মাগুরায় বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

মো. আইয়ুব হোসেন খান, মাগুরা

মাগুরা জেলার চারটি উপেজলায় বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। যতই দিন গড়াচ্ছে, ততই যেন নিচে চলে যাচ্ছে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর। অকেজো হয়েছে জেলার ২০ হাজারেরও বেশি টিউবওয়েল। এসব টিউবওয়েলে পর্যাপ্ত পানি না উঠায় চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন জেলার কমপক্ষে ২৫ হাজারেরও বেশি পরিবার। প্রচ- খরতাপ, ভ্যাপসা গরম ও পানি সংকটে নেমে এসেছে অসহনীয় দুর্ভোগ। এর মধ্যে শ্রীপুর উপজেলায় বেশি সমস্যা দেখা দিয়েছে।

মাগুরা জেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, টিউবয়েলে পানি না উঠার কারণে পুকুরের পানি দিয়েই চলছে হাজারও মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রম। হঠাৎ দু-একটি বাড়িতে তারাপাম্প টিউবয়েল থাকলেও সেখানে একটু পানি নেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনে উপচে পড়া ভিড় জমাচ্ছেন গৃহবধূরা। সামর্থ্যবান অনেকে আবার টিউবয়েলে পানি না পেয়ে সাব-মারসিবল পাম্পের মাধ্যমে পানি তোলার ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু সেখানেও সমস্যা দেখা দিয়েছে, পানি উঠছে না ।

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার ঘাসিয়াড়া গ্রামের আমজেদ, তাহাজ্জত, শাজাহান, দুলাল, মুক্তার, মকিদুল ইসলাম, ভোলা, ভ্যানচালক লাল চান ও কৃষক বক্করসহ অন্যরা জানান, পানির অপর নাম জীবন, সেই জীবনের ব্যবস্থা সরকারকে করতে হবে। তা না হলে আমরা অল্প আয়ের মানুষ কেমন করে বাঁচব? আমাদের তো তারাপাম্প টিউবয়েল বসানোর টাকা নেই।

শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নাকোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমাউনুর রশীদ মুহিত জানান, গয়েশপুর, আমলসার, শ্রীকোল, শ্রীপুর, দ্বারিয়াপুর, কাদিরপাড়া, সব্দালপুর ও নাকোল এই আটটি ইউনিয়ন নিয়ে শ্রীপুর উপজেলা গঠিত। কমবেশি সব কয়েকটি ইউনিয়নেই বিশুদ্ধ খাবার পানির সমস্যা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা প্রায় প্রতিদিনই নলকূপ থেকে পানি উঠানোর জন্য নতুন করে মাটি খোড়াসহ নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। তবুও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। তবে কিছু কিছু এলাকায় সামান্য কয়েকটি তারাপাম্প টিউবওয়েলে পানি উঠলেও হাজারেরও বেশি টিউবওয়েলে একেবারেই পানি উঠছে না। যে কারণে ক্রমান্বয়ে বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এলাকায়। এ ব্যাপারে আমি মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখরের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধানের আশ^াস দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইয়াছিন কবীর বলেন, শ্রীপুর উপজেলার কিছু কিছু এলাকায় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বিষয়টি জনগুরুত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে জনস্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি যাদের বাড়িতে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যা সমাধানের জন্য।

শ্রীপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপসহকারী প্রকৌশলী আবুল হাসনাত কাজল জানান, শ্রীপুর উপজেলার আটটি ইউনিয়নের মধ্যে গয়েশপুর ইউনিয়নে গভীর টিউবয়েল ৫০টি, অগভির ২৭২টি, আমলসার ইউনিয়নে গভীর ৬৮টি, অগভীর ৩৪৮টি, শ্রীকোল ইউনিয়নে গভির ১৪২টি, অগভীর ৪১০টি, শ্রীপুর ইউনিয়নে গভীর ১২৪টি, অগভীর ৩৪৫টি, দ্বারিয়াপুর ইউনিয়নে গভীর ৩২টি, অগভীর ২৮০টি, কাদিরপাড়া ইউনিয়নে গভির ৭৩টি, অগভির ২৭৫টি, সব্দালপুর ইউনিয়নে গভীর ৭৫টি, অগভীর ৩০১টি এবং নাকোল ইউনিয়নে গভীর ৩৭টি ও অগভীর ৩০২টি মোট ৩ হাজার ১৩৪টি সরকারি টিউবয়েল রয়েছে। তবে বেসরকারি টিউবয়েলের সংখ্যা আমাদের জানা নেই। তিনি বলেন, যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান টিউবওয়েল বসানোর আগে তাদের সঙ্গে পরামর্শ করলে শুষ্ক মৌসুমেও পানি পেতেন। তাহলে এখন ভুক্তভোগীদের কি করণীয় প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিভাগের কিছু করণীয় নেই। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা চেষ্টা করলে নতুন করে টিউবওয়েল বসিয়ে এর সমাধান করা সম্ভব।

মাগুরা জেলা অতিরিক্ত জনস্বাস্থ্য নির্বাহী প্রকৌশলী আমিরুল ইসলাম জানান, মাগুরা জেলার চারটি উপজেলার মধ্যে মাগুরা সদর উপজেলায় ৪ হাজার ৯২৫টি, মহম্মদপুর উপজেলায় ৩ হাজার ৫৮৫টি, শালিখা উপজেলায় ৩ হাজার ৭৮টি এবং শ্রীপুর উপজেলায় ৩ হাজার ১৪০টিসহ মোট ১০ হাজার ৩৭৮টি গভীর-অগভীর টিউওবয়েল রয়েছে।

তিনি বলেন, বেসরকারি টিউবয়েলগুলো যথাযথ আইন না মেনে স্থাপন করা হয়েছে, যে কারণে ওইসব টিউওবয়েলে এখন পানি উঠছে না। তবে আমার জানা মতে, সরকারি টিউওবয়েলে পানি উঠছে। এছাড়াও আমাদের মেকানিক্যাল টিম সব সময় ফিল্ডে কাজ করছে। যেসব টিউবওয়েলে সমস্যা দেখা দিচ্ছে তারা সঙ্গে সঙ্গে মেরামত করে পানি উঠার ব্যবস্থা করছে। তবে তার কথার সঙ্গে বাস্তবের মিল পাওয়া যায়নি। সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ সরকারি টিউবওয়েল পানি না উঠার কারণে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

 

"