবে সুন্দরবন খুলনা সার্কেলের (সিএফ) মইনুদ্দীন খানের নির্দেশে পারমিট বন্ধ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বনবিভাগ। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত জেলে বাওয়ালীরা নিরাপদে সুন্দরবনে মাছ ধরতে পারলেও সেটি বন্ধ থাকায় তারা পড়েছেন মানবিক বিপর্যয়ে। অবিলম্বে পারমিট চালু করার দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

তবে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানার পর থেকে জেলেদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তারা আশায় বুক বেঁধে বসে আছে যেকোনো মুহূর্তে পারমিট চালু হবে। মৎস্য ব্যবসায়ী জামাল মোড়ল বলেন, মানবিক বিষয়টি বিবেচনা করে পারমিট জরুরি ভিত্তিতে চালু করা প্রয়োজন। সুন্দরবনের খুব কাছের জনপদ কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের পাথরখালী গ্রামের জেলে কামরুল ইসলাম (৩০) বলেন, ‘সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরে খারাপ লোকরা, আমরা বন বিভাগ থেকে অনুমতি নিয়ে মাছ ধরি পেটের দায়ে। এটা করেই আমাদের সংসার চলে, এটাই আমাদের পেট মজুরি। শুনছি আর মাছ ধরতে পারব না, এখন তো না খেয়ে মারা যাব।’

সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে মাছ ধরে পরিবারের জীবিকা চালান এমন আরো অনেকের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, ‘ফরেস্ট অফিস থেকে পাশ পারমিট নিয়ে ১২ মাসই নদীতে মাছ ধরি। বর্তমানে মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে। আগামীতে আরো বেশ কিছু দিন মাছ ধরা বন্ধ থাকলে কী করে খাব, কীভাবে সংসার চলবে। এর ওপর নির্ভর করে সুন্দরবনে হাজার হাজার জেলে পরিবার জীবিকা নির্ভর করে। পাস পারমিট বন্ধ থাকায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ সময় তারা সরকারের কাছে পাস পারমিট চালু রাখার দাবি জানান।

কয়রা উপজেলার সুন্দরবনের মৎস্য ব্যবসায়ী আবু সাঈদ মোল্যা বলেন, সম্প্রতি বন বিভাগ থেকে পাটা ও ঝাঁকি জালের পারমিট বন্ধ করা হয়েছে। যে কারণে বন্ধ করা হয়েছে সেটি অবাস্তব। পাটা ও ঝাঁকি জাল দিয়ে মাছ ধরার সময় কোনো জেলে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরে না। মূলত পাটা জাল দিয়ে সাদা মাছ ধরা হয়। আর সাদা মাছ মারতে বিষ প্রয়োগের প্রশ্নই উঠে না। বন বিভাগের নিয়ম মেনেই জেলেরা পাটা ও ঝাঁকি জাল দিয়ে মাছ ধরে থাকে।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের (ডিএফও) মো. বশিরুল-আল মামুন বলেন, পাটা ও ঝাঁকি জালের পারমিট চালুর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

 

"