বোরো নিয়ে বিপাকে দিনাজপুরের কৃষকরা

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

দিনাজপুর প্রতিনিধি

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়েছে বোরো ধান আবাদে। জমিতে শত শত একর পাকা ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন দিনাজপুর জেলার কৃষকরা। শ্রমিক এবং ধান কাটার মেশিন সংকটে পড়েছেন তারা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ধান কাটতে না পারলে হঠাৎ বন্যায় ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এ বিষয়ে সরকারের প্রতি জরুরিভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট জেলার কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, দেশের মোট বোরো ফসলের প্রায় ১২ শতাংশ আসে দিনাজপুর জেলা থেকে। গত দুই বছর অকাল বন্যায় কৃষকরা বোরো ধান ঘরে উঠাতে পারেননি। এতে এক ফসলি জমির ওপর নির্ভরশীল কয়েক হাজার পরিবার নিঃস্ব হয়ে যায়। এবার চড়া সুধে ঋণ নিয়ে আবার সেই জমিতে আবাদ করেন তারা।

এবার যদি ফসল ঘরে উঠাতে না পারেন তবে জমি বিক্রি করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না বলে জানান কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, বোরো ফসল উঠিয়েই ধান বিক্রি করে ধান কাটার শ্রমিক, মাড়াই এবং ঋণ পরিশোধ করতে হয়। এবার করোনার কারণে ধানের দাম আরো কমে যাওয়ার শঙ্কা করছেন তারা। এমনটা যদি হয়, তবে কৃষকরা এবারও ঋণের বোঝা কমাতে পারবেন না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র মতে, দেশের খাদ্য সরবরাহের বড় অংশটি নিশ্চিত হয় বোরো ধানের মাধ্যমে। সরকারি গুদামে মজুদের মূল অংশটিও নির্ভর করে এ ফসল থেকে। এবার বোরোতে ২ কোটি টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে মূলত বোরো কাটা শুরু হলেও এবার এখনো পুরোদমে শুরু করা যায়নি। এবার করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হতে পারে। বিরলের একটি গ্রামে প্রায় ২ হাজার মণের ফসল করেছেন আফসার। তিনি জানান, পুরো ধান কাটতে আমার প্রয়োজন ৪০ জন শ্রমিক। কিন্তু এখন পর্যন্ত ১২ জনকে ম্যানেজ করতে পেরেছি। ইতোমধ্যে বিআর ২৮ ধান পেকে গেছে।

এক সপ্তাহ মধ্যে এ ধান না কাটতে না পারলে ধান নষ্ট হয়ে যাবে। বাকি জাতের ধান আগামী ১০ দিনের মধ্যে কেটে শেষ করতে হবে। না হয় হাওরে পানি চলে আসবে। এখন কী করব বুঝে উঠতে পারছি না।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র মতে, কৃষি যন্ত্রপাতি কেনার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ১০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এই টাকায় রিপার ও হারভেস্টার মেশিন কেনা হয়েছে।

 

"