পরিবার নিয়ে বিপাকে সাঁথিয়ার তাঁত শ্রমিকরা

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার সাঁথিয়ায় বন্ধ রয়েছে সব তাঁত কারখানা। তাঁতপল্লীতে এখন সুনশান নীরবতা। কর্মহীন হয়ে পড়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার তাঁত শ্রমিকসহ মালিকরা। পরিবার পরিজন নিয়ে অর্ধাহারে দিনানিপাত করতে হচ্ছে তাদের। এমতাবস্থায় সরকারি সহযোগিতা চান তারা।

তাঁতিরা জানান, মহামারি করোনার কারণে কারখানা বন্ধ ঘোষণার ২১ দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারি কোনো ত্রাণ সহায়তা পাননি কেউ। অপরদিকে হাট-বাজার বন্ধ থাকায় উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে পারছেন না কেউ। ফলে তাঁত মালিকরা শ্রমিকদের বেতন দিতে পারছেন না। অপরদিকে ব্যাংক ঋণ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন তাঁতিরা।

সরেজমিন উপজেলার তাঁত সমৃদ্ধ পিপুলিয়া, শশদিয়া, ফকিরপাড়া, ছেচানিয়া, করমজা, ধুলাউড়ি, ঘুঘুদহ, তেতুলিয়া নারিন্দা, পাবনার জালালপুর নতুনপাড়া, একদন্ত, চাচকিয়া ও দোগাছি গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে যেসব তাঁতপল্লীতে খটখটি শব্দে মুখরিত ছিল। হঠাৎ করোনার প্রভাবে তাঁতিপাড়া এখন নীরব নিস্তব্ধ। বছরের সবচেয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তাঁতিরা।

সাঁথিয়ার নজরুল ইসলাম নজু নামের এক প্রবীণ তাঁত শ্রমিক জানান, আজ তিন সপ্তাহ আমাদের কোনো কাজকর্ম নেই। মহাজন কাপড় বিক্রি না করলে টাকা দিতে পারবে না। ঘরে খাবার নেই, পরিবার পরিজন নিয়ে না খেয়ে চলতে পারছি না।

সাঁথিয়ার খ্যাতনামা তাঁত ব্যবসায়ী আলহাজ ইন্তাজ আলী মল্লিক বলেন, আমার প্রায় শতাধিক তাঁত রয়েছে। এখানে নারী-পুরুষ মিলে প্রায় ২৫০ শ্রমিক কাজ করেন। এক মাস হতে চলল কারখানা বন্ধ রয়েছে। হাটবাজারও বন্ধ। উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে পারছি না।

পিপুলিয়া গ্রামের তাঁতি দেলোয়ার হোসেন জানান, তাঁতের উৎপাদিত লুঙ্গি বিক্রি করতে পারছি না। ব্যাংকের কিস্তির টাকা দিতে পারছি না। ভিটেমাটি বিক্রি করে ঋণের টাকা দিতে হবে।

সাঁথিয়া বেসিক সেন্টারের লিয়াজোঁ অফিসার শ্রী জুয়েল চন্দ্র বলেন, তাঁতবোর্ড থেকে তালিকা চেয়েছেন। আমরা সমিতির মাধ্যমে অসহায় তাঁতি ও তাঁত শ্রমিকের তালিকা তৈরি করছি। খুব দ্রুত এগুলো পাঠিয়ে দিব বোর্ডে। এর আগে ইউএনওর নিকট একটি তালিকা জমা দিয়েছি। এখন পর্যন্ত কোনো সাহায্য সহযোগিতা আসেনি বলে জানান তিনি। সাঁথিয়া পৌর মেয়র মিরাজুল ইসলাম বলেন, পৌরসভার বেশ কিছু জায়গায় তাঁতিদের আমরা ত্রাণ দিয়েছি। আরো কয়েকশ তাঁতি পরিবারকে ত্রাণসহায়তা দেওয়ার উদ্যাগ নেওয়া হয়েছে।

ইউএনও এস এম জামাল আহম্মেদ জানান, সরকারের পক্ষ থেকে যে ত্রাণ এসেছিল তা বিভিন্ন উপজেলায় চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে অসহায়দের মাঝে বণ্টন করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে সবাইকে দেওয়া হবে। তাঁত মালিকদের ঋণের সুদ মওকুফের জন্য সুপারিশ করা হবে বলেও জানান তিনি।

 

"